আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
5 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (28 points)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

উস্তাদ, আমার দুজন cousin রয়েছে যাদের বিধান মুসাফির না মুক্বীম তা বিস্তারিত জানতে চাচ্ছিলাম

প্রথমজন,
যার ফেনীর সোনাগাজীতে বাড়ি আছে(ভিটেমাটি যা তার দাদার কাছ থেকে তার বাবা পেয়ে সেই জায়গাতে বাড়ি করেছে, মাঝে মধ্যে এসে ঈদে-চাঁদে ঘুরে যায়), তবে তার জন্মস্থান-বেড়ে ওঠা ঢাকাতে, তবে ভাড়া বাসায় থাকে...ফেনীতে আসলে সদরেই নানাবাড়িতে  ঘুরতে আসে, সোনাগাজী নিজের বাড়ি যায় কিন্তু কম,তার বাবা-মা ছুটিতে সদরে ও থাকে কিছুদিন-আবার গ্রামে সোনাগাজীতেও গিয়ে থাকে কিছুদিন ঘুরতে, আবার এদিকে ভিটেমাটির মালিকানাধীন তার বাবা এখনো, আর উনারও থাকা হয় না সচরাচর, আসেই শুধু ঈদে-চাঁদের বা এমন ছুটির মৌসুমে,-কারণ উনার ও কর্মক্ষেত্র-থাকা সব স্থায়ীভাবে ঢাকা কেন্দ্রিক-ই, এদিকে ফেনী আসলেও ১৫দিনের চেয়ে থাকা হয় কম, আর তার সব কিছুই(আমার cousin) (পড়াশোনা, তার বাবার কর্মক্ষেত্র সব) ঢাকা কেন্দ্রিক, ভবিষ্যতেও যে নিজের নীড়ে ফিরে এসে স্থায়ী হয়ে থাকবে তার ও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে অথবা একদম-ই কম, এক্ষেত্রে সে কি মুসাফির না মুক্বীম গণ্য হবে?

আমার দ্বিতীয় cousin এর মাস'আলা হলোঃ
সে ফেনীতেই জন্ম, ক্লাস টেন শেষ করেই কলেজ লাইফ থেকেই স্ব-পরিবারের সবাই ঢাকায় শিফট হয়, পরিবার ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকে, ফেনীতেও ভাড়া বাসায়-ই থাকতো, তবে তার বাবার যত মূল কাজ সব ফেনী কেন্দ্রিক-ই, যার দরুন বাবা থাকেন ফেনী ভাড়া বাসায়, গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফরহাদনগর, ওখানে পৈত্রিকসূত্রে জায়গায় নিজের টাকায় বাড়ি করে-কিছু অংশ তার ভাইদের(অর্থাৎ আমার cousin-এর চাচা) ও ছিলো, ফেনী ক্যডেটের ঐদিকেও একটি জায়গা তার বাবার আছে, বাকি গ্রামের বাড়িটিতে ভবিষ্যতে থাকা হবে কিনা অনিশ্চিত, এখন আমার cousin-এর যত থাকা-শিক্ষাজীবন সব বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রিক, ফেনী আসলে সদরেই নানাবাড়ি ঘুরতে-থাকতে আসে- ঈদে ছুটিতে ঘুরে যায় ১৫দিনের কম বা বেশি, এখন তার ক্ষেত্রে ফেনীতে আসলে কি হবে-মুক্বীম না মুসাফির?

বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন,

جزاك الله خيرا

1 Answer

0 votes
ago by (763,200 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান হলো ওয়াতনে আসলী (স্থায়ী নিবাস) তে এক দিনের জন্য গেলেও পুরো নামাজ পড়তে হবে।
    
ব্যক্তি নিজের স্থায়ী নিবাসে গেলে কখনো মুসাফির হয়না। স্থায়ী নিবাস বলে এমন স্থানকে-“যেখানে ব্যক্তির বসবাসের জন্য স্থায়ী গৃহ থাকে, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যেখানে সর্বদার জন্য থাকার নিবাস হয়”।

শরীয়তের বিধান হলো কোন স্থানে গিয়ে সেখানে যদি কমপক্ষে পনের দিন থাকার নিয়ত না করে, তাহলেও কসর পড়তে হবে। বেশি দিন থাকার নিয়ত করলে কসর করতে পারবে না।

