আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
8 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
কিছু প্রশ্ন -

১.নামাজে সুরা পড়ার সময় যদি কোন একটা আয়াত ভুল পড়ি পরে যদি অন্য আয়াত পড়ার সময় মনে পরে তখন কি সুরা পড়া শেষে পড়লে হবে? নাকি সাহু সেজদাহ দিতে হবে?

২.অজু তে মাথা মাসেহ এর সুন্নাত কি?

৩.নারীদের সাথে,নন মাহরাম দের সাথে  দরকারি কথা বলার সময় দৃষ্টি কোথায় রাখবো?আর মেয়ে দেখলে  দৃষ্টি কোথায় রাখবো?

৪.স্বপ্নদোষ না হওয়ার জন্য আমি সুরা ত্বারিক পড়ি এবং আসলেই হই না। এটা আমি পড়ে ঘুমালে আসলেই হয় না এটা প্রতিদিন আমল করা কি ঠিক হবে?

৫.নামাযে সুরা পড়ার সময় ফিসফিস শব্দ বন্ধে কি করা উচিত?

৬.অজু, নামাজের নিয়ত কিভাবে করা সুন্নাত?মানে কিভাবে নিয়ত করবো।

৭.গান শোনা তো হারাম তাই যদি  ভিদেও-রিলস এএ  যে গান থাকে এটা কি শোনা যাবে?মানে shorts youtube

৮.নারী দেখলে দৃষ্টি দিতে মন চাই যাতে জিনা হয়। এটার শাস্তি কি  পরকালে? এক্ষেত্রে দৃষ্টি কোথায় রাখব?যেমন রাস্তায় অনেক নারী থাকে?

৯.জামাতে নামাজে মুক্তাদির ভুল হলে যেমন, তাশাহহুদে  ভুল হলে কি করবে?

১০.আমার শরীরের লোম অনেক বড়, এখন লোম কাটা তো হারাম যেমন হাত, পা? কি করবো এখন যে বিভিন্ন জিনিস জেমন-veet ব্যবহার করা যাবে লোম উঠানুর জন্য?বা অন্য কোনো হালাল উপায় আছে নাকি নেই?

1 Answer

0 votes
ago by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
https://www.ifatwa.info/35007/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
নামাযে যেকোনো ভুলের কারণে সেজদা সাহু ওয়াজিব হয়ে যায় না। বরং ভুলে নামাযের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে কিংবা কোনো ফরয বা ওয়াজিব বিলম্বিত হলে ওয়াজিব হয়। আর যদি ভুলে কোনো ফরয ছুটে যায়, তবে সেজদা সাহু করা যথেষ্ট নয়, বরং পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। আর কোনো সুন্নত বা মুস্তাহাব ছুটে গেলে সেজদা সাহু করার বিধান নেই। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حدثنا عبد الله بن يوسف، أخبرنا مالك بن أنس، عن ابن شهاب، عن عبد الرحمن الأعرج، عن عبد الله بن بحينة رضي الله عنه، أنه قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ركعتين من بعض الصلوات، ثم قام فلم يجلس، فقام الناس معه، فلما قضى صلاته ونظرنا تسليمه كبر قبل التسليم، فسجد سجدتين وهو جالس، ثم سلم.

আবদুল্লাহ ইবনে বুহায়না রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নামায আমাদের দুই রাকাত পড়ান। তারপর না বসে দাঁড়িয়ে যান। মুকতাদীরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। যখন তিনি নামায পূর্ণ করলেন এবং আমরা তাঁর সালাম ফিরানোর অপেক্ষা করছিলাম তখন সালাম ফিরানোর আগে তাকবীর দিলেন এবং বসা অবস্থায় দুটি সেজদা করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন। 
(সহীহ বুখারী, হাদীস ১২২৪ সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭০)

নামাজে কিরাআতে ভুল হওয়ার পর সেটি পুনরায়  সহীহ করে পড়লে তার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়।
এতে কোনো সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়না।

