আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম।
যাকাতের ক্ষেত্রে আমার যে স্বর্ণ আছে তা নিসাব পূরন করেনি। এখন জমানো টাকার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হলো
গত রোজার দুই মাস আগে আমার কাছে ২ হাজার টাকা ছিল কিন্তু কোনো স্বর্ণ ছিল না।
এরপর রোজার পরে আমার বিয়ে হয় তখন স্বর্ণ পাই। রোজা গতবছর ধরি ফেব্রুয়ারিতে ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারীর পরে এই বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত আমার সেই ২ হাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে,আবার কোনো না কোনোভাবে হাতে টাকা এসেছে
আবার খরচ হয়েছে। এরকম করে এখন এই রোজায় আমার কাছে ৬০০০ টাকা আছে।
আমার ক্ষেত্রে তাহলে যাকাতের হিসাব কেমন হবে? আমার কাছে যেহেতু কিছু স্বর্ণও আছে। কিন্তু সেই স্বর্ণ নিসাব পরিমাণ না। আবার ৬০০০ টাকাও আছে। এমন না যে গত বছর এই সময় ৬০০০ টাকাই ছিল, গত রোজার আগে ২০০০ ছিল,সেই টাকা খরচ হয়েছে, আবার বিভিন্ন সময়ে হাতে আবার টাকা এসেছে সেগুলো খরচ ও হয়েছে, কিন্ত কাছে এখনো ৬০০০ টাকা আছে।
আমার প্রশ্ন দুইটা
১) আমি যদি সেই ৬০০০ সাদাকাহ করে দিই আমার কি আর যাকাত দিতে হবে? যেহেতু স্বর্ন যা আছে তা নিসাব পরিমাণ না।
নাকি আমি ২০০০ টাকা সাদকাহ করলেই যামাত মুক্ত হবো? যেহেতু গত রোজার আগে ২০০০ ছিল (মাঝে সেই টাকা খরচ হয়েছে,আবার হাতে টাকা এসেছে তাই এখন ৬০০০ হয়েছে)
২) যদি সাদকাহ না করি, তাহলে কি টাকার হিসাব টা কেমন হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

যাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুকন। ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত।

আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ۱۱۰

 ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। -সূরা বাকারা : ১১০

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-

وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۵۶

‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’-সূরা নূর : ৫৬

সূরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আযীম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-

وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠۱۶۲

‘এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

 عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ»
হযরত আয়েশা রা থেকে বর্ণিতঃনবী কারীম সাঃ বলেনঃ-সম্পত্তিতে কোনো যাকাত নেই যতক্ষণ না এক বৎসর পূর্ণ হবে।(সুনানে ইবনে মাজা-১৭৯২)

★শরীয়তের বিধান হলো মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরয হয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২

শরীয়তের বিধান হলোঃ 
কারো কাছে সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যদ্রব্য পৃথকভাবে বা সম্মিলিতভাবে নিসাব পরিমাণ ছিল, বছরের মাঝে এ জাতীয় আরো কিছু সম্পদ কোনো সূত্রে পাওয়া গেল এক্ষেত্রে নতুন প্রাপ্ত সম্পদ পুরাতন সম্পদের সঙ্গে যোগ হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হওয়ার পর সমুদয় সম্পদের যাকাত দিতে হবে। বছরের মাঝে যা যোগ হয়েছে তার জন্য পৃথক বছর পূর্ণ হওয়া লাগবে না।
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৮৭২,৭০৪০,৭০৪৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫,১০৩২৭) 

বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে। মাঝে নিসাব কমে যাওয়া ধর্তব্য নয়। অবশ্য বছরের মাঝে সম্পূর্ণ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তবে ঐ সময় থেকে নতুন করে বছরের হিসাব আরম্ভ হবে এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর যাকাত আদায় করতে হবে। 
(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক  হাদীস ৭০৪২,৭০৪৪।)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে গেল বছর রোজার পরে আপনার বিবাহতে আপনি স্বর্ণ পেয়েছিলেন।

এক্ষেত্রে জানার বিষয় হল রোজার কয় মাস পর আপনার বিবাহ হয়েছিল?
তখন আরবি কোন মাস, কত তারিখ ছিলো?

আর তখন আপনার মালিকানায় দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত কোনো টাকা ছিল কিনা?

আরবি যে মাসের যেই তারিখে আপনার বিবাহ হয়েছিল, সেই মাসের সেই তারিখে যদি আপনার মালিকানায় দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত কোন টাকা থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে এই বছর আরবি সেই মাসের সেই দিনে আপনার কাছে দৈনন্দিন প্রয়োজন অতিরিক্ত কোন টাকা থাকলে আপনার উপর যাকাত ফরজ হবে।

এমতাবস্থায় সেই টাকা এবং আপনার মালিকানাধীন স্বর্ণের বর্তমান বাজার মূল্য ধরে সব যোগ করে তার শতকরা আড়াই শতাংশ তথা ৪০ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে প্রদান করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...