৭৮ কিলোমিটার হল সফরের দূরত্ব। এর কম নয়। সুতরাং কেউ যদি ৭৮ কিলোমিটার দূরত্বের সফরের নিয়তে বের হয় কেবল সেই ব্যক্তি কসর পড়তে পার। এরচে’কম দূরত্বের সফরের জন্য কসর পড়া জায়েজ নয়।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

সেক্ষেত্রে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কসর করতে হবে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে,

وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ

‘আর যখন তোমরা যমীনে সফর করবে, তখন তোমাদের নামাজ কসর করাতে কোনো দোষ নেই।’ [সূরা নিসা, আয়াত: ১০১]

হাদিস শরীফে এসেছে,

عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِى طَرِيقٍ – قَالَ – فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ. قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِى يَا ابْنَ أَخِى إِنِّى صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ – ﷺ – فِى السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

ইবনে উমর রাযি. বলেন, নিশ্চয় আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সফর করেছি, তিনি মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি আবু বকর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও আমরণ সফরে ২ রাকাতই পড়েছেন। আমি উমর রাযি. এর সাথেও সফর করেছি তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আমি  উসমান রাযি. এর সাথেও সফর করেছি, তিনিও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সফরে ২ রাকাতের বেশি পড়েন নি। আর আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মাঝে রেখেছি উত্তম আদর্শ। (মুসলিম ১৬১১)

ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
يَا أَهْلَ مَكَّةَ ، لا تَقْصُرُوا الصَّلاةَ فِي أَدْنَى مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ
হে মক্কাবাসী! চার বারীদের কমে কসর করবে না। (দারা কুতনী ১/৩৮৭)

ইমাম বুখারি রহ. বলেন,
 وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، يَقْصُرَانِ، وَيُفْطِرَانِ فِي أَرْبَعَةِ بُرُدٍ وَهِيَ سِتَّةَ عَشَرَ فَرْسَخًا

ইবনে উমর রাযি এবং  ইবনে আব্বাস রাযি চার বারীদ সফরের সময় কসর পড়া এবং রোযা ভাঙ্গার কথা বলেছেন। আর সেটি হল, ১৬ ফরসখ। (সহিহ বুখারি, নামায কসর করা অধ্যায়)

★সেই হিসেবে সফরের দূরত্ব দাঁড়াচ্ছে ৪৮ মাইল।

আরো জানুনঃ 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
এক্ষেত্রে আপনার সেই কাজিনের স্থায়ী বাসা কোনটা? সেটি আগে নির্ণয় করতে হবে। 

যদি তিনি ঢাকার বাসা কেই স্থায়ী বাসা হিসেবে ধরে নেন, সেখানে সংসার সন্তান-সন্তানাদিদের কে নিয়ে স্থায়ী ভাবে ঢাকাতেই থাকার নিয়ত করেন,সেক্ষেত্রে ঢাকাতে পূর্ণ নামাজ আদায় করবেন, ফেনীতে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে, সেক্ষেত্রে ফেনীতে কসর নামাজ আদায় করবেন।

(০২)
এক নং প্রশ্নের জবাব দ্রষ্টব্য। 
এক্ষেত্রেও একই জবাব হবে।

فى رد المحتار- (الوطن الاصلى يبطل بمثله) ( قوله إذا لم يبق له بالأول أهل ) أي وإن بقي له فيه عقار قال في النهر : ولو نقل أهله ومتاعه وله دور في البلد لا تبقى وطنا له وقيل تبقى كذا في المحيط وغيره (رد المحتار-كتاب الصلاة، باب صلاة المسافر، مطلب في الوطن الأصلي ووطن الإقامة-2/614)
সারমর্মঃ ওয়াতনে আসলিতে যদি স্থায়ী আর না থাকার নিয়ত করে,এবং  পরিবার সামানা যদি সেখানে আর না থাকে,তাহলে সেটা আর ওয়াতনে আসলি থাকবেনা। 
অন্যথায় সেটা ওয়াতনে আসলি হিসেবেই থাকবে।   

আরো জানুনঃ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...