0 votes
11 views
in পবিত্রতা (Purity) by (11 points)

আজকে ঘুম থেকে উঠে দেখি কাপড়ে দাগ হয়ে আছে অনেকটা জায়গা জুড়ে। কিন্তু এই নাপাক এর জন্য ফরজ গোসল প্রয়োজন কিনা সেটা বুঝতে পারছিনা।

 " ঘুম থেকে যখন উঠেছিলাম তখনো অঙ্গ উত্থিত অবস্থায় ছিল, আর সাদা পানির মত পাতলা পিচ্ছিল নাপাক লেগে ছিল, আমি যা জানি সেটা বীর্য না।

আর বীর্য পড়লে কাপড়ে কেমন জেলির মত ঘন নাপাক লেগে থাকে, তাও দেখতে পাইনি কাপড়ে। "

১) এ অবস্থায় গোসল ফরজ না ধরে প্যান্ট বদলিয়ে নামাজ পড়েছি গোসল ছাড়া, নামাজ কি হয়েছে?

২) পরে মনে সন্দেহে নিয়ে জামাতে পড়তে ,গেলে যেয়ে দেখি তিলাওয়াত করতে করতে তাকবীর দিয়েছে, আমি সাথে সাথে যেয়ে রুকু করি, কিন্তু আবার যখন তাকবীর দেয় তখন বুঝতে পারি সেটা সিজদার তাকবীর ছিল রুকুর না, খেয়াল করি সবাই সিজদায়, যখন সবাই আবার উপরে উঠছিল তখন তাড়াতাড়ি করে সিজদায়ে যায় কিন্তু তাসবীহ পড়তে পারিনাই।

এ অবস্থায় যেহেতু আমি ইমামের সাথে নামাজ পড়ছি তাই সিজদা সাহু দেইনি, নামাজ হয়েছে??

 

৩) আরেকদিন এমন হয়েছে যে ইমাম সাহু সিজদা এর জন্য সালাম ফিরিয়েছে, আমি ভাবছি নামাজ শেষ হবে এরজন্য, আমার তখনো দোয়া পড়া শেষ হয়নি, যখন একদিকে সালাম ফিরায় তারপর সিজদায়ে গেলে বুঝতে পারি সিজদায়ে সাহু, কিন্তু আমি তখনো সালাম ফিরায় নাই, তারাহুরো করে পরে ভুলে সালাম না ফিরিয়েই সিজদায়ে যাই, নামাজ কি সহীহ হয়েছে?

৪) ইমামের সাথে নামাজে নিজের কিরকম ভুল হলে সাহু সিজদা দিতে হয়?

1 Answer

0 votes
by (306,320 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/11414 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
ঘুম থেকে উঠে কাপড়ে আর্দ্রতা দেখলে এর সর্বমোট ১৪ টি সূরত হতে পারে।
স্বপ্নদোষ স্বরণ থাকাবস্থায় এর সম্ভাব্য সাতটি সূরত হতে পারে।এবং স্বরণ না থাকাবস্থায় এর সম্ভাব্য সাতটি সূরত হতে পারে।
স্বপ্নদোষ স্বরণ থাকাবস্থায় সম্ভাব্য সাতটি সূরত নিম্নরূপ(বিধান সহ) যথাঃ-
(১)বীর্য সম্পর্কে নিশ্চিত। (গোসল ফরয হবে)
(২)মযি সম্পর্কে নিশ্চিত।(ফরয হবে)
(৩)ওদী সম্পর্কে নিশ্চিত।(ফরয হবে না)
(৪)বীর্য না মযি? এ নিয়ে সন্দিহান।।(ফরয হবে না)
(৫)বীর্য না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।।(ফরয হবে না)
(৬)মযি না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।।(ফরয হবে না)
(৭)বীর্য না মযি না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।।(ফরয হবে না)
স্বপ্নদোষ স্বরণ না থাকাবস্থায় সম্ভাব্য সাতটি সূরত নিম্নরূপ(বিধান সহ)যথাঃ-
(১)বীর্য সম্পর্কে নিশ্চিত(ফরয হবে)
(২)মযি সম্পর্কে নিশ্চিত।(ফরয হবে না)
(৩)ওদী সম্পর্কে নিশ্চিত(ফরয হবে না)
(৪)বীর্য না মযি? এ নিয়ে সন্দিহান।(তারাফাইন এর মাযহাব মতে ফরয হবে)
(৫)বীর্য না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।(তারাফাইন এর মাযহাব মতে ফরয হবে)
(৬)মযি না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।(ফরয হবে না)
(৭)বীর্য না মযি না ওদী? এ নিয়ে সন্দিহান।(তারাফাইন এর মাযহাব মতে ফরয হবে) (মিনহ্তুল খালিক-১/৫৮)
বিঃ দ্র; ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফ রাহ কে তারাফাইন বলা হয়ে থাকে।এবং ইমাম আবু-হানিফা ও আবু ইউসুফকে শায়খাইন বলা হয়ে থাকে।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) আপনি উপরোক্ত মূলনীতিকে ফলো করে দেখবেন যে, আপনার উপর কি গোসল ফরয হয়েছে? জাযাকাল্লাহ।

(২)
তাসবিহ না পড়তে পারার কারণে আপনার নামায ফাসিদ হবে না।

(৩)
জ্বী, নামায সহীহ হয়েছে।

(৪)
ইমামের সাথে কোনো ভূলের কারণেই সাহু সিজদা আসবে না।হ্যা নামায ফাসিদ হতে পারে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (306,320 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...