আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
135 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
১) আমরা নবীজিকে নিয়ে যখন ইসলামিক নাশিদ গেয়ে থাকি যেমন
উর্দু নাশিদ (নাবি আপকো মে নে দেখা নাহি হে) আবার
নাবিউন্নবী নাবি..উন নাবী....

এই নাশিদগুলো বলার সময় সাথে সাথে তো নবীর নাম অন্তত আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলা সম্ভব হয় না। তাহলে নাশিদটার সুর মিলানো সম্ভব না।

সাথে সাথে যদি { ﷺ } না বলে তাহলে কি গুনাহ হবে? নাকি নাশিদ গাওয়ার শেষে দুরুদ পড়ে নিলেই হবে ?


২) বালেগ হওয়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ রোজা ভেঙেছিলাম। কিন্তু তখন তো কাজা-কাফফারা সম্পর্কে জানতাম না। এই রোজার জন্য কি এখন কাফফারা করতে হবে ?


৩) আর বালেগা হওয়ার আগে না বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে খাবার খেয়ে রোজা ভেঙেছিলাম কিন্তু কেউ জানে নি । সবাই জেনেছিল তখন রোজাটা রেখেছিলাম। এজন্য কি গুনাহ হয়েছে? বা কাযা করতে হবে?


৪)) ক্লাস এইটের পরীক্ষার পর মনে মনে বলেছিলাম সুরা ইয়াসিন মুখস্ত করব । কিন্তু পরবর্তীতে দশ আয়াত মুখস্ত করার পর অবহেলা করে আর করিনি ,, এটার বিধান কি ?

৫) আমি দূরের জিনিস কিছুটা কম দেখি তাই চশমা নিয়েছিলাম, কিন্তু বিয়ের জন্য দেখতে আসলে সবাই আমাকে চশমা না পড়ে তাদের সামনে যেতে বলতো। আর সমস্যাটা তেমন গুরুতরো নয় আমি বর্তমানে ৩.৫-৪ বছর ধরে চশমা পড়া ছেড়ে দিয়েছে, যেন কেউ বলতে না পারে চশমা রেখে পাত্রপক্ষের সামনে যাও। কিন্তু আমি তো জানি আমার চোখে একটু সমস্যা আছে, তাহলে পাত্রপক্ষের কাছে এই বিষয়টা গোপন রাখলে কি গুনাহ হবে? স্বাভাবিক ভাবে কেউ বুঝতে পারবে না যে আমার চোখে সমস্যা আছে।


৬) অনেক সময় শুক্রবার উপলক্ষে ফেসবুকে স্টোরি দিয়ে থাকি জুমাহ রিমাইন্ডার হিসেবে সূরা কাহাফ দুরুদ ইস্তেগফার বেশি দোয়া করা ইত্যাদি..

কিন্তু যদি আমি কোন কারণে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করতে পারলাম না,, কিন্তু স্টোরি যে দিয়েছি এর জন্য কি আমার গুনাহ হবে???
অনুরূপ কোন গ্রুপে আমি পোস্ট করলাম , কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছিলাম তাই সেই টা আর করতে পারিনি এর বিধান কি?

৭) আমি যেন মৃত্যুর পর ও সওয়াব পাই তার জন্য আমার নামে একটা,আমার বাবা - মা যেন সারাজীবন সওয়াব পায় তাদের জন্য দুইটা, এবং মৃত দাদা- দাদীর নামে দুইটা কোরআন এর জন্য*খইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন* টাকা প্রদান করি তাহলে কি আমি এবং আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী সারাজীবন এবং মৃত্যুর পর ও সওয়াব পাবো?

