আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
65 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (18 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

হজরত, আমার একটি কুরবানীর নেসাব সম্পর্কিত মাসআলা জানার ছিল।

যদি কোনো ব্যক্তির কাছে নগদ টাকা, স্বর্ণ বা রূপা না থাকে, কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু জমি থাকে-যে জমিগুলোতে বছরে দুইবার ফসল আবাদ হয় এবং ফসল পাওয়া যায়-তাহলে কি তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে?

এক্ষেত্রে জানার বিষয়গুলো হলো:

১. এই ধরনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত কৃষিজমি কি কুরবানীর নেসাবের হিসাবের মধ্যে ধরা হবে?

২. জমির বাজারমূল্য যদি বর্তমান রূপার নেসাবের সমপরিমাণ বা তার বেশি হয়, কিন্তু হাতে নগদ টাকা না থাকে, তাহলে কি কুরবানী ওয়াজিব হবে?

৩. জমি থেকে যে ফসল পাওয়া যায়, সেটির আয়/মূল্য কি আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে?

৪. যদি জমিটি পরিবারের জীবিকার অংশ হয়, কিন্তু বসবাস বা দৈনন্দিন সরাসরি প্রয়োজনের জন্য না হয়, তাহলে সেটি প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে, নাকি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে ধরা হবে?

অনুগ্রহ করে বিষয়টি বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব।কার উপর ওয়াজিব?এ সম্পর্কে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
مِنْهَا الْيَسَارُ وَهُوَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبِ صَدَقَةِ الْفِطْرِ دُونَ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ وُجُوبُ الزَّكَاةِ،
এই পরিমাণ ধনবান ব্যক্তির উপর কুরবানি ওয়াজিব,যে পরিমাণ ধনসম্পত্তি থাকার কারণে কারো উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়।যাকাত ওয়াজিব হওয়ার নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হওয়া শর্ত নয়।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/২৯২,কিতাবুল-ফাতাওয়া-৪/১৩১) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1642

শুধু স্বর্ণ হলে কারো নিকট ৭.৫ ভড়ি স্বর্ণ থাকলেই কেবল কুরবানি ওয়াজিব হবে। যেভাবে যাকাতের বিধান। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/121


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
এক বৎসরের খোরাকির যেই জমি থেকে তার থেকে অতিরিক্ত জমির মূল্য যদি ৫২ ভড়ি রূপা সমপরিমাণ হয়ে যায়, তাহলে কুরবানি ওয়াজিব হবে। 

এক্ষেত্রে বিষয়গুলো হলো:
১. প্রয়োজনের অতিরিক্ত কৃষিজমি কুরবানীর নেসাবের হিসাবের মধ্যে ধরা হবে।

২. জমির বাজারমূল্য যদি বর্তমান রূপার নেসাবের সমপরিমাণ বা তার বেশি হয়, কিন্তু হাতে নগদ টাকা না থাকে, তাহলেও কুরবানী ওয়াজিব হবে।

৩. জমি থেকে যে ফসল পাওয়া যায়, সেটির আয়/মূল্য আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে না। 

৪. যদি জমিটি পরিবারের জীবিকার অংশ হয়, কিন্তু বসবাস বা দৈনন্দিন সরাসরি প্রয়োজনের জন্য না হয়, তাহলে সেটি প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...