+1 vote
40 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (15 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

১)নামাজে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রোকন আদায়ে বিলম্ব করলে কি সাহু সিজদা দিলেই হবে নাকি নামাজ দোহরাতে হবে?

২)পরিবারের লোকেরা যদি পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে অজ্ঞ হয়,যেমন, জানা আছে যে, ছোট একজন সদস্য টয়লেট ইউজের পর ঠিকমতো পবিত্রতা অর্জন করে না, পেশাবের ছিটেফোঁটা পায়ে লেগে থাকে, বললেও শোনে না,সে যে বিছানায় শোয়,সেখানে তো পেশাবের বা অপবিত্রতার কোনো চিহ্ন দেখা যায় না,তাহলে কি সে বিছানায় বসা, শোয়া বা নামাজ পরা যাবে?

৩)অন্য কেউ বালতি বা অন্য কিছুতে যেমন বদনায় পানি ভরে রাখলে কি সে পানি দিয়ে ওযু বা গোসল করা যাবে,যেহেতু তার পবিত্রতার ব্যাপারে আমি অনিশ্চিত বা সন্দেহী।নাপাকি পানি কোনো বালতির পানিতে ছিটে গেলে তো সবটুকু পানি নাপাক হয়ে যায় শুনেছি,তাহলে অন্য কারো শরীরের নাপাকি পানিতে গেছে নাকি কিভাবে নিশ্চিত হবো?

৪)মুহস্বানাত নামক বইটি কি কুরআন, সুন্নাহ অনুসারে লেখা?বইটি অনুসরণ করে আমল করা যাবে কি?মহিলাদের জন্য কিছু ভালো ইসলামিক বই সাজেস্ট করুন,প্লিজ
৫)স্বামী -স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর স্ত্রী যদি আরেক বিয়ে করেন,এবং সন্তান যদি মায়ের সাথে থাকে,সন্তানের বায়োলজিকাল পিতা কোনো খোঁজখবর না রাখে,তাহলে কি সন্তান তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর পরিচয়ে বড় হতে পারবে,কাগজে কলমে মায়ের দ্বিতীয় স্বামীকে বাবার পরিচয় দিতে পারবে,এতে তো সে কিছুই করতে পারবে না,তার জন্য কি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শাস্তির হাদিসটি খাটে?তার এখন কি করা উচিত?তার মা ও বর্তমান পিতা যদি ওসিয়ত করে বায়োলজিকাল পিতার সাথে ভবিষ্যতেও কোনো সম্পর্ক না রাখতে..?

৬) জেনারেল শিক্ষার্থীরা কিভাবে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে
৭)ভুলে এক সিজদা দিয়ে ফেললে করণীয় কি?

৮)নন মাহরাম টিচারদের সাথে কথাবার্তা কেমন হওয়া উচিত,তারা পড়া বুঝানোর সময় তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে?
৯)নবী (ﷺ)এর উপর ইচ্ছাকৃত মিথ্যারোপ করলে সে যেন জাহান্নাম কে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়,কিন্তু যদি দাওয়াহ দেওয়া বা ওসিয়ত করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল হয়ে যায়,এটা সুন্নাহ বা হাদিসে আছে বলতে গিয়ে যদি কুরআনে আছে এরূপ বলে ফেলি,তাহলেও কি গুনাহ হবে

১০)বেসিনে ওযু করার সময় পাশে কিছুর ওপর মগে পানি রাখি,এক্ষেত্রে ওযু করার সময় সেই পানির ছিটা মগে গেলে পানি কি নাপাক হবে

আশা করি উত্তর দিবেন
জাযাকাল্লাহ খইরন!
by (23 points)
edited by
জাযাকাল্লাহ খাইরান। 

1 Answer

0 votes
by (224,080 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-

(০১)
নামাযে যেকোনো ভুলের কারণে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়ে যায় না। বরং ভুলে নামাযের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা কোনো ফরয বা ওয়াজিব বিলম্বিত হলে ওয়াজিব হয়। আর যদি ভুলে কোনো ফরয ছুটে যায়, তবে সেজদা সাহু করা যথেষ্ট নয়, বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। আর কোনো সুন্নত বা মুস্তাহাব ছুটে গেলে সেজদা সাহু করার বিধান নেই। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك بن أنس، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبد الله بن بحينة رضي الله عنه، أنه قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين من بعض الصلوات، ثم قام فلم يجلس، فقام الناس معه، فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر قبل التسليم، فسجد سجدتين وهو جالس، ثم سلم.

আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নামায আমাদের দুই রাকাত পড়ান। তারপর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুকতাদীরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। যখন তিনি নামায পূর্ণ করলেন এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম তখন সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর দিলেন এবং বসা অবস্থায় দুটি সেজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। 
(সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০)

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সেজদায়ে সাহু যথেষ্ট। 
নামাজ দোহরাতে হবেনা।   

(০২)
সেই বিছানায় শয়নের পর আপনার শরীরে যদি নাপাকির গন্ধ বা চিন্হ না পাওয়া যায়,তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
তবে সেই বিছানায় নাপাকি পড়ার সম্ভাবনা থাকার কারনে সরাসরি তার উপর নামাজ না পড়ে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়বেন।
,
(০৩)
এই ব্যাপারে আপনি যদি নাপাকি পড়া সম্পর্কে না জেনে থাকেন,তাহলে সেই পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে কোনো সমস্যা নেই।
,
(০৪)
উক্ত বই পড়া হয়নি 
তাই দুঃখিত মন্তব্য করতে পারছিনা। 
আপনি মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন সাহেব দাঃবাঃ এর লিখিত আহকামুন নিসা,আহকামে জিন্দেগী পড়তে পারেন।
,
(০৫)
কাগজ কলমে এক্ষেত্রে সে তার নিজ আসল বাবার পরিচয় দিবে। 
নতুবা গুনাহ হবে।
এক্ষেত্রে কাহারো নির্দেশ মানা জায়েজ হবেনা।
        
(০৬)
এক্ষেত্রে অফলাইনে কিছু শটকোর্স মাদ্রাসা আছে,সেখান থেকে শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।
অনলাইনেও মাদ্রাসা আছে।
iOM এ আলিম কোর্সে ভর্তি হলে অনেক উপকার মিলবে,ইনশাআল্লাহ। 
,
(০৭)
এক্ষেত্রে নামাজের মধ্যে যখনই মনে পড়বে,আরো একটি সেজদাহ দিয়ে শেষে সেজদায়ে সাহু দিবে।    

(০৮)
প্রয়োজন ব্যাতিত কথা বলা যাবেনা,পূর্ণ পর্দার আওতায় থেকে কথা বলতে হবে।
কন্ঠ নরম করবেনা,ফিতনার আশংকা থাকা যাবেনা।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী মেয়ে হলে ফিতনার আশংকা না থাকলে  শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারবে।

শিক্ষার্থী ছেলে হলে কোনক্রমেই শিক্ষিকার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারবেনা।
,
(০৯)
অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কারনে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
আল্লাহ মাফ করবেন।
,
(১০)
এতে সেই মগের পানি নাপাক হবেনা।
কোনো সমস্যা নেই। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...