আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
95 views
in হজ ও উমরা (Hajj and Umrah) by (45 points)
আসসালামু আলাইকুম, শায়খ।

ইনশাআল্লাহ ২০২৬ সালে আমি হজে যাওয়ার নিয়ত করেছি। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। যেহেতু আমার ছোট মামা তার পরিবারকে নিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাচ্ছেন, তাই আমি তার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। মামা এজেন্সির সাথে কথা বলে জানান যে তখনও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এরপর আমি সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে এজেন্সির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করি।

কিছুদিন আগে হজ অফিস থেকে আমার কাছে একটি মেসেজ আসে যে, আমাকে ২০২৬ সালের হজের জন্য একটি অন্য এজেন্সির অধীনে হজ গাইড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি তো হজ গাইড নই এবং এ বিষয়ে কখনও আবেদনও করিনি। পরে জানতে পারি, ২০২৬ সালের হজ রেজিস্ট্রেশন অক্টোবরের মাঝামাঝি বন্ধ হয়ে যায়। তাই এজেন্সি আমার টাকা নেওয়ার লোভে আমাকে না জানিয়ে “হজ গাইড” হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করে দেয়।

তিন দিন আগে হজ অফিস থেকে আমাকে ফোন করে বলা হয় যে ২৫ তারিখে অফিসে উপস্থিত হতে হবে, কারণ হজ গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তখন আমি সরাসরি জানাই যে আমি হজ গাইড নই এবং কীভাবে যেন আমার এজেন্সি আমাকে হজ গাইড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমি তো একজন সাধারণ হাজি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছি। অনুগ্রহ করে আপনারা এ বিষয়ে এজেন্সির সাথে কথা বলুন। তখন হজ অফিসের কর্মকর্তা বলেন, কোনো সমস্যা নেই, আমরা বিষয়টি দেখছি।

এখন যদি আমার হজের ভিসা বাতিল হয়ে যায়, সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু যদি আমাকে হজে যেতে দেওয়া হয়, তাহলে এই মিথ্যা পরিচয়ে—যে আমি একজন হজ গাইড—হজ করতে গেলে আমার হজ আদৌ কবুল হবে কি না, তা নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি। এখানে আমার নিজের কোনো দোষ আমি দেখছি না। তবে এজেন্সি নাকি আমার মামার সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছিল যে আমাকে হজ গাইড হিসেবে নিবন্ধন করবে, কিন্তু মামা আমাকে কখনও তা জানাননি। এখন এসে বিষয়টি জানাচ্ছেন।

এ অবস্থায়, যদি আমি এই মিথ্যা পরিচয়ে হজ করি, আমার হজ কি কবুল হবে? আর এখন আমার কী করা উচিত? হজের সময় যদি বিভিন্ন জায়গায় আমাকে জিজ্ঞেস করা হয় আমি হজ গাইড কি না, তাহলে আমার কী বলা উচিত?

আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। অনুগ্রহ করে আমাকে পরামর্শ দিন।

1 Answer

0 votes
by (812,700 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লামা ইবনূল কাইয়ূম রাহ বলেনঃ
ﻳﺠﻮﺯ ﻛﺬﺏ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ، ﻭﻋﻠﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺘﻀﻤﻦ ﺿﺮﺭ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﻮﺻﻞ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ ﺇﻟﻰ ﺣﻘﻪ،
একমাত্র মিথ্যার মাধ্যমে হক্ব(অধিকার রক্ষা)পর্যন্ত পৌছা নির্দিষ্ট হলে নিজের উপর বা অন্যর উপর মিথ্যা বলা জায়েয যখন এতে অন্যর কোনোপ্রকার ক্ষতি হয় হবে না।(যাদুল মা'আদ-২/১৪৫)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/644

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু আপনি মিথ্যা বলেন নি, এজেন্সি মিথ্যা বলেছে, তাছাড়া আপনি তাদেরকে অবগতও করেছেন। তাই আপনার জন্য হজ্বে গণন নাজায়েয হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...