0 votes
75 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
১।আমার বৌ তার বাবার সাথে হাগ করে, আবার রাতে তার বাবার সাথে ঘুমায় এটা কি ইসলামে কোনো বিধি নিষেধ আছে? মাঝেমধ্যে তার বুকে ওড়না ও থাকেনা। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

২। যদি কোনো বউ তার মায়ের কথা মতো তার স্বামীকে তালাক দিতে চায় তাহলে করনীয় কী স্বামীর?

৩। বউ যদি স্বামীর কোনো কথাই না শুনে তাহলে কি করবে? অনেক কুরআন হাদিস পড়ানোর পরেও পরিবর্তন হয়নি।

1 Answer

0 votes
by (15,000 points)
edited by

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োপ্রাপ্ত হয়, তারাও যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়। এমনিভাবে আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। (সূরা নূর, আয়াত ৫৯)

 

ইবনে আবেদীন শামী রাহ লিখেন,

দশ বৎসরে উপনীত হওয়া সন্তানদের মধ্যে শয়নস্থল-কে পৃথক করে দিতে হবে।এ বিধান ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তান এবং সন্তান ও পুরুষদের মধ্যে প্রযোজ্য হবে।কেননা এটা ফিতনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদিও বিষয়টা সময়সাপেক্ষ।

বায্যাযিয়্যাহ নামক কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,যখন ছেলে সন্তান দশ বৎসরে উপনীত হয়ে যাবে,তখন যেন সে তার মা,বোন,এবং অন্য কোনো নারীর সাথে শয়ন না করে,(তবে নিজ স্ত্রী বা দাসীর সাথে শয়ন করতে পারবে)মোটকথা নিষিদ্ধ জিনিষ তথা যিনা-ব্যভিচার থেকে বাচাতেই মূলত শয়নস্থলকে পৃথক করে দেয়ার বিধান এসেছে।

কেননা বাচ্ছা দশ বৎসরে উপনীত হয়ে গেলে সে সহবাসের তাৎপর্য বুঝে নিতে সক্ষম হয়ে যায়।এবং বয়স কম থাকার ধরুণ তার খোদাভীরুতাও অসম্পূর্ণ থাককে।তাই আশংকা থেকে যায় যে,হয়তো সে তার সাথে শয়নকৃত ব্যক্তির উপর আপতিত হয়ে যেতে পারে।

 

এ আশংকা এজন্য যে, ঘুম হলো-প্রশান্তিদায়ক এবং যৌন উত্তেজনা কে জাগ্রতকারী। অন্যদিকে ঘুমের সময় কাপড় খুলে গিয়ে সতর প্রকাশিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রাখে।

সুতরাং এমতাবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম শয়নের দিকে সন্তান চলে যেতে পারে।বিশেষ করে বর্তমান সময়ের সন্তান,যারা কিনা পাপাচারের অনুশীলনে বড়দের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।

 

স্বামী-স্ত্রী একজন আরেক জনের পোষাক সরূপ। তাই তারা একে অপরে পোষাকের মত মিলে মিশে থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন -

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ

রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ আল্লাহ অবগত রয়েছেন যেতোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলেসুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেনতা আহরন কর। (সুরা বাকারাআয়াত ১৮৭)

 

হাদীসটি তিরমিযী শরীফে এসেছে -

عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا الرَّجُلُ دَعَا زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتَأْتِهِ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘স্বামী যদি মনোবাসনা পূরণের জন্য তার স্ত্রীকে ডাকে তবে সে যদি চুলার কাছেও থাকে তবুও যেন অবশ্যই সাড়া দেয়। ’ ইমাম আবূ ইসা(রহঃ) বলেনএই হাদীসটি হাসান-গারীব। মিশকাত ৩২৫৭সহিহাহ ১২০২তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

 

সহীহ ইবনে হিব্বানে এসেছে-

عَنْ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا الرَّجُلُ دَعَا زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتجبه وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ " .

তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেনরাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘স্বামী যদি মনোবাসনা পূরণের জন্য তার স্ত্রীকে ডাকে তবে সে যদি চুলার কাছেও থাকে তবুও যেন অবশ্যই সাড়া দেয়। ’ (সহীহ ইবনে হিব্বান৪১৬৫) 

হাদীসটি আরো কিতাবে রয়েছে- মুসনাদে আহমদ, ১৬৩৩১আল- মুহাল্লা১০/৪১আস সুনানুল কুবরা৮৯৭১আত তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/১০৩

 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

. আপনার স্ত্রীর জন্য তার বাবার সাথে রাতে শয়ন করা জায়েজ হবে নাকারণ ঘুমের মধ্যে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে

২.  তখন স্বামীর জন্য করণীয় হলো স্ত্রীকে বুঝাবে। উল্লেখ্য যে, তালাক দেওয়ার অধিকার শুধু স্বামীর। তবে যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে দেয় তাহলে সে ক্ষেত্রে স্ত্রী সে তার নিজের নফসের উপর তালাক দিতে পারবে। এভাবে বললে (আমি আমার নিজের উপর তালাক দিলাম) তালাক হবে। অন্যথায় স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে যে, ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’। তাহলে এতে কোনো তালাক পতিত হয় না।

৩. স্ত্রীকে বুঝাবে। তবুও সংশোধন না হলে দুই পরিবার নিয়ে বসবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...