0 votes
32 views
in পবিত্রতা (Purity) by (9 points)
১.বেশিরভাগ ওয়াক্তেই এমন হয় যে, নামাজে সিজদা দিতে গেলেই চাপ লেগে স্রাবের পানি বের হয়।মাঝেমাঝে এমন হয় কয়েকবার অজু করার পরেও হয়।সেক্ষেত্রে কি বারবার অজু করা লাগবে?সবসময় তো বারবার অজু সম্ভব হয়না।একজন বাথরুম থেকে বের হলেই আরেকজন যায়।

২.নামাজ পড়তে গেলে বারবার বায়ু বের হয়।এটা অন্য কোন সময়েই এত হয়না।শুধু নামাজের মধ্যেই এমন হয়।এক্ষেত্রে কি বায়ু চেপে রাখার চেষ্টা করা যাবে?

৩.দৃশ্যমান নাপাকী হোক/অদৃশ্যমান নাপাকীই হোক না কেন, তা আমরা যখন নাপাক কাপড় পরিষ্কার করি তখন তো আমাদের সবার গায়েই বালতির পানি ছিটে আসে স্বাভাবিক ভাবেই।একটু হলেও তো আসে সবারই।

তাহলে এই পানি কি নাপাক পানি হিসেবে গণ্য হবে?

এরকম তো অনেক উদাহরণ আছে, যেমন.....

এইযে গোসলের পরেও বাবুদের প্রস্রাব-পায়খানার কাথা পরিষ্কার করতে গেলে তো বালতির পানি ছিটে লাগে, পানি ঢালতে গেলে পায়ে আসে, এক্ষেত্রে আমাদের যে কাপড় পরা থাকে সেই কাপড়েই নামাজ কালাম পড়তে পারব??

এই বিষয়টা আসলে ক্লিয়ার বললে ভালো হয়, এরকমটা তো আমরা সবারই কাপড় কাঁচতে গেলেই আসে, কাপড় কাঁচতে গেলে তো আমরা সবাই-ই প্রায় ভিজে টিজে যায়।তাহলে এই ভেজাটা কি নাপাকী হিসেবে গণ্য হবে??এই অবস্থার কাপড় দিয়েই সালাত পড়া যাবে??

নাপাক কাপড় হাত দিয়ে চিপড়ানোর পর কি নাপাকী লেগে যায় কখনো?

৪.প্রস্রাব,বীর্যের মত নাপাকী চুলে লাগলে সেগুলো কি চুল বাঁধা অবস্থায় একবার পানি দিলেই চলে যায়না?এইখানে কনফিউশান, যে চলে যায়, কি যায়না?

৫.শরীরে নাকাপী লাগলে, পানি দিয়ে ধোয়ার পরই তো তা পাক হবে।আমি বলছি যে, আমার হাতে লাগা যেকোন নাপাকী পানি দিয়ে ধোয়ার আগে তা কাপড়ে দিয়ে মুছার পর তখন সেই স্থান অন্য কোথায়ও লাগলে কি তা নাপাক হবে?বা সেই স্থান শরীরের অন্য কোন ভেজা স্থানের স্পর্শে লাগলে কি তা নাপাক হবে?

৬.কাপড় পাক করার পর(শেষ বার সাধ্যানুযায়ী চিপড়ানোর পর) সেই কাপড় দিয়ে ঝরতে থাকা ফোঁটায় ফোঁটায় অনবরত পানি কি নাপাক পানি হবে?বিশেষ করে মোটা কিছু চিপড়ালেও মেলে দেওয়ার পর পানি পড়তেই থাকে।
৭.ওয়েলক্লথে নাকাপী শুকিয়ে যাবার পর সেটাও কি টাইলসের হুকুমের মত পাক হবে?তখন (নাপাকী শুকিয়ে যাবার পর) তাতে পানি লাগলে কি সেই স্থান স্পর্শ করলে নাপাকী ফেরত আসবে?নাকি শুকানোর পর পাক হয়ে যাবে?
৮.ওয়েলক্লথ পাক করার জন্য তা ধোঁয়ার পর কি ৩ বার চিপড়ানো জরুরী?

