জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মূলত জুয়া বলা হয়, যা লাভ ও লোকশানের মাঝে ঝুলন্ত থাকে, এমন অর্থের খেলার নাম জুয়া।
প্রত্যেক ঐ মুআমালাকে জুয়া বলা হয়, যা লাভ ও লোকশানের মাঝে ঝুলন্ত ও সন্দেহযুক্ত থাকে। [জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-২/৩৩৬]
كُلُّ شَيْءٍ مِنَ الْقِمَارِ فَهُوَ مِنَ الْمَيْسِرِ حَتَّى لَعِبِ الصِّبْيَانِ بِالْجَوْزِ.
প্রত্যেক বাজি মাইছির তথা জুয়ার অন্তর্ভূক্ত এমনকি শিশুদের হারজিতের খেলাও জুয়ার অন্তর্ভূক্ত। [তাফসীরে ইবনে কাসীর-২/১১৬, সূরা মায়িদা, আয়াত নং-৯০-৯৩]
الميسر هو كل عملية يكون المشارك فيها إما غانماً وإما غارماً
‘প্রত্যেক এমন কাজ যাতে অংশগ্রহণকারী লাভ বা লোকসানের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।’ [ফাতওয়া শাবকাতুল ইসলামিয়া ১২/১৬১০, ফাতওয়া নং, ৫৪৭]
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا [٢:٢١٩]
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে,তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। [সূরা বাকারা-২১৯]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٥:٩٠]
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ [٥:٩١]
হে মুমিনগণ,এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।
শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? [সূরা মায়িদা-৯০-৯১]
আরো জানুনঃ-
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত খেলায় যারা অংশগ্রহণ করতেছে তাদের যদি কোন প্রকার অংশগ্রহণের ফি দিতে না হয় বরং উক্ত খেলার পুরস্কার, উক্ত খেলার খাবার বাবদ যাবতীয় খরচ সবকিছুই যদি প্রতিষ্ঠান বহন করে, খেলোয়াড়দের যদি কোন টাকাই দিতে না হয়,নারীদের জন্য যদি আলাদাভাবে পর্দাঘেরা পরিবেশে খাবারের আয়োজন করা হয়, সেক্ষেত্রে সে খাবার গ্রহণ হারাম হবে না।
অন্যথায় সেই খাবার গ্রহন বৈধ হবেনা।
এক্ষেত্রে আপনি যে অনুষ্ঠানগুলোর কথা বলছেন সে ধরনের অনুষ্ঠানে নারীদের জন্য যাওয়াকে ইসলামী স্কলারগন অনুমতি দেন না।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي نَبْهَانُ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ مَيْمُونَةُ فَأَقْبَلَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ وَذَلِكَ بَعْدَ أَنْ أُمِرْنَا بِالْحِجَابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْتَجِبَا مِنْهُ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ أَعْمَى لاَ يُبْصِرُنَا وَلاَ يَعْرِفُنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ " .
মুহাম্মদ ইবন আলা (রহঃ) .... উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি এবং মায়মূনা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছিলাম। তখন সেখানে আবদুল্লাহ ইবন উম্মু মাকতুম (রাঃ) আসেন। আর এটি ছিল পর্দার আয়াত নাযিলের পর। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জন এর থেকে পর্দা কর। তখন আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখতে পায়না, চিনতেও পারেনা। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তোমরাও কি অন্ধ, তোমরা দু’জন কি তাকে দেখছো না?
মিশকাত ৩১১৬, ইরওয়া ১৮০৬, আবু দাউদ ৪০৬৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২৭৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
তবে যদি নারীদের জন্য আলাদা পর্দাঘেরা পরিবেশ থাকে এবং ফেতনার বিন্দুমাত্র আশঙ্কা না থাকে,এলাকা ও সেখানে যাতায়াত যদি পূর্ণ নিরাপদ হয়,অনুষ্ঠানে শরীয়াহ বিরোধী কোনো কাজ না হয়,তাহলে কেউ কেউ অনুমতি দিয়ে থাকেন।