আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
126 views
in পবিত্রতা (Purity) by (2 points)

আমি একজন অবিবাহিত মেয়ে। বর্তমানে বিয়ের কথা চলছে। কিন্তু আমি খুব ভীত। আমি আশংখা করছি যে আমি হয়ত স্বামীর হক পুরোপুরি আদায় করতে পারব না। কেননা কিছু পরিস্থিতির কারনে আমি আমার হায়েজের সময় কখন থেকে ধরব তা বুঝতে পারছি না। আমি বহুবার জানার চেষ্টা করেছি । আমার পরিস্থিতি এবং হায়েজের এত এত ফাতয়া দেখে আমি শুধু হতাশ। আমাকে একটু সহজ ভাষায় বুঝতে সাহায্য করেন দয়া করে।

১ নং অবস্থাঃ আমার হায়েজ শুরু থেকেই নিয়মিত আলহামদুলিল্লাহ। এখনও প্রতিমাসেই রক্তস্রাব হয় নিদিষ্ট সময়েই বা তার সামান্য কয়েকদিন আগে পিছে। এবং রক্তস্রাব যখন হয় তখন হায়েজের সব বৈশিষ্ট থাকে , যেমন কালচে ধরনের রক্ত, গাড় দুরগন্ধ যুক্ত,তরল রক্ত। কিন্তু বেশকিছুদিন যাবত খেয়াল করছি যে রক্তস্রাবের নিদিষ্ট সময়ের ১২/১৪ দিন আগে থেকেই লজ্জাস্থান পরিস্কার করতে নিলে হঠাৎ মাঝে মধ্যে হাতে ঘনজেলি টাইপ সাদা স্রাব পাই তা টিস্যুতে নিলে হাল্কা হলদে দেখায়। কিন্তু এই স্রাবের পরিমান খুবই সামান্য আর এত ঘন যে এটা লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে আসে না অর্থাৎ আমি যদি প্যাড পড়ে থাকি তবুও স্রাব প্যাড পর্যন্ত আসবে না। শুধু যোনিমুখ বা তার আশেপাশে বা লোমহীন নরম চামড়ার(labia minora) ভিতরের দিকে গায়ে লেগে থাকে। এর পর রক্তস্রাব শুরু হয় নিদিষ্ট সময়েই বা তার সামান্য কয়েকদিন আগে পিছে। তরল রক্তস্রাব ৬/৭ দিন চলে এবং রক্তস্রাব যখন হয় তখন হায়েজের সব বৈশিষ্ট থাকে (কালচে ধরনের রক্ত, গাড় দুরগন্ধ যুক্ত,তরল রক্ত। ) । আমার যতদূর মনে পড়ে, আমার ছোট থেকেই এমন ধরনের সাদা স্রাবই থাকত হায়েজের আগে। শুধু আমি আগে কখনো টিস্যুতে নিয়ে দেখিনি। তবুও আমি ২ জন মুসলিম মহিলা ডাক্তারকে দেখাইছি তারা বলছে এটা আমার ইনফেকশনের কারনে এবং আরো কিছু সমস্যা আমার আছে যেমন লিউকরিয়া,পিসিওডি।
প্রশ্ন ১) এক হায়েজের ১৫ দিন পরে যদি, হুবুহু আমার উপরের বর্ণনা মত,(একদম ঘন জেলির মত, খুবই সামান্য পরিমানে) হাল্কা হলদে স্রাব পাই( যা লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে আসে না মানে প্যাড পর্যন্ত কোনভাবেই আসে না )। তবুও কি আমার এই হাল্কা হলদে স্রাবকে হায়েজ ধরতে হবে? নাকি না? এটা জানতে চাই শুধু।

২ নং অবস্থাঃ আমার রক্তস্রাব শুরু হওয়ার ১ বা ২ দিন আগে ঘনজেলির মত বাদামি বা কাল বা গাড় লাল স্রাব পাই লজ্জাস্থান পরিস্কারের সময়। এটাও খুব সামান্য।যা লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে আসে না মানে প্যাডে কিছুই লাগে না। কিন্তু আমি তখনই নিশ্চিত হয়ে বুঝতে পারি যে ১ বা ২ দিন পরে আমার ভারি তরল স্রাব (কালচে ধরনের রক্ত, গাড় দুরগন্ধ যুক্ত,তরল রক্ত) শুরু হবে।

প্রশ্ন ২) ১ নং প্রশ্নের উত্তর "না" হলে, রক্তস্রাব শুরু হওয়ার ১ বা ২ দিন আগে যখন ঘনজেলির মত বাদামি বা কাল বা গাড় লাল স্রাব পাই কিন্তু প্যাডে কিছুই লাগে না।তাহলে তখন থেকে কি হায়েজ ধরব?

