0 votes
16 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (34 points)
কোনো সাধারণ অমুসলিমদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে কষ্ট লাগা কী শরিয়তসম্মত?মনে করি এমন একজন হিন্দু সৈনিক যে কখনো মুসলিমদের কোনো ক্ষতি করে নি, দুর্ঘটনাবসত সে মারা গেলে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে কিছুটা খারাপ লাগাটা কী জায়েজ?

1 Answer

0 votes
by (39.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-
কাফিরের মৃত্যুতে মানবিক শোকাহত হওয়াত বৈধ আছে।মানবিক সাধারণ রহম করমের অযোগ্য কোনো কাফির হবে না।যেমন যদি কারো পিতা-মাতা বা ভাই-বোন কাফির অবস্থায় মারা যায়,অথবা কোনো ভালো কাজ সম্পাদনকারী সমাজ সেবক কাফির মারা যায়, তাহলে তাদের মৃত্যুতে শোকাহত হওয়া বৈধ রয়েছে।তবে শর্ত হলো ঐ সমস্ত কাফির মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে পারবে না।সুতরাং এটা হলো মানবিক মহব্বত ও রহম করমের বহিঃপ্রকাশ যার কারণে কাউকে তিরস্কার করা যাবে না।এটা যেন এমন যে আপনার চক্ষুর সামনে কোনো দুর্ঘটনায় কোনো কাফির মারা যাচ্ছে বা আগুনে জ্বলে কোনো কাফির মারা যাচ্ছে, সুতরাং এমতাবস্থায় ঐ কাফিরের দিকে মায়ার উদ্রেক হওয়াটা স্বাভাবিক।

হাদীসে বর্ণিত রয়েছে,

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " زَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْرَ أُمِّهِ ، فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ ، فَقَالَ : ( اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي ، وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِي ، فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ )
তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ উনার মায়ের কবর যিয়ারতে গেলেন।রাসূলুল্লাহ সাঃ ক্রন্দন করতে শুরু করে দিলেন।এবং আশপাশের সবাইকে কাদিয়ে দিলেন।অতঃপর তিনি বললেন,আমি আমার রবের নিকট আমার মায়ের জন্য ইস্তেগফার করার অনুমতি চাইছিলাম,কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয়নি।অতঃপর কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলাম,হ্যা আমাকে কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হল।সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো।কেননা কবর যিয়ারত মৃত্যুকে স্বরণ করিয়ে দেয়।(সহীহ মুসলিম-৯৭৬)

অন্য বর্ণানায় এসেছে যে,রাসূলুল্লাহ সাঃ মাতা-পিতাকে কবরের ভিতর জীবিত করা হয়েছে,এবং জীবিত হয়ে পৃথিবীর অবস্থা দেখে তারা নিজ ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন।বা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর আগমনের পূর্বে শিরিক না করে থাকলে যে কেউ আখেরাতে নাজাত পাবে।সুতরাং অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত হলো, রাসূলুল্লাহ সাঃ মাতা-পিতা জান্নাতি।এবং এ বিষয়ে অালোচনা না বাড়ানোই শ্রেয়।এবং উক্ত হাদীস ইসলামের প্রাথমিক যুগের হাদীস।(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাঃ উনার চাচা আবু তালিব এর  কাফির অবস্থায় মৃত্যুতে শোকাহত ছিলেন,কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ উনার ইসলাম গ্রহণের আশান্বিত ছিলেন।এমনকি রাসূলুল্লাহ উনার চাচার জন্য দু'আ করারও ইচ্ছা পোষন করেছিলেন।কিন্তু উনাকে সে অনুমতি দেয়া হয়নি।

তবে সাবধান, এমন শোকাহত হওয়া যাবে না,যা ইসলামের বিধি-বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।এবং কাফিরদের সম্মানকে বাড়িয়ে দেয় বা ইসলাম ও মুসলমানের সার্বভৌমত্বের উপর আগাত করে, এমন প্রকারের শোকাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।সুতরাং জনসম্মুখে তাদের শোক প্রকাশ না করাই উচিৎ।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...