আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
2 views
ago in পবিত্রতা (Purity) by (2 points)

আমি অনেক কষ্টে স্মরন করে করে লিখছি সঠিকভাবে ইবাদাত করতে পারার আশায়, উত্তর পাওয়ার আশায়। দয়া করে সবটা ভাল করে পড়ে উত্তর দিয়েন। 

আগের প্রশ্নে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন  যে একজন মহিলা গাইনি ডাক্তারকে দেখাতে। আমি দেখিয়েছিলাম।কিন্তু ডাক্তারি মতে উনারা শুধু রক্তস্রাবকেই হায়েজ ধরে।যেহেতু আমার ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিমাসেই নিদিষ্ট সময়ে হায়েজের সব বৈশিষ্টসহ রক্তস্রাব হয় ,তাই উনি বলেছেন আমার হায়েজ একদম স্বাভাবিক ও নিয়মিত। আর বলেছেন হাল্কা হলদে স্রাবের যে ব্যাপারটা সেটা ইনফেকশনের জন্য । তাই ফিকহি বিষয়ে জানার জন্য আমার আপনাদের কাছে ছাড়া আর কোন উপায় নেই

আমি আগে কিছু বিষয় বুঝতে পারছিলাম না। এখন বুঝেছি ।  এবং হায়েজ ইস্তিহাজা নিয়ে জানার সময় জানতে পারলাম যে এগুলো মুলত ব্যক্তির পূর্বের অভ্যাস ও রঙ এর উপর নির্ভর করে।

আমার প্রায় ২৮ বছরের জীবনে,  হায়েজ শুরু থেকে নিয়মিত হত। তবে শুরু থেকে হায়েজ কতদিন চলত, পবিত্রতাকালের অভ্যাস কতদিন থাকত এটা গনা হই নাই, লিপিবদ্ধ ও করা নাই। এগুলো বিষয়ে জানতাম না তখন।

গত প্রায় ১ বছরের বেশি সময়  যাবত খেয়াল করছি আমার প্রতিমাসের নিদিষ্ট রক্তস্রাব শেষ হওয়ার পর কিছু দিন সাদাস্রাব চলে, তার পরে থেকেই হাল্কা হলুদ স্রাব আসে, এই স্রাব লজ্জাস্থানের ছিদ্রের মুখের বাইরে পাই তবে পরিমানে অল্প হওয়ায় তা কখনও উরুর চামড়ায়, পায়জামায় এসে কখনো লাগে না।

ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এর ৭ তারিখ আমার হায়েজ হয়।তাই মার্চের ৭ তারিখ স্রাব দেখে সন্দেহ হলে আমি স্রাব টিস্যুতে নিয়ে চেক করলে হাল্কা হলুদ দেখতে পাই। টিস্যুতে না নিলে নিশ্চিত বোঝা যায় না ।তবে আমার ধারনা টিস্যুতে ধরা পরার আরও অনেক মাস আগে থেকেই প্রতি মাসে্র নিদিষ্ট রক্তস্রাবের  আগে কিছুদিন এমন  হয়ে আসছে । কারন আরও প্রায় দের বছর আগেই আমি এমন স্রাব দেখেছিলাম। কিন্তু এগুলো বিষয়ে জানতাম না তখন।

 প্রথম কবে থেকে এই হাল্কা হলদে স্রাব আসা শুরু হয়েছে আমি জানি না। আবার জীবনের শুরু থেকে আমার হায়েজের তারিখও লিপিবদ্ধ করা নেই। 

তবে নিচে আমি গত ৯ মাসের রক্তস্রাব ও হাল্কা হলদে স্রাবের সময় লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা  করেছিঃ 

আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৫ঃ
রক্তস্রাবঃ  ২৭ আগস্ট রাত- সেপ্টেম্বর ৫ (শেষের তারিখ ১ দিন আগেও হতে পারে।
এরপর হাল্কা হলদে স্রাব শুরুঃ আনুমানিক সেপ্টেম্বর  ১৭ - সেপ্টেম্বর ২৬ তারিখ রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫ঃ 
আবার রক্তস্রাবঃ
 সেপ্টেম্বরের ২৬ তারিখ- অক্টোবরের ৪ (শেষের তারিখ ১ দিন আগে পিছে হতে পারে)

[নোটঃ (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) ও (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২১ তম দিনের বিরতি ছিল]

