আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
129 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
এক ভাইয়ের পক্ষ থেকে,

আমি বিয়ে করেছি ২ বছর হচ্ছে।গত ১ বছর যাবত বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু বাচ্চা হচ্ছে না। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ডাক্তার জানায় আমার স্ত্রী কোনোদিন মা হতে পারবে না।
বিষয়টি এখানে শেষ হলে আমি মেনে নিতাম কারণ আল্লাহ তায়ালা তাকদির এ এটাই লিখে রাখছেন এটা ভেবে।

কিন্তু আমার স্ত্রী ১৩/১৪ বছর হ‌ওয়ার পর‌ও যখন হায়েজ হচ্ছিলোনা তখন আমার শাশুড়ি ডাক্তার দেখায় এবং ডাক্তার জানায় যে,সে মা হতে পারবে না।

এই বিষয়টি বিয়ের আগে আমার শাশুড়ি গোপন করেছেন।
এমনকি বিয়ের পর‌ও আমাকে জানাননি।

এখন আমি ডাক্তার দেখিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না।
কিন্তু আমার সন্তান লাগবে বিশেষ করে আমার স্ত্রীর।
তিনি সন্তান দত্তক নিতে চাচ্ছে, কিন্তু আমি ইচ্ছুক নয়।
ইসলামী শরিয়াহ যেহেতু একাধিক বিয়ের সুযোগ রেখেছে তাহলে আমি আরেকটি বিয়ে করে নিজের ওরশজাত সন্তান নিতে পারি।

আমার স্ত্রীকে বুঝিয়েছি যে দত্তক নেওয়া সন্তান যাদের আপন বাবা মা দুজনেই তো আলাদা হবে,তার চেয়ে ভালো না আমার ওরশজাত সন্তান।

সে সরাসরি বলে দিয়েছে হয় আমাকে রাখবেন,না হলে আরেকটি বিয়ে করবেন।
অর্থাৎ বিয়ে করলে তিনি থাকবেন না।

আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এতোদিন হয়তোবা স্ত্রীকে বিদায় করে দিতো,কারণ আমার শাশুড়ি সত্য জানার পরও তা গোপন করে বিয়ে দিছেন যদি সত্যিটা জানিয়ে দিতো তাইলে কোন আপত্তি থাকতোনা।

আমাকে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন যে, তুমি তোমার স্ত্রীকে ছেরে দিতে পারো কারণ তো তুমি প্রতারিত হয়েছো।
কিন্তু আমি আমার স্ত্রীকে অসম্ভব রকম ভালোবাসি এবং তাকে ছারতে চায় না।
আমি শুরু থেকেই অনেক ধৈর্য্য নিয়ে আছি।
এখন কথা হচ্ছে আমার এহেন পরিস্থিতিতে কি করা উচিত?
আমি না পারছি আরেকটি বিয়ে করতে।
না পারছি সন্তান দত্তক নিতে।
না পারছি তাঁর(স্ত্রী)মন ভালো রাখতে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِيْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ ؛ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْـجَنَّةِ.

‘‘যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে’’। (আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)

ইসলামী স্কলারগন বলেছেন, যেসব কারণে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে তা হলোঃ-

★যদি কোনো বাস্তবসম্মত কারণে উভয়ের পক্ষে একসঙ্গে বসবাস করাটা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাহলে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে।

★যদি স্বামীর মাঝে দৈহিক এমন ত্রুটি থাকে, যার কারণে দাম্পত্যজীবনের স্বাভাবিকতা খুবই দুরূহ হয়ে যায়। যেমন—পাগল হওয়া, যৌন অক্ষম হওয়া, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়া। 
বলা বাহুল্য, স্বামীর মাঝে উক্ত ত্রুটিগুলো থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখা সম্ভব নয়।

★স্বামী স্ত্রীর আবশ্যকীয় জরুরত তথা ভরণ-পোষণ দিতে অক্ষম হলে। কেননা, এটা স্ত্রীর মৌলিক অধিকার। 

★শরিয়ত নির্দেশিত কারণ ছাড়া স্বামী স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়া বা জুলুম করা।

এটা শারীরিকভাবেও হতে এবং মানসিকভাবে হতে পারে। যেমন—স্ত্রীকে মারধর করা, গালাগাল করা, স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা সাক্ষাতে বাধা প্রদান করা, বেপর্দা কিংবা হারাম কাজে স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাধ্য করা। 

★স্বামীর মধ্যে দ্বিনদারির প্রতি অবহেলা চরম পর্যায়ের হলে। যেমন—নামাজ না পড়া, মদ পান করা, পরকীয়া কিংবা চারিত্রিক অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হওয়া। 

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি আরো বিজ্ঞ ডাক্তার ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হতে পারেন।

তারপরও যদি কোনক্রমেই আপনার স্ত্রী সুস্থ না হন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে না পারেন, সেক্ষেত্রে পরিবারের মুরব্বিরা মিলে আপনার স্ত্রীকে আপনার দ্বিতীয় বিবাহের ব্যাপারে বোঝাতে পারেন।

(সর্বক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আপনি আর আপনার স্ত্রী দোয়া চালিয়েই যাবেন।)

সকলে মিলে তাকে বুঝিয়ে দ্বিতীয় বিবাহের ব্যাপারে রাজি করতে পারলে সেক্ষেত্রে তো কোন সমস্যা নেই।

আর যদি সে রাজি না হয় এমতাবস্থায় আপনি চাইলে দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন।

২য় বিবাহের পর সে যদি আপনার সংসারে  থাকতে না চায়,তালাক চায়, তখন বাধ্য হয়ে আপনি যদি তাকে তালাক দেন, এতে শরীয়ত এর পক্ষ হতে আপনার কোন গুনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...