0 votes
7 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (14 points)
আসসালামুআলাইকুম। এইটা শুনেছি যে, সকালে কুরআন খতম করলে সারা দিন ফেরেশতারা দোয়া করে আর সন্ধায় খতম করলে সারা রাত দোয়া করে তাই বলা হয় শীতের দিনে সন্ধায় কুরআন খতম করার জন্য কারণ শীতের রাত বড় আর ফেরেশতারা বেশিক্ষণ দোয়া করার সময় পাবে আর গরমের দিনে কুরআন সকালে খতম করার জন্য বলা হয় কারণ গরমের সময় দিন বড় তাই ফেরেশতারা বেশিক্ষণ দোয়া করার সময় পায়।

এই কথাটা কতটুকু ঠিক? ঠিক হলে রেফারেন্স দিলে ভালো হয়।

1 Answer

0 votes
by (145,240 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ- 
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ: " «لَمْ يَفْقَهْ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ» " رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ، وَأَبُو دَاوُدَ، وَالدَّارِمِيُّ.
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কোরআন পড়লো, সে কুরআন বুঝেনি।
(সুনানু তিরমিযি-২৯৪৯, সুনানু আবি-দাউদ-১৩৯০, সুনানু ইবনি মা'জা-১৩৪৭,মিশকাত-২২০১)

উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় মিশকাতের টিকায় আহমদ আলী সাহরানপুরী (হানাফি) রাহ লিখেন,জনসাধারণের জন্য তিন দিনের কম কুরআন খতম করা মাকরুহে তানযিহি ( অপছন্দনীয়) । এবং ৪০দিনের ভিতর কুরআন খতম না দেয়া মাকরুহে তানযিহি।(মিশকাতুল মাসাবিহ-হিন্দি নুসখা)

ﻭﺇﻧﻤﺎ ﻭﺭﺩ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻦ ﻗﺮﺍﺀﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﻓﻲ ﺃﻗﻞ ﻣﻦ ﺛﻼﺙ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺪﺍﻭﻣﺔ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ، ﻓﺄﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻷﻭﻗﺎﺕ ﺍﻟﻤﻔﻀﻠﺔ ﻛﺸﻬﺮ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺧﺼﻮﺻﺎً ﺍﻟﻠﻴﺎﻟﻲ ﺍﻟﺘﻲ ﻳﻄﻠﺐ ﻓﻴﻬﺎ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ ، ﺃﻭ ﻓﻲ ﺍﻷﻣﺎﻛﻦ ﺍﻟﻤﻔﻀﻠﺔ ﻛﻤﻜﺔ ﻟﻤﻦ ﺩﺧﻠﻬﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺃﻫﻠﻬﺎ ﻓﻴﺴﺘﺤﺐ ﺍﻹﻛﺜﺎﺭ ﻓﻴﻬﺎ ﻣﻦ ﺗﻼﻭﺓ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻏﺘﻨﺎﻣﺎً ﻟﻠﺰﻣﺎﻥ ﻭﺍﻟﻤﻜﺎﻥ ، ﻭﻫﻮ ﻗﻮﻝ ﺃﺣﻤﺪ ﻭﺇﺳﺤﺎﻕ ﻭﻏﻴﺮﻫﻤﺎ ﻣﻦ ﺍﻷﺋﻤﺔ ، ﻭﻋﻠﻴﻪ ﻳﺪﻝ ﻋﻤﻞ ﻏﻴﺮﻫﻢ ﻛﻤﺎ ﺳﺒﻖ ﺫﻛﺮﻩ .
" ﻟﻄﺎﺋﻒ ﺍﻟﻤﻌﺎﺭﻑ " ( ﺹ 171 ) .
মর্মার্থ- অনেক বুজুর্গানে কেরাম তিন দিনের কম সময়েও সারা কুরআনকে খতম দিয়েছেন বলে বর্ণনায় পাওয়া যায়, এটা মূলত বিশেষ বিশেষ দিনে বুজুর্গানে কেরাম করেছেন। অর্থাৎ এমন দিনে বা রাত্রে যখন বেশী বেশী ইবাদত করা মুস্তাহাব। সাধারণত তিনদিনের কম সময়ে কুরআন খতম না হওয়াই কাম্য । এবং চল্লিশ দিনের বেশী কুরআনে খতম ছাড়া অতিবাহিত করা মাকরুহ। এখানে বিধান হারাম নয়।


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

من ختم القرآن أول النهار صلت عليه الملائكة حتى يمسي، ومن ختمه آخر النهار صلت عليه الملائكة حتى يصبح 
যে ব্যক্তি দিনে কুরআন খতম করবে,বিকাল পর্যন্ত তার জন্য ফিরিস্তারা দু'আ করতে থাকবে।আর যে ব্যক্তি বিকাল কুরআন খতম করবে,সকাল পর্যন্ত তার জন্য ফিরিস্তারা দু'আ করতে থাকবে।(ফয়যুল কাদীর-৮৬৫৫)


حدثنا محمد بن حميد حدثنا هارون عن عنبسة عن ليث عن طلحة بن مصرف عن مصعب بن سعد عن سعد قال إذا وافق ختم القرآن أول الليل صلت عليه الملائكة حتى يصبح وإن وافق ختمه آخر الليل صلت عليه الملائكة حتى يمسي 
(সুনানে দারেমি-৩৪৮৩)

জ্বী,আপনার কথা বিশুদ্ধ ও যুক্তিসংগত।



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...