আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
399 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (8 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহী ওয়াবারকাতুহ। 

দ্বীনি সুরতে আসা শয়তানের ধোকা চিনতে বা বুঝতে  না পেরে আমি অনলাইন এ একজন দ্বীনি ভাইয়ের সাথে কথা বলতাম।চ্যাটিং হতো আমাদের।শুরুতে দ্বীনি আলোচনা, ধীরে অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা। ওই ভাই ক্বওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া একজন ছাত্র। ক্বওমি মাদ্রাসার প্রতি আমার অন্যরকম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে,সেখান থেকে ওই ভাইয়ের প্রতি আগ্রহ। আমি ওই ছেলের সাথে কথা বলতাম ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব ভয় ও পেতাম।বহুবার এমন হয়েছে,আমরা আল্লাহর ভয়ে পরস্পর কথা বলা থেকে বিরত ছিলাম,কিছু মাস পরে পূনরায় আবার দুজনের মাঝে কথা হতো। একটা সময় তিনি জানান,তিনি আমায় পছন্দ করেন আর আমার উনাকে খুব পছন্দ। 

এরপর আমরা কঠিনভাবে সিদ্ধান্ত নেই,আর কোনোদিন একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করবো না হারামভাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা দুজন দুজনকে আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিব।যদি আমার রব্ব আমাদের উভয় কে উভয়ের জন্য কল্যাণকর মনে করেন তাহলে আমাদের বিয়ে সহজ করবেন এবং হালাল একটি বন্ধনে জড়িয়েই আমরা সম্পর্ক রাখবো।এছাড়া আর কেউ কাউকে কখনো নক দিবো না,যোগাযোগ এর চেষ্টা করবো না।আমি তাকে বলি,যদি কখনো আমায় বিয়ের করার ব্যাপারে প্রস্তুত হোন সব দিক থেকে সেদিন আমায় জানাবেন।আল্লাহ চান তো,আমাদের বিয়ে হবে।আবার কথা হবে,হালালভাবে।

ব্যস,প্রায় ৩মাস আমি ওই ভাইয়ের সাথে কোনো যোগাযোগ করিনি,উনিও করেন নি।

আমাদের কৃত ভূল কাজের জন্য লজ্জিত, অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাচ্ছি আল্লাহর নিকট। আমি স্বীকার করছি, যা করেছি,ঠিক করিনি।

সবসময় শুধু আল্লহ কে বলি,

যদি মানুষ টার মাঝে আমার জন্য সবদিক থেকে কল্যাণ থাকে এবং আমার মাঝে তার জন্য,তাহলে উনার সাথে বিয়ে সহজ করুন।অন্যথায়,আমার হৃদয় থেকে উনার প্রতি উদিত অনুভূতি দূর করুন।উনার ফেতনা থেকে আমায় এবং আমার ফিতনা থেকে উনাকে খুব দূরে রাখুন।আর যেখানে কল্যান সেখানেই কবুল করুন।

উল্লেখ্য যে,আমি মনে মনে চাই, লোকটার সাথে আমার বিয়ে হোক।কিন্তু আমি আমার চাওয়ার উপর আল্লাহর ফায়সালাকেই প্রাধান্য দিতে চাই।আর উনার ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালার ই অপেক্ষায় আছি।

 

শাইখ,বর্তমানে বাসায় আমার বিয়ের কথা হচ্ছে।একজন ছেলে,নতুন দ্বীনে ফিরেছেন ওই ভাই,দ্বীন প্র‍্যাক্টিস করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, গ্র‍্যাজুয়েশন কমপ্লিট, বিয়ের জন্য দ্বীনদার মেয়ে চাচ্ছেন।ওই ছেলের মা আমার মায়ের কলিগ। আমি যদি ছেলে কে পছন্দ করে নিজের পজিটিভ মতামত জানাই, তাহলে আল্লাহ চান তো এখানে বিয়ে দিতে মা আপত্তি করবেন না।

 

শাইখ,আমি ভীষণ দ্বিধাদ্বন্দে আছি,

আমি কি সিদ্ধান্ত নিবো?

মাদ্রাসার ওই ভাইয়ের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালা কি কিভাবে বুঝবো? এদিকে বাসায় যে পাত্র এসেছে, তার ব্যাপারে কি মতামত জানাবো?

মাদ্রাসার ওই ভাই আমায় কিছু জানান  নি। আমার সাথে যোগাযোগ ও করেন নি আর।  আমি কি আল্লাহর ফায়সালার জন্য অপেক্ষা করবো বলে,ওই মাদ্রাসার ভাইয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়  বাসায় আসা প্রস্তাব টি ফিরিয়ে দিব? 

নাকি বাসায় আসা প্রস্তাব এ সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলে,এখানেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিব? কিন্তু শাইখ, বাসায় প্রস্তাব আসা ছেলেটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে আমার খুব অপরাধবোধ কাজ করছে।আমি তো মনে মনে অন্য একজন কে চেয়েছি। তিনি তো আমার চেয়ে ও ভালো কোনো মেয়ে ডিজার্ভ করেন।আমার সাথে বিয়ে হলে যে তিনি ঠকে যাবেন।এসব ভেবেও আমি খুব অসহায় ফিল করছি।

আমার কি করনীয় বুঝতে পারছিনা।

এই ব্যাপারে পরামর্শ দেয়ার মতো কেউ নেই আমার,তাই আল্লাহর ভরসায় আইফতোয়ায় বিস্তারিত জানাই,যাতে সম্মানিত মুফতি সাহেব, ছোট বোন ভেবে আমায় একটা কোনো পরামর্শ দেন,ইসলামীক দৃষ্টিকোণ থেকে।

জাযাকাল্লাহু খয়েরাহ।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/4094 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ، فَزِنَا العَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ المَنْطِقُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي، وَالفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ كُلَّهُ وَيُكَذِّبُهُ»
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ বনি আদমের উপর যতটুকু যিনা লিখে রেখেছেন সে তা করবেই; এর থেকে কোন নিস্তার নেই। চোখের যিনা হচ্ছে- দেখা; জিহ্বার যিনা হচ্ছে- কথা, অন্তর কামনা করে ও উত্তেজিত হয় এবং যৌনাঙ্গ সেটাকে বাস্তবায়ন করে অথবা বাস্তবায়ন করে না।(সহীহ বুখারী-৬২৪৩)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি অতীতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
আপনি ইস্তেখারা করুন।ইস্তেখারা করার পর মন যে দিকে সায় দিবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। আমাদের নিকট আপনার জন্য উত্তম মনে হচ্ছে এটাই যে, আপনি বর্তমান প্রস্তাবের ব্যাপারে একটু সিরিয়াস হোন।এ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করুন,এবং খোজখবর নেন। যদি সবদিক থেকে ভালো হয়, তাহলে এই প্রস্তাবে হ্যা বলুন।কেননা এখানে আপনার মা রাজী আছেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...