আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম।

আমার পরিচিত একজনের যাকাতের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন ছিল। তার নিয়মিত বেতন হতো না তখন সে ধার করে দৈনন্দিন পারিবারিক খরচ চালাতো। পরবর্তীতে 2012-13 সালে তার পূর্বের সব বেতন একসাথে দিলে তা ওই সময়ের নিসাব পরিমাণ হয় এবং সে টাকাটা পাঁচ বছর মেয়াদে 2022 সাল পর্যন্ত 15 বছর ধরে ব্যাংকে রেখে দেন ও পরবর্তীতে বাড়ি করার কাজে ব্যবহার করেন। প্রশ্ন হল তার জন্য কি ওই টাকার উপর যাকাত দিতে হবে? সেক্ষেত্রে যাকাতের হিসাব কিভাবে করবে? হিসাবের সময় কি ঋণের পরিমাণ বাদ দিতে হবে মূলধন থেকে?

এছাড়া অতীতে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া নগদ টাকাও ব্যাংকে রেখেছিলেন বিভিন্ন বছর মেয়াদে। সেগুলোরও কি যাকাত দিতে হবে?

উল্লেখ্য ইন্টারনেট থেকে বিগত বছরগুলোর রুপার দাম সম্পর্কে অনুমান করে তার ভিত্তিতে নিসাব পরিমাণ হিসেব করা হয়েছে।

আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
by (1 point)
বি দ্রঃ পূর্বে ব্যাংকে টাকা রেখে সে সুদ গুলো নিতো ও সংসারে খরচ করত।এটার জন্য কি কোনো কাফফারা দিতে হবে? 
বর্তমানে কোনো সুদের সাথে জড়িত নেই।

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো ঋণ যদি এত হয় যা বাদ দিলে তার কাছে নিসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে না তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয নয়। (মুয়াত্তা মালেক ১০৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০০৩, ৭০৮৬, ৭০৮৯, ৭০৯০; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৫৪৭-৫৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩)
,
কিন্তু এখানে মনে রাখতে হবে যে, এই প্রসিদ্ধ মাসআলাটি সকল ঋণের ক্ষেত্রে নয়। 

ঋণ দুই ধরনের হয়ে থাকে।
 ক. প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে যে ঋণ নেওয়া হয়। 
খ. ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যে ঋণ নেওয়া হয়।
,
প্রথম প্রকারের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যাকাতের নিসাব বাকি থাকে কিনা তার হিসাব করতে হবে। নিসাব থাকলে যাকাত ফরয হবে, অন্যথায় নয়। 
,
কিন্তু যে সকল ঋণ উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয় যেমন কারখানা বানানো, কিংবা ভাড়া দেওয়া বা বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বিল্ডিং বানানো অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণ নিলে যাকাতের হিসাবের সময় সে ঋণ ধর্তব্য হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের ঋণের কারণে যাকাত কম দেওয়া যাবে না। 
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৮৭)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সেই ব্যাক্তি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হওয়ার পর উক্ত টাকা 15 বছর ধরে ব্যাংকে রেখে দেন ও পরবর্তীতে বাড়ি করার কাজে ব্যবহার করেন।

বাড়ি করার কাজে সে টাকা ব্যবহার করার আগ পর্যন্ত প্রতি বছরের যাকাত তাকে হিসাব করে দিতে হবে।

প্রথম বছরের যাকাত দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে টাকা থাকবে পরবর্তী বছর তার শতকরা আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিবে, অবশিষ্ট যে টাকা থাকবে তার পরবর্তী বছর তার শতকরা আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিবে, এভাবে হিসাব করে প্রতি বছরের যাকাত দিতে হবে।

হিসাবের সময় ঋণের পরিমাণ বাদ দিতে হবে মূলধন থেকে।

এছাড়া অতীতে তিনি যে উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু টাকা পেয়েছিলেন,যাহা তিনি ব্যাংকে রেখেছিলেন, সেগুলোরও যাকাত দিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...