আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
102 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
১)সূরা বাকারা পড়ার ফজিলত হিসেবে একটা ফজীলত দেখলাম এটা পুরো পড়লে দুআ কবুল হয়।এটা কি সঠিক?

২) নামাজ পড়ার সময় আমার যেন সাদা স্রাব না বের হয়,ওজু ভঙ্গের কোনো কারণ যেন না ঘটে,আমি যেন সুন্দরভাবে অনেক সময় নিয়ে, নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে নামাজ পড়তে পারি , একবার ওজু করাই যেন আমার জন্য যথেষ্ট হয় -তার জন্য দুআ করা যাবে?

৩)একমাত্র কাফেররাই চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে।

মুমিন গন একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে‌। এখানে মুমিন বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে শাইখ?

একজন মানুষ যে ইচ্ছে করে নামাজ, রোজা সব বাদ দিতো কিন্তু আল্লাহ তাআলায় বিশ্বাস করতো।ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করতো সেও কি একদিন জান্নাতে যাবে‌?

৪)কেয়ামতের ময়দানে বিচার করার সময় আল্লাহ তায়ালা কিছু বান্দাদের অন্য বান্দাদের থেকে গোপনে ডেকে তাদের গুনাহ গুলো দেখাবেন।পরে গুনাহ গুলো মাফ করে দিবেন।এটা কি সঠিক?যদি সঠিক হয় তাহলে এই বান্দারা কারা হবে হুজুর?

৫) নির্দিষ্ট কোনো দুআ কবুলের উদ্দেশ্যে যমযমের পানি পান করার সময় কখন দুআ করবো?পানি পান করার আগে নাকি পানি পান করার সময়?

একবার পান করার সময় একাধিক দুআ কবুলের নিয়তে পান করবো নাকি একটা দুআ কবুলের নিয়তে পান করবো?

৬) ধরুন আমি একসাথে চারটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম।এখন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাবজেক্টে ভর্তি হ‌ওয়া আমার জন্য কল্যাণকর এটার জন্য আমি ইস্তেখারা কিভাবে করবো? ইস্তেখারা তো দুটি বিষয়ের জন্য করা হয় বা এইরকম কিছু। আমাকে একটু বিস্তারিত বলবেন দয়া করে। এক্ষেত্রে "হাযাল আমার" এই শব্দের জায়গায় মনে মনে কি নিয়ত করবো সেটা একটু শিখিয়ে দিবেন।

৭) ধরুন, মার্কেটে আমি আজ একটি মোবাইল/ল্যাপটপ কিনতে যাবো। এক্ষেত্রে আমি ঘর থেকে বের হ‌ওয়ার আগে ইস্তিখারার সালাত আদায় করতে পারবো?

ইস্তেখারার দুআয় যে দুইবার "হাযাল আমার" শব্দ দুইটা আসবে এই শব্দের জায়গায় মনে মনে কি নিয়ত করবো সেটাও একটু শিখিয়ে দিবেন।

 দেখা যায় পছন্দের তালিকায় তো অনেক গুলো ল্যাপটপ থাকে। এরমধ্যে কোনটা কিনবো সেটা নিয়ে ইস্তেখারা করতে চাচ্ছিলাম।

৮) মহিলাদের বেপর্দা ছবির কারণে কবরে আযাব হবে এটা কি সঠিক?

৯)রুমের সুইচে নাপাকি লাগলে তা কিভাবে পরিষ্কার করবো?পানি দিয়ে বা ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে গেলে তো সমস্যা হবে যেহেতু কারেন্টের ব্যাপার।

পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে সুইচ গুলো মুছে দিলে হবে?

১০)মলদ্বারের ভেতর ভেজা আঙুল ঢুকালে ভিতরে পানি ঢুকে এবং রোজা ভেঙে যায় এই ফতোয়ার সাথে আমি একমত। কিন্তু শাইখ প্রস্রাবের রাস্তার ভেতর পর্যন্ত ভেজা আঙুল ঢুকালে যে রোজা ভাঙবে এটা মানতে পারি না। আমি যতটুকু জানি এই রাস্তায় পানি ভেতর পর্যন্ত যাওয়ার কোনো জায়গায়‌ই নেই। প্রস্রাবের রাস্তা নিয়ে কি হানাফী ফীকহের সব আলেমরা একমত?