৯.আমাকে একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে অনেক উপকৃত হব ইনশা আল্লাহ।আল্লাহ আপনাদেরকে কবুল করুন।

আমার শুধু পাক -নাকাপ বিষয়ে ওয়াসওয়াসা আসে।এটা কি আমার ওই বিষয়ে ইলম না থাকার কারনে নাকি ওয়াসওয়াসার কারনে সেটা বুঝছিনা (আমি তাহারাত সংক্রান্ত ক্লাস করেছি আলহামদুলিল্লাহ। এবং মূলনীতি গুলোও কমবেশি জানি।কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যেগুলো মূলনীতিতে সরাসরি নেই, সেগুলোতেই আমার ঝামেলা হয়।ওয়াসওয়াসা আসে)।
দেখুন, আমি একজন সিজারিয়ান মা। সব কাজ আমাকে একা সামলাতে হয়।এমন পরিস্থিতিতে এই ওয়াসওয়াসার কারনে বারবার ধোয়া আমার জন্য যে কি কষ্টের তা বলে বোঝাতে পারবনা।

বেশিরভাগ সময়েই নাপকির স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়না।কারন সাথে সাথে কাপড় কাচা হয়না।পরে শুকিয়ে যায়।সেক্ষেত্রে পুরো কাপড়ই ধুতে হয়।

৩ বার কাপড় চিপড়ানো এই বিষয়টা বিস্তারিত জানালে খুবই উপকার হত।
প্রশ্ন হচ্ছে...
৯.কাপড় কাঁচতে গেলে তো মাঝেসাঝে হাত দিয়ে চাপা হয় পানি বের করার জন্যই।কাঁচতে গেলে তো এমন হয়ই।তবুও কি কাপড় শেষে ৩ বার চিপড়াতে হবে?নাকি কাপড় কাঁচার শুরু শেষ মিলিয়ে মোট ৩ বার চিপড়ালেই হল।

১০.সালাফদের জামানায় কিভাবে ধোঁয়া হত জানিনা।এখন তো আমরা ডিটারজেন্টে কাপড় ভিজায়।তাই দ্রুতই ময়লা পানি সহজেই বের হয়ে যায়।সেক্ষেত্রেও কি ৩ বার চিপড়াতে হবে?

১১.ফরজ গোসলের সময় সন্দেহ হয় যে পানি গলার /নাকের ভেতরে পৌছেছে কি'না! আবার রোজাবস্থায় সন্দেহ হয় যে পানি গলা/ নাকের বেশি ভেতরে চলে গেল কি'না!
প্রশ্ন হচ্ছে, এক্সাক্ট কোন পয়েন্ট ধরব বা কিভাবে বুঝব যে কতটুকু পর্যন্ত পানি গলা বা নাকের ভেতরে পৌছালেই ফরজ আদায় হয়ে যাবে? (গলায় পানি দিতে দিতে বমি চলে আসে।নাকে পানি দিতে দিতে নাকের ভেতরে জ্বলে ওঠে)

একই ভাবে গলা এবং নাকের ভেতরের কতটুকু পর্যন্ত পানি পৌছালেই বুঝব পারব যে রোজা ভাঙ্গবেনা?