আবার হাল্কা হলদে স্রাব শুরুঃ এটার তারিখ মনে নাই।  আনুমানিক  অক্টোবর- ১৮-২৬ অক্টোবর  রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হতে পারে।
অক্টোবর-নভেম্বর ২০২৫ঃ
রক্তস্রাবঃ
 অক্টোবর ২৬ - নভেম্বর ৩ তারিখ পর্যন্ত

নোটঃ(সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ও (অক্টোবর-নভেম্বর) উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২২ তম দিনের বিরতি ছিল।

হাল্কা হলদে স্রাবঃ নভেম্বরের ২৭- ডিসেম্বরের ৬ তারিখ রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত
নভেম্বর- ডিসেম্বর ২০২৫ঃ
রক্তস্রাবঃ
নভেম্বরের শেষে আর রক্তস্রাব হয়নি । 
ডিসেম্বর ২০২৫ঃ
রক্তস্রাবঃ
ডিসেম্বর ৬- ডিসেম্বর ১৩

[নোটঃ (অক্টোবর-নভেম্বর) ও (ডিসেম্বর) উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ৩৩ তম দিনের বিরতি ছিল।]

হাল্কা হলদে স্রাবঃ ডিসেম্বরের ৩০- ৪ জানুয়ারী রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত
জানুয়ারী ২০২৬ঃ
রক্তস্রাবঃ
জানুয়ারী ৪-১১ (শুরুর তারিখ ১ দিন আগে পিছে হতে পারে)

[নোটঃ (ডিসেম্বর) ও (জানুয়ারী ) উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২১ তম দিনের বিরতি ছিল।]

হাল্কা হলদে স্রাবঃ জানুয়ারীর কত তারিখ থেকে আবার শুরু হয়েছিল মনে নাই। আনুমানিক  জানুয়ারী ২১/২২ তারিখ থেকে হতে পারে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ
রক্তস্রাবঃ
ফেব্রুয়ারি ৩-১০ 

[নোটঃ (জানুয়ারী ) ও (ফেব্রুয়ারি)  উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২২ তম দিনের বিরতি ছিল।]
 

হাল্কা হলদে স্রাবঃ ঠিক মনে নাই। আনুমানিক ফেব্রুয়ারি ২৩/২৪ - ১২ মার্চ রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত হতে পারে
মার্চ ২০২৬ঃ
রক্তস্রাবঃ
১২-১৮ মার্চ 

[নোটঃ (ফেব্রুয়ারি) ও (মার্চ)  উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২৯ তম দিনের বিরতি ছিল]

হাল্কা হলদে স্রাবঃ শুরু হয়েছে মার্চ ২৬ - ৭ এপ্রিল রক্তস্রাব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত 
এপ্রিল ২০২৬ঃ
রক্তস্রাবঃ
৭- ১৪ এপ্রিল

[নোটঃ (মার্চ) ও (এপ্রিল)  উপরের এই ২ রক্তস্রাবের মাঝে ২০/২১ তম দিনের বিরতি ছিল। ]

আবার হাল্কা হলদে স্রাবঃ শুরু হয়েছে এপ্রিল ২৫ তারিখ থেকে চলমান

উপরের ৯ মাসের রক্তস্রাবের তারিখগুলো থেকে পাশাপাশি ২ রক্তস্রাবের  যে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল ( ২১ দিনের বিরতি ,২২ দিনের বিরতি, তারপর ২৯ দিনের বিরতি‌)

আমার শুরু থেকে পবিত্রতাকালের অভ্যাস কতদিন ছিল এটা গনা হই নাই তখন।তবে এটা আমার স্পষ্ট মনে আছে যে হায়েজের শুরু থেকে  আমার পবিত্রতাকালের অভ্যাস এই ধরনেরই ছিল।যদিও গুনে দেখা হয় নাই। তবুও দেখা যেত একদম ঠিক ঠিক তারিখে হয়েছে, বা ১/২ দিন পরা বা ৭ দিন পিছিয়ে গেছে বা আবার কয়েকদিন আগায়ে আসছে।

তবে আমার ধারনা, ২০/২১ তম দিনের আগে সাধারনত আমার হায়েজ হত না(আল্লাহ ভাল জানেন)

আমার হায়েজের অভ্যাস কতদিন ছিল তাও সঠিক জানা নাই।আমার মনে হয় ৮/৯ দিন হায়েজ চলত আর আমার মায়ের মতে ৯/১০ দিন চলত।  আমাদের কারই নিশ্চিত মনে নাই।