৮) কলেজ লাইফে আমার কিছু ছেলে ফ্রেন্ড ছিল,, তাদের কিছু দোষ যেমন তারা কাদের সাথে রিলেশনে আছে ইত্যাদি.. আমার খালামনির সাথে শেয়ার করতাম। যেহেতু দোষ বলতাম, তার মানে তো গীবত হয়েছে। কিন্তু তাদের সাথে এখন আমার আর কথা বলা সম্ভব না। যথা সম্ভব এড়িয়ে চলি,ক্ষমা চাওয়াও সম্ভব না। কারো কারো সাথে টোটালি কথা বন্ধ করে দিয়েছি । তাহলে এখন আমার করনীয় কি ?


৯) আমার এক আত্মীয়র বিয়ের জন্য আমার ক্লাসের এক বান্ধবীর কথা বলেছিলাম কিন্তু বান্ধবীর এক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল ,সেটাও বলেছি , এটা বলা কি আমার গীবত হয়েছে ?


১০) পাত্র পাত্রী দেখতে গেলে অনেকেই বলে মেয়ে একটু খাটো/কালো কিংবা ছেলে একটু খাটো ইত্যাদি... এসব বললে কি গুনাহ হবে ?

১১) টিউশনিতে আমার এক স্টুডেন্ট আট দিন বন্ধ করেছে স্বাভাবিকভাবে যেহেতু টিচার সেই বন্ধটা করেনি তাই পুরো মাসের বেতন নেয়। এক্ষেত্রে আমার কি পুরো মাসের বেতন নিলে পাপ হবে? যেহেতু বন্ধটা আমি করিনি সে নিজে করেছে।

১২) আমি এক জায়গায় থেকে একটা আমল শিখেছিলাম ,

১০০ বার দুরুদ শরীফ,

৪৯৯ বার লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ,

তারপর যখন ৫০০ বার হবে,তখন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিউল আজিম , পরার পর আবার ১০০ বার দুরুদ শরীফ , পরে দোয়া করলে, ইনশাআল্লাহ সেই দোয়া কবুল হবে,, এটা কি সহীহ?

১৩) মৃত্যু ব্যাক্তিদের পক্ষ থেকে কি যিকির করা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
এক্ষেত্রে রাসুলের নাম উচ্চারণ করা হলে এক বার দরুদ পাঠ ওয়াজিব,পরবর্তী বার গুলোতে মুস্তাহাব।

যদি ওয়াজিব তরক করা হয়,সেক্ষেত্রে গুনাহ হবে। 

(০২)
রোযার কাফ্ফারা সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন

عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : ( بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ قَالَ مَا لَكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي وَأَنَا صَائِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تَجِدُ رَقَبَةً تُعْتِقُهَا قَالَ لا قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لا فَقَالَ فَهَلْ تَجِدُ إِطْعَامَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لا قَالَ فَمَكَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقٍ فِيهَا تَمْرٌ وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ ( وهو الزنبيل الكبير ) قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ فَقَالَ أَنَا قَالَ خُذْهَا فَتَصَدَّقْ بِهِ فَقَالَ الرَّجُلُ أَعَلَى أَفْقَرَ مِنِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَ اللَّهِ مَا بَيْنَ لابَتَيْهَا يُرِيدُ الْحَرَّتَيْنِ أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ أَطْعِمْهُ أَهْلَكَ

আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পাশে বসা ছিলাম,তখন একব্যক্তি এসে বলল,হে রাসূলুল্লাহ সাঃ আমি ধংস হয়ে গেছি।রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তোমার কি হয়েছে?তিনি বললেন, আমি রোযা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তুমি কি কোনো গোলাম পাবে যাকে তুমি কাফ্ফারা হিসেবে আযাদ করবে?সাহাবী বললেন,আমি সক্ষম নই।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তাহলে কি তুমি ধারাবাহিক দুই মাস রোযা রাখতে পারবে?তিনি বললেন, না,এতে ও আমি সক্ষম নই।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,তাহলে কি তুমি ষাটজন মিসকিন আহার করাতে পারবে?তখন তিনি বললেন,না,এতে ও আমি সক্ষম নই।রাসূলুল্লাহ সাঃ স্বস্থানেই নিরবে বসে থাকলেন।রাবী আবু হুরায়রা রাযি বলেন,আমরা এভাবেই আমরা স্ব স্ব স্থানে বসে রইলাম।তৎক্ষনাৎ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট এক আ'রাক্ব পরিমাণ খেজুর আসল,তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়?সাহাবী বললেন,জ্বী হুুজুর এই তো আমি।তুমি এগুলো নাও,এবং সদকাহ করো।তখন ঐ সাহাবী বললেন হে রাসূলুল্লাহ সাঃ আমি কি আমার থেকে মুহতাজ ব্যক্তিকে সদকাহ করবো?আল্লাহর কসম!মদিনা বাসীদের মধ্যে আমার থেকে গরীব লোক আর কেউ নেই।এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাঃ হেসে ফেললেন, এমনকি উনার দাত বেড়িয়ে পড়ল।অতপর রাসূলুল্লাহ সাঃ ঐ সাহাবীকে বললেন তাহলে তুমি তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও।
{সহীহ বুখারী(ফতহুল বারী নসখা)-১৯৩৬ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}

কেহ যদি রোযার কাফফারা স্বরুপ লাগাতার ৬০ টি রোযা রাখতে শক্তি না রাখে,তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবে।
,
নতুবা একজন মিসকিনকে ৬০ বেলা খাবার খাওয়াবে।
বা ৬০ টি ছদকায়ে ফিতর আদায় করবে।
ছদকায়ে ফিতর এর পরিমান বর্তমানে আনুমানিক ৬০ টাকা করে হলে ৬০ টি ছদকায়ে ফিতর সমপরিমাণ টাকা কোনো গরিব বা মিসকিনকে দিতে হবে।
,
আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার উপর সেই রোযাগুলির কাজা ও কাফফারা আবশ্যক হবে।

পূর্ব যেহেতু আদায় করেননি,তাই এখন আদায় করবেন।

(০৩)
নাবালেগ হওয়ায় গুনাহ হবেনা।
কাজা আবশ্যক হবেনা।

(০৪)
কোন সমস্যা হবে না।

৫) প্রশ্নের বিবরন মতে পাত্রপক্ষের কাছে এই বিষয়টা গোপন রাখলে গুনাহ হবেনা।

৬) এর জন্য আপনার গুনাহ হবেনা।

৭) সেই টাকা দিয়ে কুরআন ক্রয় করা হলে সেক্ষেত্রে মৃত্যুর পরেও ছওয়াব পাবেন।

৮) আপনার খালামণি যদি তাদেরকে না চেনে সে ক্ষেত্রে আপনার গুনাহ হবে না।

৯) এতে আপনার গুনাহ হবেনা।

১০) এতে সেই পাত্র/পাত্রী কষ্ট পেলে সেক্ষেত্রে যে এই কথা বলেছে,তার গুনাহ হবে।

১১)  এক্ষেত্রে আপনার পুরো মাসের বেতন নিলে গুনাহ হবেনা।

১২) এমন কোন আমলের কথা কোরআন হাদিসের কথাও পাইনি। তবে এটি কোন বুযুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতা স্বরূপ আমল হতে পারে।

তাই সংখ্যাগুলোকে আবশ্যকীয় মনে না করে দ্বীনের জরুরী বিধান বলে মনে না করে আমলটা করতে পারেন।

১৩) মৃত্যু ব্যাক্তিদের পক্ষ থেকে  আল্লাহর নামে যিকির করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
৮) আমার খালামনি তাদেরকে শুধুমাত্র নামে চিনে, কখনো সামনাসামনি দেখেনি, এক্ষেত্রে কি গুনাহ হবে
by
৮নং প্রশ্নে তাদেরকে শুধুমাত্র নামে চিনে, কখনো সামনাসামনি দেখেনি, এক্ষেত্রে কি গুনাহ হবে
by (770,460 points)
আপনার খালামণি যেহেতু তাদের পরিচয় জানে, সেক্ষেত্রে এটি গীবত হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...