একটু বিস্তারিত বললে উপকৃত হব ইনশা আল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
edited by
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আপনি অনেকগুলি প্রশ্ন করেছেন, আমরা ধারাবাহিক আপনার সবগুলি প্রশে্নর উত্তর দিচ্ছি, হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।

(১)কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়াজ জন্য শর্ত হলো,
شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-
শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

সুতরাং যদি কোনো একদিন কোনো একটি নামাযের সম্পূর্ণ ওয়াক্ত আপনার এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে,বায়ু উযরের কারণে ফরয নামায পড়া আপনার জন্য সম্ভবপর না হয়,তাহলে আপনি মা'যুর। অন্যথায় শরয়ী ভাবে মা'যুর প্রমাণিত হবেন না।

কেউ শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হলে,তার জন্য প্রতি ওয়াক্তে একটি ওজুই যথেষ্ট।আর শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত না হলে,তখন প্রতি নামাযের জন্য পৃথক পৃথক ওজু করতে হবে।নামাযে যখনই ওজু চলে যাবে,তখন আবার ওজু করে নামাযকে পড়তে হবে।

যখন সারা ওয়াক্ত ব্যাপী উযর দেখা দিবে,তখন আপনি মা'যুর হিসেবে গণ্য হবেন।

কিন্তু যদি উযর কখনো কমে আসে,সারা ওয়াক্ত ব্যাপী না থাকে,বরং কমপক্ষে এতটুকু সময় পাওয়া যায় যে,উক্ত ওয়াক্তের ফরয সুন্নত নামায পড়া যায়,তাহলে তখন ঐ ব্যক্তি মা'যুর হিসেবে গণ্য হবে না।সুতরাং তখন হুকম হলো,প্রয়োজন হলেও বারবার ওজু করে নামাযকে সম্পন্ন করা।

যখন আপনার এ রোগ কমে আসবে,তখন আপনি প্রয়োজনে বারংবার অজু করে ঐ নামাযকে সম্পন্ন করবেন।অজুকে ধরে রাখার কৌশল হিসেবে প্রয়োজনে চেয়ারে বসে নামায পড়তে পারেন।
যদি চেয়ারে বসে নামায পড়ে নিতে পারেন এবং অজু ভঙ্গ না হয়,তখন কিন্তু আপনি মা'যুর হিসেবে গণ্য হবেন না।
বিস্তারিত জানুন-  https://www.ifatwa.info/10849


(২) জ্বী বায়ু চেপে রাখা যাবে। আপনি চেয়ারে বসে ইশারা করে নাামায পড়তে পারবেন। 

(৩)
দৃশ্যমান নাজাসত হোক বা অদৃশ্যমান নাজাসত হোক, নাজাসত থেকে কাপড় ধৌত করার পর উক্ত পানি শরীরে লাগলে শরীরকে ধৌত করতে হবে,কাপড়ে লাগলে কাপড়কে পাল্টিয়ে নামায পড়তে হবে।

এজন্য নাজাসত থেকে কাপড়কে গোসলের পূর্বে ধৌত করাই শ্রেয়।


(৪)
জ্বী চলে যায়,তবে সতর্কতামূলক তিনবার ধৌত করাই শ্রেয়।

(৫)
হাতে নাপাকি লাগার পর কিছু দ্বারা মুছে নিলে,সেই হাত অন্য কোথাও লাগলে তা নাপাক হবে না।তবে ভিজা কিছুর সাথে লাগলে অত্র জিনিষ নাপাক হয়ে যাবে।

(৬)
তিনবার ধৌত করার পর শেষবার ভালভাবে চিপা দেওয়ার পরে যদি ঐ কাপড় থেকে কিছু পড়ে,তাহলে তা আর নাপাক হবে না।

(৭)
জ্বী,সেটাও টাইলসের মত হবে।

(৮)
চিপানো সম্ভব হলে, চিপা দেয়া জরুরী।নতুবা উপর দিয়ে পারি ঢেলে দিলেই তা পাক হয়ে যাবে।

(৯)
ভাল পানি দ্বারা তিন চিপালেই হবে।তা প্রথমে হোক বা শেষে হোক।

(১০)
মূল বিষয় হল,কাপড় থেকে নাজসতকে দূর করা।নাজসত যদি দূর হয়ে যায়,তাহলে তিনবার চিপানো জরুরী নয়।তবে এর পরও তিনবার চিপা উত্তম।

(১১)
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/1282


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (170,760 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। 

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...