তবে আমার এখনকার রক্তস্রাবের (ধরন-রং-পরিমান) পুরোপুরি ছোটবেলা থেকে হওয়া হায়েজের রক্তের(ধরন-রং-পরিমান) সাথে মিলে। সেটা হলঃ
(কালচে লাল রক্ত, 
গাড়, 
দুর্গন্ধযুক্ত, 
তরল) এবং শুরু থেকে আমার হায়েজের রক্তের রঙ -ধরন- পরিমান সব এমনই ছিল ।

অপরদিকে হাল্কা হলদে যে স্রাব পাই তার ধরন
(হাল্কা হলদে, টিস্যুতে না নিলে নিশ্চিত বোঝা যায় না শুধু মাঝে মাঝে পাওয়া যায়,
একেবারে তরল না কিছুটা মাখনের মত বা কখনও জমাট জেলি বা সুতার মত, 
দুর্গন্ধহীন, আবার কখনও কখনও সাথে সাদা স্রাবও থাকে), এই স্রাব লজ্জাস্থানের ছিদ্রের মুখের বাইরে পাই ,  তবে পরিমানে অল্প হওয়ায় উরুর চামড়ায়, পায়জামা পর্যন্ত কখনই আসে না।

প্রশ্ন ০১ঃ উপরের সব বর্ণনা বিশ্লেষণ করে আমি কি তাহলে এক রক্তস্রাবের ২১ তম দিনের পরে যেদিন থেকে আবার রক্তস্রাব দেখব সেদিন থেকে হায়েজ গননা করব?

প্রশ্ন ০২ঃ নাকি ২১ দিন বিরতি,২২ দিন বিরতি,২৯ দিন বিরতি এটাকেই অভ্যাস ধরে , এই অভ্যাস অনুসারে যখন রক্তস্রাব দেখব তখন থেকে হায়েজ ধরব?

প্রশ্ন ০৩ঃ নাকি এক রক্তস্রাবের পরে কয়েকদিন সাদাস্রাব থাকার পর, কয়েকদিন পরেই যে  হাল্কা হলদে স্রাব দেখি সেটাকে হায়েজ ধরব? ধরলেও কিভাবে পবিত্রতাকাল ও হায়েজের দিন হিসাব করব? যেহেতু আমি নিশ্চিত না ঠিক কবে থেকে আমার প্রথম এমন শুরু হয়েছে। এবং হায়েজ কতদিন চলত, পবিত্রতাকালের অভ্যাস কতদিন থাকত এটা গনা হই নাই।

প্রশ্ন ০৪ঃ যদি হাল্কা হলদে এই স্রাবকে হায়েজ ধরতেই হয় তবে তো প্রতিমাসের নিদিষ্ট তারিখে যে রক্তস্রাব হয় তাকে দেখা যাবে ইস্তিহাযা ধরতে হবে।অথচ আমার শুরু থেকে হওয়া হায়েজের রঙ পরিমান অভ্যাসের সাথে সব মিল আছে এই রক্তস্রাবের। তবুও এই রক্তস্রাবকে ইস্তিহাযা ধরে নামায ,রোজা চালিয়ে যাওয়া  বাস্তবতা ও শরিয়তের সাথে কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

প্রশ্ন ০৫ঃ আমার মনে হচ্ছে কবে হায়েজ ,কবে পবিত্রতা সঠিক জানা নাই, সঠিক হিসাব নাই। আমি এত হতভাগা আল্লাহর ইবাদত্তুকু নিশ্চিন্ত মনে করতে পারছি না।পুরা দিশাহীন অবস্থায় আছি। এই অবস্থায় আমার কি বিয়েতে হ্যাঁ বলে দেয়া উচিত?(আমার জন্য বিয়ে ফরয হয়ে গেছে সম্ভবত, অথচ এটাতেও হায়েজ , পবিত্রতার হিসাবের চিন্তায় আমি অর্ধমৃত হয়ে যাচ্ছি)। বিয়ের জন্য অন্য কোন শারীরিক মানসিক অসুবিধা নাই আলহামদুলিল্লাহ। আমি স্বাভাবিক জীবন চাই, নিশ্চিন্তে আল্লাহর ইবাদাত করতে চাই। আমাকে পরামর্শ দেন দয়া করে।

Please log in or register to answer this question.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...