১১) রোজা অবস্থায় সাদা স্রাব এখনো বাইরে আসেনি কিন্তু ভেতরে হয়তো থাকতে পারে এই পরিস্থিতিতে ওজুর আগে আমি প্রস্রাবের রাস্তার হালকা ভেতর পর্যন্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলি।তা না হলে তো দেখা যাবে নামাজের সময় ভেতর থেকে বাইরে চলে আসলো।এতে কি রোজা ভেঙে যাবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا - وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ، مَوْلَى خَالِدٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ) قَالَ دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَىْءٌ لَمْ يَدْخُلْ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَىْءٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَسَلَّمْنَا " . قَالَ فَأَلْقَى اللَّهُ الإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( لاَ يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا) قَالَ قَدْ فَعَلْتُ ( رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا) - قَالَ قَدْ فَعَلْتُ ( وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلاَنَا) قَالَ قَدْ فَعَلْتُ .

আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ কুরায়ব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন যে, (মহান আল্লাহর বাণীঃ) "তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব গ্রহণ করবেন"- (সূরাহ আল বাকারাহ ২ঃ ২৮৪)। এ আয়াতটি নাযিল হলে সাহাবাগণ খুবই উদ্বিগ্ন হলেন, আর কোন বিষয়ে তারা এতো উদ্বিগ্ন হননি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, বরং তোমরা বল, শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম এবং মেনে নিলাম। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন। তিনি নাযিল করলেন, আল্লাহ তা'আলা কারোর উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা উপার্জন করে তা তারই, আর মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই। হে আমাদের রব। যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করে ফেলি তবে আমাদের পাকড়াও করো না। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। আল্লাহ তা'আলা আরো ইরশাদ করলেনঃ হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। আল্লাহ তা'আলা আরও ঘোষণা করলেনঃ "(বলুন) আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর, তুমিই আমাদের রব।" আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম। (মুসলিম ২২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৩০, ইসলামিক সেন্টারঃ ২৩৮)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

আহমদ ইবন মানী’ (রহঃ) ...... আবূ মাসঊদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে তা সে ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।

(সহীহ, তিরমিজি ২৮৮১, সহীহ আবু দাউদ ১২৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৮৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ে দোয়া করলে দোয়া কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।  এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সূরা বাকারা পড়তে হবে, এমন আবশ্যকীয়তার বিষয় কোথাও পাইনি।

(০২)
হ্যাঁ, 
এরকম দোয়া করা যাবে।

(০৩) এখানে মুমিন বলতে ওই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরপর মৃত্যু পর্যন্ত ইসলামের উপর অটল থেকেছে। কোন ভিন্ন ধর্ম বা নাস্তিক্যবাদ গ্রহণ করেনি।

৪) 
এটি সঠিক। যারা অন্য মানুষের দোষ গোপন করে, তারা এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হবে।

৫) পানি পান করার আগে দোয়া করবেন।

একবার পান করার সময় একাধিক দুআ কবুলের নিয়তেও পান করা যাবে। 

৬) এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হবে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে ইস্তেখারা করার। এক্ষেত্রে হাযাল আমর শব্দ বলার সময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা নিয়ত করবেন।

৭) এক্ষেত্রে আপনি ঘর থেকে বের হওয়ার  আগে ইস্তিখারার সালাত আদায় করতে পারবেন।

ইস্তেখারার দুআয় যে দুইবার "হাযাল আমার" শব্দ আসবে, এই শব্দের জায়গায় মনে মনে নিয়ত করবেন যে আপনি আসলে কোন কোম্পানির ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন, সেই কোম্পানির বা সেই মডেলের বিষয় নিয়ত করবেন।

৮) কোন গায়রে মাহরাম সেই ছবি দেখলে তার শাস্তি হবে।

৯)রুমের সুইচে নাপাকি লাগলে মেইন সুইচ অফ করে দিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে তাহা তিনবার মুছতে হবে, প্রত্যেকবার সেই কাপড় পাক পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

১০) এ সংক্রান্ত দলিল জানুনঃ- 
https://ifatwa.info/40235/

১১) এক্ষেত্রে ভেজা আঙ্গুল প্রবেশ না করালে এবং পানি ভেতরে চলে না গেলে আপনার রোজা ভেঙ্গে যাবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...