আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
আমি একজন বিবাহিতা মুসলিম নারী। আমার মনে দীর্ঘদিন ধরে হজ আদায় করার খুব গভীর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এখনো হজে যেতে পারিনি।
একবার আরাফার দিন আমি একান্ত মনে কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলাম, আল্লাহ যেন আমাকে এমন সামর্থ্য দেন, যাতে আমি হজ আদায় করতে পারি।
এর ঠিক দুই দিন পর, হঠাৎ আমার মামি ফোন করে আমাকে ও আমার স্বামীকে দাওয়াত দেন। সেই দাওয়াতে গিয়ে তিনি আমাকে সোনার চুড়ি (gold bangles) উপহার দেন এবং বলেন, এগুলো যেন আমি সবসময় হাতে পরে থাকি। বর্তমানে ওই চুড়িগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুজন মানুষের হজ/উমরাহে যাওয়ার সমপরিমাণ।
আমি অন্তরে দৃঢ়ভাবে অনুভব করি, আল্লাহ হয়তো আমার দোয়ার উসিলাতেই এই ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু এরপর থেকেই আমি এক ধরনের দ্বিধা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে আছি।
পরিবারের অন্যরা বলছেন, চুড়ি ব্যবহার করতে এবং ধীরে ধীরে টাকা জমিয়ে হজে যেতে।
ইতিমধ্যে প্রায় দুই বছর হয়ে গেছে।
আমার নিয়ত শুরু থেকেই ছিল, এই চুড়ি বিক্রি করে হজে যাওয়া।
কিন্তু চুড়ি বিক্রি করলে পরিবার ও বিশেষ করে মামি (যিনি উপহার দিয়েছেন) কষ্ট পেতে পারেন, এই ভয়ও কাজ করছে। কারণ তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, যেন আমি এগুলো পরে থাকি।
এদিকে, সম্প্রতি কয়েকবার স্বপ্ন দেখেছি :
আমি দেখি, চোর এসে আমার সব সোনা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, শুধু এই চুড়িগুলো ছাড়া। আবার অন্য এক স্বপ্নে দেখি, এই চুড়িগুলোও আমার হাতে নেই।
এখন আমার মনে প্রশ্ন জাগছে,
❓ আল্লাহ কি আমার উপর অসন্তুষ্ট হচ্ছেন?
❓ আল্লাহ কি এই সোনাগুলো আমাকে বিশেষভাবে হজের জন্যই দিয়েছেন?
❓ এই উপহারের প্রতি আমার দুনিয়াবি মায়া কি ভুল হচ্ছে?
❓ উপহারদাতার শর্ত ও পরিবারের মনোভাবের কারণে যদি আমি দ্বিধায় থাকি, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে আমার করণীয় কী?
আমার প্রশ্নসমূহ:
1.শরিয়তের দৃষ্টিতে, এই সোনার চুড়ি বিক্রি করে হজে যাওয়া কি উত্তম হবে?
2.উপহারদাতা যদি ব্যবহারের কথা বলে থাকেন, তবুও কি নেক নিয়তে তা বিক্রি করা জায়েজ?
3.স্বপ্নগুলোর কোনো শরয়ি ইশারা বা গুরুত্ব আছে কি?
4.এই পরিস্থিতিতে আমার জন্য সর্বোত্তম ও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত কোনটি হতে পারে?
আপনাদের নসিহত ও দিকনির্দেশনা কামনা করছি।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।