৩ নং অবস্থাঃ ২ নং অবস্থার বর্ণনার কিছু ওয়াক্ত পরে প্যাড চেক করলে তখনো প্যাডে কোন দাগ লাগে না কিন্তু ল্যাবিয়া মাইনরা খুলে হাত দিলে জেলির মত স্রাবের সাথে কিছুটা তরল রক্তও তখন পাওয়া যায়। কখনো দেখা যায় তখন প্রসাব করলে প্রসাবের শেষের দিকে কিছুটা তরল রক্ত বা কিছুটা রক্তের ময়লার মত কণা ভেসে যায় সাথে।

প্রশ্ন ৩) উপরের ২ নং প্রশ্নের উত্তরও যদি "না" হয়। তাহলে কি ৩ নং বর্ণনায় যখন প্রসাবের শেষের দিকে কিছুটা তরল রক্ত বা কিছুটা দলাদলা কণা ভেসে যায় সাথে দেখব,তখন থেকে হায়েজ ধরব?

৪ নং অবস্থাঃ ৩ নং অবস্থার ১ বা ২ ওয়াক্ত পরে থেকে আমার ভারি তরল রক্তস্রাব শুরু হয় এবং নিজে থেকে রক্ত লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে প্যাডে এসে পরে। এবং এই সময় থেকে হায়েজ ধরলে আমার ৬/৭ দিন চলে।আর ২ নং অবস্থার, ঘনজেলির মত (বাদামি বা কাল বা গাড় লাল) স্রাব দেখার সময় থেকে হায়েজ ধরলে ৮/৯ দিন হায়েজ চলে।

প্রশ্ন ৪) উপরের সবগুল প্রশ্নের উত্তর যদি "না" হয় তবে হায়েজ নিশ্চিত হওয়ার মূলনীতি কি এটাই যে রক্ত যখন নিজে থেকে ৪ নং অবস্থার মত লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে প্যাডে এসে পরে তখন থেকেই কেবল হায়েজের শুরু ধরতে হবে?
 বিয়ের ব্যাপারও তো এসবের সাথে জরিত।আমি চাই না আমার জন্য কারও হক নষ্ট হোক বা কারও গুনাহ হোক।তাই আমি খুব ভীত হয়ে আছি। আমার প্রতি মাসে এরকম হয়।আসলে কোন ওয়াক্ত থেকে আমি নামাজ বাদ দিব এটা নিয়ে খুব দ্বিধায় থাকি। আমাকে একটু পরিস্কার সহজভাবে বুঝায়ে দেন প্লিজ।
আল্লাহ আপনাদের এর বিনিময়ে অনেক অনেক উত্তম প্রতিদান দান করুন আর আমার জন্য সহজ করুন।আমিন

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মেয়েদের সাদা স্রাব নাপাক।

তরল বা স্রাব বের হয়ে যদি পায়জামায় লাগে,তাহলে যদি এক দিরহাম চেয়ে কম লাগে,তাহলে ঐ পায়জামা পরে নামাজ হবে,আর যদি এক দিরহাম বা তার চেয়ে বেশি লাগে,তাহলে সেই পায়জামা পড়ে নামাজ হবেনা।
,  
হাদীস শরীফে এসেছেঃ

قَالَ عَطَاء  ;تَوَضَّأْ مِنْ كُلِّ حَدَثٍ مِنَ الْبَوْلِ، وَالْخَلَاءِ، وَالْفُسَاءِ، وَالضُّرَاطِ، وَمِنْ كُلِّ حَدَثٍ يَخْرُجُ مِنَ الْإِنْسَانِ

হযরত আত্বা রহঃ বলেন, অযু কর প্রত্যেক হদসের কারণে। যেমন পেশাব, পায়খানা, বায়ু বের হওয়া শব্দসহ বা শব্দ ছাড়া। প্রতিটি বস্তু যা মানুষের শরীর থেকে বের হয়। [মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক-১/১৩৯, হাদীস নং-৫২৭]

বারবার বের হলে নামাজের আগ দিয়ে সেটি চেঞ্জ করতে হবে।

সুবিধা হয়,নামাজের জন্য আলাদা পায়জামা রাখলে।
যেটি উক্ত মেয়ে নামাজের আগে পরিধান করে পরবে।
 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত,  নিশ্চয় রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّمَا الْوُضُوءُ مِمَّا خَرَجَ ، وَلَيْسَ مِمَّا دَخَلَ
শরীর থেকে যা কিছু বের হয় এ কারণে অযু ভেঙ্গে যায়, প্রবেশের দ্বারা ভঙ্গ হয় না। (সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী ৫৬৮)

https://www.ifatwa.info/2142 নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হানাফি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামীতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যখ্যা বর্ণিত রয়েছে।
في الدرالمختار-ج:١ـص:١٣٤
(وينقضه) خروج منه كل خارج (نجس) بالفتح ويكسر (منه) أي من المتوضئ الحي معتادا أو لا، من السبيلين أو لا (إلى ما يطهر) بالبناء للمفعول: أي يلحقه حكم التطهير. ثم المراد بالخروج من السبيلين مجرد الظهور وفي غيرهما عين السيلان ولو بالقوة، لما قالوا: لو مسح الدم كلما خرج ولو تركه لسال نقض وإلا لا، كما لو سال في باطن عين أو جرح أو ذكر ولم يخرج،

