আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)
আমার পরিচিত একজন আর পক্ষ থেকে প্রশ্ন। তিনি বলেন -
আমার সাধারণত ১০ দিন ধরে মাসিক হয়, যার মধ্যে শেষ ২ দিন হলুদ স্রাবও থাকে। গত মাসে আমার ২৪ তারিখে মাসিক হয়েছিল এবং ৪ঠা ফেব্রুয়ারি আমি নিজেকে পরিষ্কার করেছিলাম। আমার পরবর্তী মাসিকের ১৩-১৫ দিন সাধারণত আমার মাসিক হয়।

আমি ইনশাআল্লাহ ২৪শে ফেব্রুয়ারি ওমরাহ করতে যাব এবং ১লা মার্চ ফিরে আসব। আমি মাসিক বিলম্বিত করার জন্য কিছু বড়ি কিনেছিলাম। আমার কোনও ব্যথা বা লক্ষণ ছিল না, আমি বড়িটি খাইনি। এখন, ১৮/২/২৬ তারিখে, দুপুর ২:৩০ টার দিকে, আমি রক্তের দাগ দেখতে পাই।
এই রক্তের দাগ স্বাভাবিক পিরিয়ডের সময় এসেছিল। সকাল a আমার প্রচুর কাশি হচ্ছিল। এখন, দুপুর ২:৩০ থেকে -৭টা পর্যন্ত, কোনও রক্ত বা ব্যথা ছিল না। আমি বাড়িতে এসে বড়িটি খেয়েছি, এখন রক্তপাত হচ্ছে না।

আমার প্রশ্ন হল: এটা কি আমার মাসিক? আমার কি রোজা রাখা উচিত? যেহেতু আমি ওমরাহ করতে যাচ্ছি, আমি কি এখনও ওমরাহ করতে পারব?

যদি আমার মাসিক শুরু হয় এবং আমি পিল খেতে থাকি। তাহলে যদি ১০ দিনের আগে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কি আমি প্রার্থনা করতে পারব? নাকি রক্তপাত না হলেও আমাকে মোট ১০ দিন গুনতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ- 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে ১৮/২/২৬ তারিখ দুপুর ২:৩০ টার দিকে আপনি যে রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছিলেন,এটি যদি ঔষধ এর কারনেই হোক বা অন্য কোনো কারনেই হোক, ৩ দিন স্থায়ী না হয়,বা ৩ দিনের পর হতে ১০ দিনের মধ্যে আর ব্লাড না আসে,সেক্ষেত্রে এটি হায়েজ নয়।

এমতাবস্থায় আপনি ওমরাহ করতে পারবেন।
আপনি নামাজ,রোযা,কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...