0 votes
12 views
in সালাত(Prayer) by (1 point)
ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ‎‎

১. মৃত বাবা মায়ের জন্য নফল নামাজ পড়ে দোয়া করতে হলে সে নফল নামাজের নিয়তে কি বলতে হবে?

২.নামাজ ফরজ হওয়ার পর থেকে যে সকল নামাজ কাজা হয়েছে সেগুলো কিভাবে আদায় করবো? ফজরের সাথে আগের ফজর, যোহরের সাথে যোহর এরকম? নাকি অন্য ভাবে? আর নিয়ত কি হবে?

৩. নামাজের সূরা একটা পড়তে গিয়ে পরে অন্য একটা পড়লে কি সিজদা সাহু দিতে হবে? অর্থাৎ আমি সূরা ফাতিহার পর সূরা ফালাক পড়া শুরু করার পর সেই সূরা না পড়ে আবার কাফিরূন পড়লাম। এ অবস্থায় কি সিজদা সাহু দিতে হবে আমাকে?

1 Answer

0 votes
by (8,320 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

 নামাজ পড়া ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ

আর নামায কায়েম করযাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথেযারা অবনত হয়। ( সূরা বাকারাআয়াত ৪৩)

 

 অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন-

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কোরবানী করুন। (সূরা কাউসারআয়াত ২)

 

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নামাজ ত্যাগ করে তার থেকে (আল্লাহর ) যিম্মদারি উঠে যায়।

 হাদীস শরীফে এসেছে-

 

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ " وَلاَ تَتْرُكْ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلاَ تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ " .

 

আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনআমার প্রিয় বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

আমাকে এই উপদেশ তুমি স্বেচ্ছায় ফরয নামায ত্যাগ করো না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ত্যাগ করে তারথেকে (আল্লাহর ) যিম্মদারি উঠে যায়। তুমি মদ্যপান করো না। কেননা তা সর্বপ্রকার অনিষ্টের চাবিকাঠি। (সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০৩৪)

 

 অধিক কাযা নামাজ তারতীবকে রহিত করে দেয় ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে আছে-

 حتي ترك صلاة شهر ثم قضي ثلاثين فجر ثم ثلاثين ظهرا ثم هكذا صح

মর্মার্থকারোর যদি এক মাসের নামাজ কাযা হয়ে যায় অত:পর সে ত্রিশ দিনের ফজরের নামাজ কাযা করে তারপর জহরতাহলে তা সহীহ আছে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া/১৮৩

সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হয় ৬ কারণে। যথা-

১) কোন রুকন আগে করে ফেলা।

২) কোন রুকনকে আপন সময় বা স্থান থেকে দেরী করে ফেলা।

৩) কোন রুকনকে তাকরার তথা বারংবার আদায় করা।

৪) কোন ওয়াজিবকে পরিবর্তন করে ফেলা। যেমন  জোরে পড়া বিষয়কে আস্তে পড়া।

৫) কোন ওয়াজিবকে ছেড়ে দেয়া।

৬) এমন কোন সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া যা পুরো নামাযের দিকে সম্বোধিত। যেমন প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ ছেড়ে দেয়া

 

أنه يجب بستة أشياء: بتقديم ركن، وبتأخير ركن، وتكرار ركن، وبتغيير واجب، وبترك واجب، وبترك سنّة تضاف إلى جميع الصلاة (المحيط البرهانى، كتاب الصلاة، الفصل السابع فى سجود السهو-1/501)

 

মর্থার্থ: ছয় কারণে সেজাদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। যথা: ১) কোন রুকন আগে করে ফেলা,  ২) কোন রুকনকে আপন সময় বা স্থান থেকে দেরী করে ফেলা। ৩) কোন রুকনকে তাকরার তথা বারংবার আদায় করা। ৪) কোন ওয়াজিবকে পরিবর্তন করে ফেলা। যেমন  জোরে পড়া বিষয়কে আস্তে পড়া। ৫) কোন ওয়াজিবকে ছেড়ে দেয়া। ৬) এমন কোন সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া যা পুরো নামাযের দিকে সম্বোধিত। যেমন প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ ছেড়ে দেয়া

 

وفى منية المصلى: يجب بستة اشياء بتقديم ركن….. بتأخير ركن…. بتكرار الركن…. بتغيير الواجب….. بترك الواجب…. بترك لسنة المضافة على جميع الصلاة نحو ان يترك قراءت التشهد فى القعدة الاولى (منية المصلى مع غنية المستملى-456-457)

 

মর্থার্থ: ছয় কারণে সেজাদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। যথা: ১) কোন রুকন আগে করে ফেলা,  ২) কোন রুকনকে আপন সময় বা স্থান থেকে দেরী করে ফেলা। ৩) কোন রুকনকে তাকরার তথা বারংবার আদায় করা। ৪) কোন ওয়াজিবকে পরিবর্তন করে ফেলা। যেমন  জোরে পড়া বিষয়কে আস্তে পড়া। ৫) কোন ওয়াজিবকে ছেড়ে দেয়া। ৬) এমন কোন সুন্নতকে ছেড়ে দেয়া যা পুরো নামাযের দিকে সম্বোধিত। যেমন প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ ছেড়ে দেয়া

 

 সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন! 

 

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শুধু নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলেই হবে। যেমন, এভাবে নিয়ত করবেন- ‘আমি দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম।’

২. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার পর থেকে যত নামাজ আদায় করেননি সবগুলোর কাযা আদায় করবেন। কাযা নামাজ আদায়ের বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। বরং আদায় নামাজের মতই কাযা আদায় করবেন। তবে নিয়ত এভাবে করবেন যে, ‘আমি জীবনের সর্ব প্রথম ফজরের নামাজের কাযা আদায় করছি।’ আবার নিয়ত করবেন ‘আমি জীবনের সর্ব প্রথম ফজরের নামাজের কাযা আদায় করছি।’ এভাবে সব ফজর নামাজগুলোর কাযা আদায় করবেন। এভাবে নিয়ত করার কারণ হলো যখন আপনি জীবনের সর্ব প্রথম ফজরের নামাজের কাযা আদায় করে ফেলবেন তখন অটোমেটিক জীবনের দ্বিতীয় ফজরের নামাজ প্রথমে হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে জহরআসরমাগরীবইশা ও বেতরের নামাজ কাযা আদায় করবেন।


৩. না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...