فتاوی عالمگیری  :
"ذكر في الفوائد: لو قرأ في الصلاة بخطأ فاحش، ثم رجع وقرأ صحيحاً، قال: عندي صلاته جائزة وكذلك الإعراب".  (1 / 82، الفصل الخامس فی زلۃ القاری، ط؛رشیدیہ)
সারমর্মঃ
কেহ যদি নামাজে স্পষ্ট ভুল কিরাআত পড়ে,অতঃপর পুনরায় সেই আয়াতে ফিরে আসে, এবং শুদ্ধ ভাবে কিরাআত পড়ে,তাহলে তার নামাজ সহীহ হয়ে যাবে। 

حاشیۃ الطحطاوی علی الدر  :
"وفي المضمرات  : قرأ في الصلاة بخطأٍ فاحش ثم أعاد وقرأ صحیحاً فصلاته جائزة". (1/267، باب مایفسد الصلاۃ، کتاب الصلاۃ)
সারমর্মঃ
কেহ যদি নামাজে স্পষ্ট ভুল কিরাআত পড়ে,অতঃপর পুনরায় ফিরে আসে, এবং শুদ্ধ ভাবে কিরাআত পড়ে,তাহলে তার নামাজ সহীহ হয়ে যাবে। 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
এক্ষেত্রে আপনি যে আয়াতে ভুল পড়েছিলেন,ভুল পড়ার দরুন যদি অর্থ বিকৃত হয়ে যাওয়ার মত অর্থ দাঁড়ায,  সেক্ষেত্রে সুরা শেষে বা মনে পড়া মাত্র উক্ত আয়াত পুনরায় পাঠ করবেন।
এরপর রুকুতে যাবেন।

এক্ষেত্রে কোনো সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হবেনা। 

(০২)
এক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামদের বলে দেয়া পদ্ধতি হলো হাতের শাহাদাত আঙ্গুল আর বৃদ্ধাঙ্গুলি বাদ দিয়ে বাকি তিন আঙ্গুল দিয়ে মাথার সামনের দিক হতে পিছনের দিকে যাওয়া,পরবর্তীতে তালু তথা হাতের পেট এর সাইট দিয়ে মাথার দুই পাশ ফিয়ে হাত সামনের দিকে নিয়ে আসা।

এখন শাহাদাত আঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি তো ব্যবহারই হয়নি,তাই তাহা ভেজাই আছে।
,
এক্ষেত্রে শাহাদাত আঙ্গুলি দিয়ে কানের ভিতরের প্যাচ গুলো ভালো ভাবে ডলে মাসাহ করা আর বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের বাহিরের অংশ (পিঠ) কে মাসাহ করা।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৩)
গায়রে মাহরামের সামনে সর্বাবস্থায় দৃষ্টিনত রাখবেন।

পাত্রী দেখার সময় পাত্রীর চেহারা দেখতে পারবেন। তখন পাত্রীর সামনে দৃষ্টিনত রাখতে হবেনা।

(০৪)
উক্ত আমল করা যাবে সমস্যা নেই।
তবে এটিকে দ্বীনের অংশ মনে করবেন না।

(০৫)
এক্ষেত্রে মূলত এমন আওয়াজে উচ্চারণ করতে হবে, যাতে নিজের কান পর্যন্ত আওয়াজ আসে। এতে যদি ফিসফিস আওয়াজ হয় সমস্যা নেই। তবে আশেপাশের মানুষরা যেন না শুনতে পায়, এজন্য সতর্ক থাকবেন।

৬.
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 
https://www.ifatwa.info/6901/

৭. এটা শোনাও জায়েজ নেই।

৮. এক্ষেত্রে দৃষ্টি নত রাখতে হবে। যদি কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি দেয়, সেক্ষেত্রে তার গুনাহ হবে। এক্ষেত্রে তার শাস্তি কি হবে,তাহা আল্লাহ তায়ালাই নির্ধারণ করবে।

৯. এক্ষেত্রে সে ভুল সংশোধন করে নিবে। 

১০. 
এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 247 views
...