আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
187 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম, মুহতারাম। আমাদের বিবাহ হয় ২০ অক্টোবর ২০২৩ এ। তখনকার হিসেবে আমার আহলিয়ার স্বর্ণ ছিল:
২১ ক্যারেট (21K): ৬০.৭৪ গ্রাম (৫ ভরি ৩ আনা ২ রতি)

১৮ ক্যারেট (18K): ৩৪.২৬ গ্রাম (২ ভরি ১৫ আনা)

এই স্বর্ণের মাঝে ২১ ক্যারেটের প্রায় ৪.৫ ভরি স্বর্ণ মোহরানা হিসেবে দেয়া হয়। এই স্বর্ণের মালিকানা সে প্রাপ্ত হয় ২০ অক্টোবর ২০২৩ বিবাহের দিন।

পরবর্তীতে সে ২০২৬ সালে সনাতন স্বর্ণ: ৯.২৮ গ্রাম (১২ আনা ৪ রতি ৫ পয়েন্ট) একটা চেইন পায়।

এখন উক্ত স্বর্ণের ক্ষেত্রে:

১) যাকাত কি ২ বছরের দিতে হবে? অর্থাৎ ২০২৪ এবং ২০২৫?

২) স্বর্ণের যাকাত যেহেতু বিক্রয়মূল্যের উপর হিসাব করা হয় তাই যাকাত আদায়ের দিন কি ২০ অক্টোবর ২০২৪ এবং ২০ অক্টোবর ২০২৫ ধরে হিসাব করতে হবে?

৩) সনাতন স্বর্ণ যেহেতু ২০২৬ এ পেয়েছে, এর যাকাত কি বিগত ২ বছরের হিসাবে যোগ হবে?
৪) আহলিয়ার যেহেতু কোনো আর্থিক উপার্জন নেই, তাই সে কি কিছু স্বর্ণ বিক্রি করে উক্ত যাকাত আদায় করতে পারবে?
জাঝাকাল্লাহু খইরান।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। -সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২
আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ وَاقِدٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْخُذُ مِنْ كُلِّ عِشْرِينَ دِينَارًا فَصَاعِدًا نِصْفَ دِينَارٍ وَمِنْ الْأَرْبَعِينَ دِينَارًا دِينَارًا

ইবনু ‘উমার ও ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)  থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বিশ দিনার বা তার চেয়ে কিছু বেশি হলে অর্ধ দিনার এবং চল্লিশ দিনারে এক দিনার (যাকাত) গ্রহণ করতেন।

ইবনে মাজাহ ১৭৯১ ইরওয়াহ ৮১৩।
দারাকুতনী ১৮৭৯, ১৮৯২।

সাড়ে ৫২ ভরি রুপা হলে তার উপর যাকাত ফরজ। 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
عن أبي سعيد الْخُدْرِي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «ليس فيما دون خمس أَوَاقٍ صدقة، ولا فيما دون خمس ذَوْدٍ صدقة، ولا فيما دُونَ خمسة أَوْسُقٍ صدقة».  
[صحيح] - [متفق عليه]

আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পাঁচ উকিয়ার কম রৌপ্যমুদ্রায় যাকাত নেই এবং পাঁচটি উটের কমের ওপর যাকাত নেই। পাঁচ ওয়াসাক এর কম শষ্যের ওপর যাকাত নেই।”
(বুখারী,মুসলিম)

শরীয়তের বিধান হলো যদি কাহারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্য-দ্রব্য- এগুলোর কোনোটি পৃথকভাবে পূর্ণ  নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে সকল সম্পদ হিসাব করে যাকাত দিতে হবে।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬,৭০৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩)

আরো জানুনঃ  

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
হ্যাঁ আপনার স্ত্রীকে ২ বছরের যাকাত দিতে হবে।

যাকাত আরবি মাস হিসেবে দিতে হয়। সুতরাং ২০২৩ সালের ২০ অক্টোবর মূলত ১৪৪৫ হিজরীর ০৫ ই রবিউস সানী ছিল।

সেই হিসেবে ১৪৪৬ ও ১৪৪৭ হিজরীর ০৫ ই রবিউস সানী আপনার স্ত্রীর উপর যাকাত প্রদান ফরজ ছিল।

(০২)
১৪৪৬ হিজরীর ০৫ ই রবিউস সানী এবং ১৪৪৭ হিজরীর ০৫ ই রবিউস সানী ধরে হিসাব করতে হবে।

(০৩)
এর যাকাত ১৪৪৭ হিজরীর ০৫ ই রবিউস সানী এর সময় দিতে হবে।

(০৪)
হ্যাঁ, সে কিছু স্বর্ণ বিক্রি করে উক্ত যাকাত আদায় করতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by

যাকাত যে পরিমাণ আসবে এর বেশী টাকা দেয়া যাবে? যেমন: কারো ২০,০০০ টাকা যাকাত আসলে সে কি ২১,০০০ টাকা যাকাত বাবদ দিতে পারবে? 
by (770,460 points)
এতে কোনো সমস্যা নেই।
by (770,460 points)
এতে বেশি ছওয়াব পাওয়া যাবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...