জীবিত পবিত্রতম কোনো ব্যক্তির প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে অথবা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দিয়ে কোনো নাজাসত বের হলে অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে।চায় স্বাভাবিক কিছু বের হোক বা অস্বাভাবিক কিছু বের হোক।প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে যৎ সামান্য কিছু বের হলেই অজু চলে যাবে।আর অন্যান্য অঙ্গ থেকে শুধুমাত্র নাজাসত প্রবাহিত হলেই অজু ভঙ্গ হবে।চায় জোরে হোক বা আস্তে।কেননা ফুকাহায়ে কিরাম লিখেন,যদি কেউ রক্তকে বের হওয়া মাত্রই যখমের মুখ থেকে মুছে নেয়,যদি উক্ত ছেড়ে দেয়া হত,তবে প্রবাহিত হত,এমন প্রকারের যখমের রক্তের কারণে অজু ভেঙ্গে যাবে।নতুবা অজু ভঙ্গ হবে না।তবে যদি রক্ত যখমের ভিতর দৌড়াদৌড়ি করে ,অথবা চোখ কিংবা পুরুষাঙ্গের ভিতরে দৌড়াদৌড়ি করে,কিন্তু বাহিরে আসে না,তাহলে এমন রক্তের কারণে অজু ভঙ্গ হবে না।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,

(০১) যেহেতু লজ্জাস্থানের বাহিরে কোনো প্রকার স্রাব দেখা যাচ্ছে না, অনুভূত হচ্ছে না, তাই এতেকরে অজু নষ্ট হবে না। এটি হায়েজ নয়।

(০২)

লজ্জাস্থানের বাহিরে না আসলে সেটিকে হায়েজ ধরবেননা।

(০৩) পেশাবের রাস্তা দিয়ে বের হলে সেটি হায়েজ নয়।

(০৪)

হ্যাঁ,  এবং তাহা যদি ৩ দিন ৩ রাত ধরে আসে,সেক্ষেত্রে সেটি হায়েজ।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (2 points)
মাফ করবেন, আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। আমি কি বর্ণনায় ঠিক মত বুঝাতে পারি নাই?

১ নং বর্ণনায় আমি সাদা স্রাব বা অজুর ব্যাপারে জানতে চাই নাই। আমি বলেছি আমার সাদা ধরনের যে স্রাব বের হয় তা টিস্যুতে নিলে হাল্কা হলদে দেখায়। কিন্তু এই স্রাব (একদম ঘন জেলির মত, খুবই সামান্য পরিমানে) বের হয়।
আর এই হাল্কা হলদে স্রাব "লজ্জাস্থানের সীমার বাইরে আসে না মানে প্যাড পর্যন্ত কোনভাবেই আসে না " বলতে বুঝিয়েছি ছিদ্রের(যোনিমুখের) বাইরে আসে ঠিকই তবে তা প্রসাবের রাস্তা ও যোনিমুখকে ঢেকে রাখা নরম চামড়ার  ভিতরের পাশের গায়ে লেগে থাকে। কিন্তু এর বাইরে আসে না। অর্থাৎ লজ্জাস্থানের সীমানার বাহিরে মানে মেয়েরা সাধারনত যেখানে প্যাড পড়ে থাকে সেখানে আসে না তাই প্যাডে কোন স্রাব লাগে না

৩ নং বর্ণনায়, প্রসাবের শেষের দিকে যে প্রসাবের সাথে অল্পকিছু রক্ত ভেসে যায় সেই রক্ত যোনিমুখ থেকেই বের হওয়া। এবং তা প্রসাবের আগেই বের হয়েছিল।কিন্তু প্রসাবের আগে প্যাড চেক করলেও কোন রক্ত প্যাডে লাগে নি।

তাহলে ১ নং ও ৩ নং প্রশ্নের উত্তর কি ঠিক আছে নাকি পরিবর্তন হবে অনুগ্রহ করে জানাবেন
by (770,460 points)
আপনি এ বিষয়গুলো নিয়ে বেশ অনেকদিন ধরেই প্রশ্ন করতেছেন।  আপনার প্রতি পরামর্শ থাকবে আপনি কোন বিজ্ঞ গাইনী মহিলা ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। তাহলে আপনি আশা করি সবকিছু স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 294 views
...