আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
144 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (11 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার বাচ্চার বয়স ২২ মাস চলছে। সে সারারাত অভ্যাসবশত দুধ খেতে খেতে ঘুমায়, দুধ ছাড়িয়ে নিলেই উঠে যায়। ফলে আমার সারারাত ঘুম হয়না। সারারাত একপাশ হয়ে তাকে দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে আমার পিঠে ভয়ঙ্কর ব্যথা হয়েছে। এবং আমি শারীরিকভাবেও বেশ দুর্বল। দুধ খাওয়াতে গিয়ে যে পরিমাণ এনার্জি প্রতিদিন ব্যয় হয়, সে অনুযায়ী খাওয়াদাওয়া হয়না। কতদিন আগে যে রাতে শান্তিমতো ঘুমিয়েছি তা ভুলেই গেছি। আমি এখনো পড়াশুনা করছি, দিনে ক্লাসে থাকি। এবং যতক্ষণ বাসায় থাকি ততক্ষণ একটু পরপর সে দুধ খাবে। অথচ এ বয়সে তার এতোবার দুধ খাওয়া উচিৎ না। কারণ দুধ ছাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে তাকে দুধ খাওয়ানো কমিয়ে আনতে হবে। হুট করে একদিনে তো অফ করে দেয়া যায়না।

আমার অসুস্থতার দিক বিবেচনা করে যদি বাচ্চাকে এখন ব্রেস্টফিডিং অফ করে দিতে চাই, তাতে বাচ্চার বাবার ঘোর আপত্তি। আমাকে দুই বছরই খাওয়াতে হবে। ব্রেস্টফিডিং কমিয়ে দেয়াতেও ন্যুনতম সহানুভূতি তার পাচ্ছিনা। আমি পিঠ ব্যথায় অস্থির হয়ে যখনই একটু শুয়ে পরি, তখনই বাচ্চাকে দুধ খেতে এনে দেয়। আজও ব্যথায় কুকড়ে যখন একটু শুয়েছি, তখন এসে বলছে বাচ্চাকে ব্রেস্ট ফিড করাতে। আমার এই জিল্লতির জীবনে আর বাঁচতে ইচ্ছা করেনা। সে সারারাত তো ঠিকই ঘুমায়, কিন্তু আমি বাবু পেটে আসার পর থেকে এইপর্যন্ত একটা রাতও চিৎ হয়ে শুতে পারিনি। বাবু হওয়ার পর থেকে সারারাত এক কাত হয়ে দুধ খাওয়াতে গিয়ে আমার ঘুম হয়না, আমার ব্রেইন কখনো ঘুমায়না। আর সারারাত দুধ খাওয়ানোর ফলে আমার শরীরে আর কিছু নাই।

আমি জানতে চাই, আমার উপর এই জুলুমের জন্য বাচ্চার বাবার কী শাস্তি আল্লাহ দেবে, আর দুই বছরের আগে দুধ ছাড়ালে আমি গুনাহগার হবো কীনা।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/6845/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে,
ইসলামী শরীয়তে শিশুকে চন্দ্রমাসের হিসাবে সর্বোচ্চ দুই বছর (২৪ মাস) পর্যন্ত দুধ পান করানো যাবে। দুই বছরের অধিক দুধ পান করানো যাবে না। 

আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ الْوَالِدٰتُ یُرْضِعْنَ اَوْلَادَهُنَّ حَوْلَیْنِ كَامِلَیْنِ لِمَنْ اَرَادَ اَنْ یُّتِمَّ الرَّضَاعَةَ
মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু বছর দুধ পান করাবে। এ সময়কাল তাদের জন্য, যারা দুধ পান করানোর মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। (সূরা বাকারা ২৩৩)

উক্ত নির্ধারিত সময় পার হবার পরেও কেউ যদি নিজ সন্তানকে দুধ খাওয়ায় তাহলে তা জায়েয হবে না এবং সন্তানের জন্য উপকারী হবে না। কেননা যেটা সন্তানের জন্য উপযোগী সেটাই আল্লাহু তাআলা বিধান দিয়েছেন।

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সন্তানকে দুধ পান করানোর মেয়াদ চন্দ্র বছর হিসেবে দুই বছর। 

কারণ কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
(তরজমা) আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে। (এ বিধান) তার জন্য যে দুধ পানের (মেয়াদ) পূর্ণ করতে চায়। -সূরা বাকারা : ২৩৩

আরেক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, আর তার (সন্তান) দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। -সূরা লুকমান : ১৪

সুতরাং দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর সন্তানকে আর দুধ পান করানো যাবে না। তাই আড়াই বছর পর্যন্ত পান করানো যাবে- বলে অনেকে যাবে বলে  এ কথা ঠিক নয়। 
-সূরা বাকারা : ২৩৩; তাফসীরে তবারী ৪৯৬২; মুখতাসারুত তহাবী ২২০; ফাতহুল কাদীর ৩/৩০৯; গুনইয়াতু যাবীল আহকাম শুরুম্বুলালীয়া ১/৩৫৫, ৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৩

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওযর বশত দুই বছরের আগে দুধ ছাড়ালে আপনি গুনাহগার হবেননা।

এক্ষেত্রে আপনার প্রতি পরামর্শ থাকবে,  বাচ্চাকে বাইরের খাবারে অভ্যস্ত করে তোলা এবং একদিনেই দুধ না ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে
কয়েক দিন সময় নিয়ে দুধ ছড়ানো।

আপনাকে দুধ পান করানোর উপর চাপ দেওয়ার সুযোগ শরীয়ত আপনার স্বামীকে দেয়নি। এক্ষেত্রে তিনি যদি আপনাকে চাপ দেন, এটা আপনার উপর জুলুম হবে।

আপনি ক্ষমা না করে দিলে এ জুলুমের শাস্তি কিয়ামতের দিন তাকে ভোগ করতে হবে।

ওযর বশত আপনি যেহেতু দুধ পান করাতে পারছেন না, এমতাবস্থায় আপনার স্বামী যদি আপনার সন্তানকে তারপরেও দুধ পান করাতে চায়, সেক্ষেত্রে তিনি কোন ধাত্রীর ব্যবস্থা করতে পারেন,যে টাকার বিনিময়ে আপনার সন্তানকে দুধ পান করাবে।

احکام القرآن : 

والصحيح أنه لاحد لأقله ، وأكثره محدود بحولين مع التراضي بنص القرآن.

( أحكام القرآن ، سورة البقرة: ۲۳۳، (۱ / ۲۷۳ )، ط: دار الکتب العلمیة ، بیروت )

মর্মার্থঃ-
বিশুদ্ধ মত হল দুধ পানের সর্বনিম্ন কোন সময় সীমা নেই। তবে তার সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্দিষ্ট রয়েছে, তা হলো দুই বছর।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...