আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
14 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
১৪ তারিখ ওমরা করতে যাব  ইনশাল্লাহ।
১).হুজুর আমার একটু মুখস্থ কম হয় আমি একদম মনে রাখতে পারি না আমি যদি যেকোনো দোয়া বিশেষ করে ওমরাতে  যাওয়ার  সমস্ত দোয়া। মুখস্ত করা আমার জন্য অনেক কঠিন। আমি কি সব দোয়া বাংলায় করতে পারব?
২).আমি একদমই অজু রাখতে পারি না। মানে সর্বোচ্চ আধাঘন্টা অজু রাখা পর্যন্ত আমার জন্য অনেক কঠিন এটা আমার সব সময় এরকম। এ অবস্থায় আমি কি তাইয়ুম্ম মাটি দিয়ে করতে পারবো।

1 Answer

0 votes
ago by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ওমরাহ শব্দের অর্থ ইচ্ছা করা, পরিদর্শন করা ও সাক্ষাৎ করা। হজের সময় ছাড়া অন্য যেকোনো সময় পবিত্র কাবাঘরের তাওয়াফসহ নির্দিষ্ট কিছু কাজ করাকে ইসলামের পরিভাষায় ওমরাহ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ওমরাহ পালনের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর জন্য হজ ও ওমরাহ পূর্ণভাবে আদায় করো।’ (সুরা বাকারা: ১৯৬) এখানে ওমরাহ পালনের নিয়মগুলো তুলে ধরা হলো:

ওমরাহর প্রধান চার কাজ
»    ইহরাম পরা।
»    পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করা। 
»    সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে 
সাতবার সায়ি করা। 
»    মাথার চুল মুণ্ডন করা বা ছোট করা। 

ইহরাম পরার নিয়ম
ইহরাম পরিধানের আগে সব ধরনের শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে হবে। যেমন হাত-পায়ের নখ কাটা, গোঁফ, চুল ও নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা ইত্যাদি। ইহরাম পরিধানের আগে ফরজ গোসলের মতো করে গোসল করা সুন্নত। তারপর মাথা বা দাড়িতে সুগন্ধি লাগানো। এরপর ফরজ নামাজের ওয়াক্ত হলে ফরজ নামাজ আদায় করবেন, অন্যথায় অজুর সুন্নত হিসেবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পর কিবলামুখী হয়ে ইহরাম পরিধান করবেন। পুরুষদের সেলাইবিহীন পোশাক ও নারীদের যেকোনো উপযুক্ত পোশাক পরিধানের মাধ্যমে ইহরাম পরিধান করতে হবে। ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট স্থান মিকাতে বা মিকাতে আসার আগে ওমরাহর নিয়ত করতে হবে এবং ইহরাম পরতে হবে। এরপর তালবিয়া পড়তে হবে। 

ইহরামের দোয়া 
ইহরামের সময় ওমরাহর নিয়ত করে এই দোয়া পড়া যায়—
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফা-ইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি। 
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি ওমরাহর ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
এরপর বলবেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা বি-ওমরতিন (অর্থ হে আল্লাহ, ওমরাহকারী হিসেবে আপনার দরবারে হাজির)।

তালবিয়া
এরপর নবী (সা.) যেভাবে তালবিয়া পড়েছেন, সেভাবে তালবিয়া পড়বেন। তালবিয়া হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক।’ অর্থ: আপনার দরবারে আমি হাজির হে আল্লাহ, আমি হাজির। আমি হাজির আপনার দরবারে। আপনার কোনো অংশীদার নেই। আমি আপনার দরবারে হাজির। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, সব নিয়ামত আপনার জন্যই এবং রাজত্ব আপনার জন্যই। 
পুরুষেরা উচ্চ স্বরে তালবিয়া পড়বেন। ইহরাম পরা থেকে তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত তালবিয়া পড়ার বিধান আছে। তাওয়াফ শুরু করলে তালবিয়া পড়া ছেড়ে দেবেন। 

ইহরাম অবস্থায় যা করা যাবে না
»    সেলাইযুক্ত কাপড় বা জুতা ব্যবহার করা। 
»    মাথা ও মুখ ঢাকা। 
»    চুল কাটা বা ছিঁড়ে ফেলা। 
»    নখ কাটা।
»    ঘ্রাণযুক্ত তেল বা আতর লাগানো। 
»    স্ত্রী সহবাস করা, যৌন উত্তেজনামূলক কোনো আচরণ করা। 
»    শিকার বা ঝগড়া-বিবাদ ও যুদ্ধ করা। 
»     চুল-দাড়িতে চিরুনি বা আঙুল চালনা করা, যাতে ছেঁড়ার আশঙ্কা থাকে। 
»    শরীরে সাবান লাগানো। 
»    উকুন, ছারপোকা, মশা, মাছিসহ কোনো জীবজন্তু হত্যা করা।
»    যেকোনো ধরনের গুনাহের কাজ করা। 

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
হ্যাঁ, আপনি সমস্ত দোয়া বাংলায় করতে পারবেন।

(০২)
আপনি যেহেতু আধা ঘন্টা অজু ধরে রাখতে পারেন সুতরাং আধা ঘন্টার মধ্যেই আপনার তাওয়াফের কাজ শেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ এরপর আপনার অযু ভেঙে গেলেও সমস্যা নেই।

তওয়াফ চলাকালীন সময়ে ওযু ভেঙ্গে গেলে সাথে সাথে ওযু করে এসে অবশিষ্ট তওয়াফ আদায় করবেন। তবে উত্তম হলো নতুন করে আবার তওয়াফ শুরু করে দেওয়া।

সেখানে অযু করা সম্ভব। 
কিছুটা কষ্টকরে হলেও আপনি মসজিদে হারামের অযুখানা হতে অযু করে আসবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by (3 points)
জাযাকাল্লাহু খাইরান ❤️

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...