আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
43 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (49 points)
edited by
১। আরবি ভাষা শেখার জন্য আরবি কথোপকথন শুনা খুব প্রয়োজন। এজন্য আমার আরবি কার্টুন দেখার প্রয়োজন হয়। কোনো আরবি লেকচার দিয়ে এই পর্যায়ে হবে না কেননা এখন আমি যে স্তরে আছি সে স্তরে সহজ সহজ আরবি কথোপকথন শুনতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমি যদি কার্টুন দেখি যাতে মানুষের বা প্রাণির ছবি দেয় যা স্থির বা নড়ে না তবে এটা কার্টুনিক মানুষ বা প্রাণি তাহলে কি এটাও হারাম হবে? আমাকে স্ক্রিনে তাকাতে হয় কেননা আরবি লেখা দেখতে হবে। না দেখলে ভালো করে বুঝতে পারি না। না তাকিয়ে শোনারও উপায় এজন্য নেই। আমি এটা শিক্ষার জন্য দেখতে চাচ্ছি যা আমাদের আরবী টিচার দেখতে বলেছেন আরবিতে দক্ষ হওয়ার জন্য।

২। আমি যে কার্টুন দেখি তাতে গান বাজনা নেই। শুধু আরবিতে কথোপকথন তবে তাতে মানুষের বা প্রাণির ছবি দেয় যা আমার প্রবল ধারণা তারা এআই দিয়ে করে যা স্থির। এই ক্ষেরে কি আমার তা দেখা হারাম হবে? যতটুকু জানি এআই দিয়ে মানুষের ছবি বানানো নাজায়েজ। এইক্ষেত্রে আমি তো দেখছি।

৩। আমি যদি কিছু দিয়ে ঢেকে রাখি মানুষের মুখটা শুধু আর শুধু কথাগুলা শুনি আরবি লেখাগুলো দেখি তাহলেও কি হারাম হবে?

৪। আমার কাছে কয়েকজন সেই কার্টুনের চ্যানেলের লিংক চেয়েছিল তারা আমার সাথে পড়ে। সেই চ্যানেলের লিংক আমার টিচার দিয়েছিলেন দেখার জন্য তারা হয়ত খুঁজে পায়নি এজন্য। আমি তাদেরকে লিংক দিয়েছি। এখন আমার কি এ কারণে গুনাহে জারিয়া হয়ে যাবে? পাপ কাজে সহোযোগিতা হয়ে গেল?

৫। আমি যদি তাদের এখন নিষেধ করি তাহলে তারা যদি না মানে তবুও দেখে। তাহলেও কি আমার গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (762,630 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদিস শরীফে এসেছে,

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى ﷺ يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون

আ’মাশ তিনি  মুসলিম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরুকের  সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম, তিন ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ্  রাযি.-এর নিকট শুনেছি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাআলা কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।’ (বুখারী ২/৮৮০)

সহিহ হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَيُعَذِِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ

‘প্রত্যেক ছবিনির্মাতা জাহান্নামে যাবে, তার নির্মিত প্রতিটি ছবি পরিবর্তে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।’ (বুখারী ২২২৫, ৫৯৬৩, মুসলিম ৫৬৬২)

https://www.ifatwa.info/361 নং ফাতাওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
লাইভ সম্প্রচার জায়েয এটা নিয়ে কোনো মতবিরোধ নেই।রেকর্ড ভিডিও নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।মুফতী তাক্বী উসমানী রেকর্ড ভিডিওকে তাসবীর(যা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম)এর আওতাধীন করতে ইতস্ততাবোধ করেছেন।উনি উনার অমরগ্রন্থ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমে লিখেন,
ﻭﺍﻣﺎ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺍﻟﺘﻰ ﻟﻴﺲ ﻟﻬﺎ ﺛﺒﺎﺕ ﻭﺍﺳﺘﻘﺮﺍﺭ، ﻭﻟﻴﺴﺖ ﻣﻨﻘﻮﺷﺔ ﻋﻠﻰ ﺷﻴﺊ ﻳﺼﻔﺔ ﺩﺍﺋﻤﺔ ﻓﺈﻧﻬﺎ ﺑﺎﻟﻈﻞ ﺍﺷﺒﻪ (ﺍﻟﻰ ﻗﻮﻟﻪ) ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻻ ﺗﺴﺘﻘﻮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﻴﺴﺮﺍ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺸﺎﺷﺔ ﻭﺗﻈﻬﺮ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺑﺘﺮﺗﻴﺒﻬﺎ ﺍﻷﺻﻠﻰ ﺛﻢ ﺗﻔﺘﻰ ﻭﺗﺰﻭﻝ،
ভাবার্থ-ঐ ছবি যার কোনো স্থায়িত্ব বা দীর্ঘতা নেই, এবং যা কোনো জিনিষের উপর স্থায়ী অঙ্কিত ও নয়।সেটা ছায়ার অধিকতম নিকটবর্তী। কেননা ছবি স্কীনে অবশিষ্ট থাকে না বরং তা মেমোরি বা রিলে সংরক্ষিত ধারাবাহিকার সাথে স্কীনে আসে আবার তা দূতই চলে যায়।(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-৪/১৬৪)

দ্বীনী প্রচার প্রসার এর উদ্দেশ্যে কোনো ফিল্ম তৈরী হলে এবং তাতে কোনো প্রকার হারাম জিনিষ যেমন গান-বাদ্য, নারী দৃশ্য ইত্যাদি না থাকলে, অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।(জাদীদ ফেকহী মাসাঈল;১/২৩৬)

★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
দারুল উলুম দেওবন্দর ফতোয়া সহ বিশ্বের অনেক ফতোয়া ও ইসলামী স্কলারদের মত হলো এভাবে ভিডিও করাও ও তা দেখাও ছবির নামান্তর, বিধায় তাহা জায়েজ নেই।

তবে আল্লামা তাকী উসমানী দাঃবাঃ সহ বিশ্বের অনেক বিজ্ঞ স্কলারদের মত হলো দ্বীনী প্রচার প্রসার এর উদ্দেশ্যে কোনো বৈধ ভিডিও তৈরী হলে এবং তাতে কোনো প্রকার হারাম জিনিষ যেমন গান-বাদ্য, নারী দৃশ্য ইত্যাদি না থাকলে, অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।

সুতরাং বিশেষ প্রয়োজন বশত দ্বীনী প্রচার প্রসার এর উদ্দেশ্যে কোনো বৈধ ভিডিও তৈরী করা ও দেখা যাবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(১-৩)
যদি নারীর কার্টুন না হয় এবং তাতে যদি কোন বাদ্য-বাজনা ব্যবহার না থাকে, সেক্ষেত্রে শিক্ষার উদ্দেশ্যে তা আপনি দেখতে পারবেন।

(৪-৫)
যদি নারীর কার্টুন না হয় এবং তাতে যদি কোন বাদ্য-বাজনা ব্যবহার না থাকে, সেক্ষেত্রে তাদেরকে লিংক দেওয়া দরুন আপনার গুনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...