আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
20 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম।
১.ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফজরের নামায পরে যায়।এন্ড এমন টাইমে ওয়াক্ত পড়ে যায় যে সময় ট্রেন থামে না।ওযু ধরে রাখা সম্ভব না কারণ এশা পড়েই ট্রেনে উঠতে হয় আর ট্রেনে না ঘুমালে শরীর খারাপ লাগে।আমি ওযু করেছিলাম সিটে বসে।আমার সাথে গোসলের মগ ছিলো।বোতলে পানি নিয়ে মগে ওযু করেছিলাম।চলন্ত অবস্থায় ওযু করাটা টাফ হয়ে যায়।পানি ছড়িয়ে যায়।আর আশেপাশে মানুষ থাকে।পর্দা নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।আমি সিট চাদর দিয়ে ঢেকেছিলাম।তাও আমার মনে হয়েছে যে পর্দা নষ্ট হয়েছে।চাদর দিয়েও প্রোপারলি ঢাকা সম্ভব হয়না।সব মিলে আমার কাছে কষ্টকর মনে হয়।আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমি করেছি তাও মনে হয়েছে পর্দা নষ্ট হয়েছে।কারণ পিছন সিট থেকে সামনের জন কি করছে দেখা যায়। ট্রেনের ওয়াশরুমে যাওয়া পসিবল না।আমি পারব না আরকি।অনেক বাজে অবস্থা।এই অবস্থায় কি তায়াম্মুম করা যাবে?নাকি পর্দা নষ্টের আশংকা থাকলেও ওযু করে নিব?

২।শীতকালে সোয়েটার খোলা তো পসিবল না ট্রেনের ভিতর।আর আমার কোল্ড এলার্জি।ঠান্ডা পানি ইউজ করলেই আমার জ্বর আসে।ডাক্তার সবসময় গরম পানি ইউজ করতে বলেছেন।আর ট্রেনে ওযু করলে পানি ছড়ায়।শীতকালে কিভাবে ওযু করব ট্রেনের ভিতর?তায়াম্মুম করতে পারব কি না?

1 Answer

0 votes
ago by (808,470 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।(সূরা নিসা-১০৩)

পুরুষ-মহিলার সবার উপরই নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়া ফরয।সুতরাং সফরকালীন সময়ে পরিপূর্ণ পর্দা থাকা অবস্থায় মহিলারা যেকোনো জায়গায় নামায পড়তে পারবে।তবে প্রথমে মহিলাদের জন্য নির্মিত মসজিদ বা নামাযের স্থান কিংবা ফিৎনামুক্ত নির্জন জায়গা খুজতে হবে।যদি না পাওয়া যায়,তাহলে ফ্রি মিক্সিং পরিবেশ নয় এমন কোথাও নামায পড়তে হবে।যদি সেরকম কোনো জায়গাও খুজে না পাওয়া যায়,তাহলে পুরুষরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর পুরুষদের মসজিদে গিয়ে নামায পড়া যাবে।যদি পুরুষদের বাহির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব না হয়, তাহলে পুরুষদের সাথে পুরুষদের কাতারের পরবর্তী কাতারে শরীক হওয়া যাবে।

যদি সেরকমও কোনো জায়গা খুজে না পাওয়া যায়,তাহলে পূর্ণ পর্দার সাথে রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, যাত্রীচাউনি ইত্যাদিতেও নামায পড়তে হবে।নামাযের কোনো মাফ নেই।এ ব্যাপারে  শীতিলতাকে শরীয়ত কখনো বরদাশত করবে না।(কিতাবুন-নাওয়াযিল-৫/৫২৯)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1728

যানবহনে নামায পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/573

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(২) আপনি যথাসম্ভব অজু করে নামায পড়ার চেষ্টা করবেন। এবং যত্নসহকারে পর্দারও খেয়াল রাখবেন।
(২) শীতকালে সোয়েটার খোলা যদি সম্ভব না হয়, এবং কোল্ড এলার্জির দরুণ ঠান্ডা পানি ইউজ করলে জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে, এবং গরম পানির ব্যবহার সম্ভব না হয়, তাহলে তখন তায়াম্মুম করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 421 views
...