আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
38 views
in পবিত্রতা (Purity) by (28 points)
edited by

আসসালামু আলাইকুম হুজুর।

আমার বোন এর পিরিয়ড  চলছিল। সে আর আমি একই গামছা শেয়ার করি। তার পিরিয়ড শেষ হওয়ার দিনগুলোর একদিন আমি গামছায় লাল লাল রং দেখতে পারি, এক সরলরেখা বরাবর কিছু অংশে লেগেছিল। নাপাক নিয়ে চিন্তা করতে করতে খুব সম্ভবত আমি আর পারছিলাম না, তাই আমি নিজেকে তখন প্রবোধ দিচ্ছিলাম যে এটা হয়তবা পিরিয়ডের রক্ত না,  এমনও হতে পারে তা মশা মারার ফলে লাগা মশার রক্ত। কিন্তু এখন আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে সেটা যদি আসলেই পিরিয়ডের রক্ত হয়। কারণ অনেক টুকু অংশে এক সরলরেখা বরাবর রক্ত লেগেছিল।

কিন্তু, সেই গামছার যেই অংশে লাল রক্ত দেখেছিলাম সেই অংশ হাত দিয়ে ঘষে আমি ঐদিনই ধুয়ে দিছিলাম। 

তবে হুজুর, আমি যখন গামছা ধুয়ে দেই এই সময় আমি চেক করি যে কোনো লাল রক্তের রং নেই। কিন্তু কয়েকদিন পর গামছা টা ব্যবহার করার সময় দেখি যে গামছার সেই ্পার্টের আশেপাশে লালচে রং ছড়িয়ে আছে। হয়তবা সেদিন আমার ধুয়ার পর ও রক্ত ছিল, কিন্তু আমার মনে আছে যে আমি ধুয়ার পর আর লাল রং দেখিনাই। অবশ্য আরেকটা কথা, গামছাটা লাল চেক প্রিন্টের, তাই হয়তবা ভিজা অবস্থায় বুঝা যাচ্ছিল না।

ক) তাহলে এতদিন গামছা টি যেই দড়িতে রেখেছিলাম সেটা কি নাপাক? যদি রক্তের কোনো চিহ্ন না দেখি তাহলে কি সেটাকে পাক ধরব?

খ) এই গামছা দিয়ে পা মুছে আমি কয়েক ফোটা তেল পায়ে দিয়ে পায়ে তেল মালিশ করেছিলাম । ফলে আমার পায়জামা তে তেল লেগে যায়। সেই পায়জামা যদি আমি  ঘর্মাক্ত হালকা ভেজা হাতে স্পর্শ করি আর তেল তেল ভাব হাতে চলে আসে, তাহলে কি হাত নাপাক হয়ে যাবে? নাকি হাত নাপাক হওয়ার জন্য সেক্ষেত্রে তেল এর সাথে নাপাকির চিহ্ন ও আসতে হবে? এটা কি টিস্যু দিয়ে চেক করতে হবে?

গ) এমনটা কি হতে পারে যে গামছা দিয়ে বারবার পা মুছার ফলে গামছার অন্যান্য পার্টে রক্ত লাগলেও তা অল্প পরিমাণে হওয়ায় টিস্যু দিয়ে চেক করলে দৃদৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? মানে সেই অংশ ভিজিয়ে টিস্যু দিয়ে সেই অংশ চেক করলেও রক্তের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছেনা?  নাকি রক্তের চিহ্ন গামছাতে অল্প হলেও থাকবে এবং তা টিস্যু দিয়ে চেক করলে বুঝা যাবে?

ঘ) এমনটা কি হতে পারে যে গামছা দিয়ে বারবার পা মুছার ফলে পা এ রক্ত লাগলেও তা অল্প পরিমাণে হওয়ায় এবং গামছার বারবার ঘষার কারণে টিস্যু দিয়ে চেক করলে দৃদৃষ্টিগোচর হচ্ছে না? মানে পা য়ের সেই অংশ ভিজিয়ে টিস্যু দিয়ে সেই অংশ চেক করলেও রক্তের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছেনা?  নাকি সেক্ষেত্রে রক্তের চিহ্ন পা য়ে অল্প হলেও থাকবে এবং তা টিস্যু দিয়ে চেক করলে বুঝা যাবে?

ঙ) আমার হাতে আজকে একটু রক্ত লেগেছিল। আমি কিছুক্ষণ আঙুল দিয়ে ঘষার কারণে সেটা হাতেই মিলিয়ে গিয়েছিল। সেটা আর বাইরে থেকে দেখে বুঝা যাচ্ছিল না যে রক্ত লেগেছিল। এজন্য উপরোক্ত গ) আর ঘ) প্রশ্নটা করছি। নাকি হাতে বাহ্যত নাপাকি দেখা না গেলেও টিস্যু দিয়ে চেক করলে লাল আভা পাওয়া যেত?

চ) হুজুর, আমি কি ওয়াসওয়াসা রোগী ? আমি কি এই বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করছি?

1 Answer

0 votes
by (751,320 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
ইয়াকিন বিশ্বাস ব্যতিত কোনো হুকুম প্রমাণিত হয়না। যেমন ইতিপূর্বে একটি মূলনীতি আমরা উল্লেখ করেছি যে, আল্লামা ইবনে নুজাইম রাহ,লিখেন,
اﻟْﻘَﺎﻋِﺪَﺓُ اﻟﺜَّﺎﻟِﺜَﺔُ: اﻟْﻴَﻘِﻴﻦُ ﻻَ ﻳَﺰُﻭﻝُ ﺑِﺎﻟﺸَّﻚِّ - ﻭَﺩَﻟِﻴﻠُﻬَﺎ ﻣَﺎ ﺭَﻭَاﻩُ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ اﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋًﺎ {ﺇﺫَا ﻭَﺟَﺪَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻓِﻲ ﺑَﻄْﻨِﻪِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻓَﺄَﺷْﻜَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﺧَﺮَﺝَ ﻣِﻨْﻪُ ﺷَﻲْءٌ ﺃَﻡْ ﻻَ ﻓَﻼَ ﻳَﺨْﺮُﺟَﻦَّ ﻣِﻦْ اﻟْﻤَﺴْﺠِﺪِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺴْﻤَﻊَ ﺻَﻮْﺗًﺎ، ﺃَﻭْ ﻳَﺠِﺪَ ﺭِﻳﺤًﺎ} 
ভাবার্থঃ তৃতীয় উসূল,ঈয়াক্বিন(দৃঢ় বিশ্বাস)সন্দের দ্বারা খতম হয় না। [তথা কারো কোনো বিষয় সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে, সে বিষয় সম্পর্কে বিপরিত কোনো সন্দেহের উদ্রেক হলে পূর্ব বিশ্বাসের কোনো ক্ষতি হবে না।অর্থাৎ নতুন করে জন্ম নেয়া সন্দেহ অগ্রহণযোগ্য ]
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/293

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার প্রশ্নটি অগোছালো ও অস্পষ্ট। যতটুকু বুঝেছি, সেই আলোকে বলছি, আপনার ঘরের জিনিষপত্রে যতক্ষণ না দৃশমাস কোনো নাপাকি দেখছেন, এর পূর্ব পর্যন্ত ঘরের কোনো জিনিষপত্র নাপাক হবে না। তাছাড়া প্রশ্নে বর্ণিত রশি ইত্যাদিও নাপাক হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...