+1 vote
52 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (29 points)
edited by

১. গায়ের সাথে স্পর্শ না গেলে যদি শুধু ওড়নার সাথে বা কাপড়ের সাথে স্পর্শ হয় তাহলে কি হুরমত হবে?

 

২.কখনো পথ চলতে চলতে বা ফাজলামি করে যদি Jesus, Gosh(God) বলে ফেলি, মনে মনে শুধু আল্লাহ্কেই বিশ্বাস করি, তাহলে কি শিরক হবে বা ইমান চলে যাবে?

 

৩. আমার কোন মানসিক রোগ থাকলে এর জন্য কি আমার গুণাহ পাপ হতে থাকবে?

৪. কোন কাফের মুসলিম হয়ে গেলে তো তার পূর্ববর্তী জীবনের সব গুণাহ মাফ হয়ে যায়?

৫. কোন মুসলিম কাফের হয়ে গেলে, পরে আবার মুসলিম হলে ও কি তার আগের জীবনের সব গুণাহ মাফ হয়?

৬. আমার এক মুসলিম বন্ধু নাস্তিকের মতো হয়ে গেছিল পরে আবার সে ইসলামের পথে ফিরতে চায় এখন তাকে নিজে নিজে ইমান আনলে হবে নাকি কোন ইমামের হাতে কালেমা শাহাদাত পড়তে হবে?

1 Answer

0 votes
by (269,560 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/1233 নং ফাতাওয়ায় আমরা হুরমত সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি, 
সুতরাং আমরা সেই উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে বলব যে, 
(১) গায়ের সাথে স্পর্শ না লেগে যদি শুধু ওড়না বা কাপড়ের সাথে স্পর্শ লাগে, তাহলে এদ্বারা হুরমত প্রমাণিত হবে না। 
(২) Jesus অর্থ আমরা যা বুঝি যে, তা হল ইহুদী। আল্লাহকে ইহুদী বলা যাবে না। হ্যা, আল্লাহ কে গড বলা যাবে, কেননা গড শব্দ দ্বারা আল্লাহর তরজমা করা হয়ে থাকে। https://www.ifatwa.info/511 নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, 
সৌদিআরবের বিশিষ্ট গবেষনা পরিষদ"লাজনাতুদ্দায়িমা"এ রকম এক প্রশ্নের জবাবে বলে যে,
ﺗﺠﻮﺯ ﺗﺮﺟﻤﺔ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻤﻦ ﻻ ﻳﻌﺮﻑ ﺍﻟﻠﻐﺔ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﺑﻠﻐﺘﻬﻢ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﺘﺮﺟِﻢ ﺑﺼﻴﺮﺍ ﻟﻠﻐﺘﻴﻦ ، ﻛﻤﺎ ﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﺗﺘﺮﺟﻢ ﻟﻬﻢ ﻣﻌﺎﻧﻲ ﺍﻵﻳﺎﺕ ﺍﻟﻘﺮﺁﻧﻴﺔ ﻭﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﻟﻨﺒﻮﻳﺔ ﻟﺘﻔﻬﻴﻤﻬﻢ ﺍﻟﺪﻳﻦ . ﺍﻫـ
আল্লাহ তা'আলার নাম সমূহকে ভাষান্তর করা বৈধ যে ভাবে কোরআনকে ভাষান্তর করা বৈধ।তবে শর্ত হল,যিনি ভাষান্তর করবেন,তিনি উভয় ভাষায় পারদর্শী ও বিজ্ঞ হতে হবে।আল্লাহ তাআলাকে অন্য ভাষায় এমন শব্দে ডাকা জায়েজ, যে শব্দে আর কাউকে ডাকা হয় না। সেই সাথে এটা অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় কোন নাম নয়। (আল ইয়াওয়াক্বীত ওয়াল জাওয়াহীর-৭৮)আরো বর্ণিত আছে, (ফাতওয়া আলমগীরী-৬/৪৪৬}
(৩) কারো মানসিক রোগ থাকার কারণে যদি অনিচ্ছায় তার কাছ থেকে কোনো গোনাহের কাজ সম্পাদিত হয়, তাহলে এজন্য ঐ ব্যক্তির কোনো গোনাহ হবে না। 
আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন ধরণের লোকের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছেঃ (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, (২) নাবালেগ, যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং (৩) পাগল, যতক্ষণ না জ্ঞানসম্পন্ন হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ পর্যায়ক্রমে কাসমম ইবনু ইয়াযীদ থেকে আলী (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে 'বার্ধক্যজনিত কারণে নিস্তেজ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি' কথাটুকু রয়েছে। (সুনানে আবি-দাউদ-৪৪০৩)বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/19017

(৪) জ্বী, কোন কাফের মুসলিম হয়ে গেলে তো তার পূর্ববর্তী জীবনের সব গুণাহ মাফ হয়ে যাবে।
 عن عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ رضي الله عنه قال : لَمَّا جَعَلَ اللَّهُ الإِسْلامَ فِي قَلْبِي أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقُلْتُ : ابْسُطْ يَمِينَكَ فَلأُبَايِعْكَ . فَبَسَطَ يَمِينَهُ ، قَالَ : فَقَبَضْتُ يَدِي . قَالَ : مَا لَكَ يَا عَمْرُو ؟ قَالَ : قُلْتُ : أَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِطَ . قَالَ : تَشْتَرِطُ بِمَاذَا ؟ قُلْتُ : أَنْ يُغْفَرَ لِي . قَالَ : أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الإِسْلامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ . 
রাসূল সা বলেন, হে আমর ইবনে আস তুমি কি জাননা যে, ইসলাম পূর্বের সকল গোনাহকে ক্ষমা করে দেয়। (সহীহ মুসলিম-১২১)

(৫) কোন মুসলিম কাফের হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে যদি আবার সত্যিকার অর্থে মুসলিম হয়ে যায়, তাহলে তার গোনাহ অবশ্যই মাফ হয়ে যাবে। 
(৬) কোনো মুসলামন নাস্তিক হয়ে যাওয়ার পর আবার মুসলমান হওয়ার জন্য মনেপ্রাণে মুসলিম হয়ে গেলেই চলবে। ইমামের হাতে কালেমা পড়ার কোনো প্রয়োজন নাই। বরং জরুরী হল, মনেপ্রাণে কালেমাকে বিশ্বাস করা ও কালেমার অর্থকে আ’মলে পরিণত করা। এবং মুখ দ্বারা কালেমাকে উচ্ছারণ করা। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (29 points)
edited by
1. মুফতি ইমদাদুল হক Jesus( ইসা(আ))  বা god  আল্লাহ্কে বলি নি। ইংরেজি মুভিতে বলে তাই কথার টানে চলে এসেছিল এমনিতেই। এর জন্য কি কোন সমস্যা হবে? 
2. ৩. আমার কোন মানসিক রোগ থাকলে এর জন্য কি আমার গুণাহ মাফ হতে থাকবে?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...