আসসালামু আলাইকম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আপনার কাছে দুটি বিষয়ে পরামর্শ জানতে চাই।
১. প্রথম প্রশ্নঃ
একজন মুসলিম বোন বাংলাদেশে বসবাস করেন। তার বয়স বাড়ছে এবং পরিবার-সমাজের পক্ষ থেকে বিয়ের অনেক চাপ আছে । কিন্তু স্থানীয়ভাবে একজন অনুশীলনকারী, নামাজ ও ফরজ ইবাদতে স্থিরপ্রতিজ্ঞ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে।
এ সময় একজন অনুশীলনকারী মুসলিমের প্রস্তাব এসেছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে চান। তিনি একজন ডাক্তার, এবং চাকরির পাশাপাশি দাওয়াহ কাজও করছেন। স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে দীন শেখানো-বোঝানোর কিছু কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। তিনি সামনে এই কাজ আরও বাড়াতে চান এবং যুক্তরাজ্যে থাকা একজন সিনিয়র আলেমের সহায়ক হয়ে সেখানকার মুসলিমদের উপকারে আসতে চান। তিনি চান যে তার স্ত্রী ও ভবিষ্যৎ পরিবারও এই নেক কাজে অংশ নেবে।
ভাইটির পরিবার: বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়স্বজন, সবাই যুক্তরাজ্যেই থাকেন, তাই তাদের খেদমতের জন্যও তিনি সেখানে থাকতে চান।
এদিকে, বোনটির কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। তিনি সারাজীবন বাংলাদেশে, মুসলিম পরিবেশে থেকেছেন। যদিও পড়াশুনার কারণে যুক্তরাজ্যে যাওয়া হয়েছ। তিনি এখন বাংলাদেশে আছেন এবং দীন শেখার চেষ্টা করছেন, ইনশাআল্লাহ ।
তার মূল প্রশ্ন হলো— মুসলিম প্রধান দেশ (যদি বাংলাদেশকে সত্যিই এমন হিসেবে ধরা হয়) ছেড়ে যুক্তরাজ্যের মতো অমুসলিম দেশে যাওয়া কি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ? এতে কি কোন হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়ের আশঙ্কা আছে?
তিনি হারামের মধ্যে পড়তে চান না ইনশাআল্লাহ।
এছাড়া আরেকটি চিন্তা হলো—যদি তিনি বিয়ের পর যুক্তরাজ্যে চলে যান, তাহলে তার নিজের বাবা-মা বাংলাদেশেই থাকবেন। এতে তাদের খেদমত ও হক আদায়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। যদি যুক্তরাজ্যে যাওয়া শরীয়তসম্মত হয়, তাহলে বাবা-মায়ের হক ও দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব—এই দুটিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এ বিষয়ে পরামর্শ চান।
২. দ্বিতীয় (সম্পর্কিত) প্রশ্নঃ
যুক্তরাজ্যের মতো দেশের ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবিভাগ কী?
এগুলো কি দারুল কুফর গণ্য হয়, নাকি খ্রিস্টান-প্রধানতার কারণে আহলে কিতাবের দেশ হিসাবে বিবেচিত হয়?
খ্রিস্টানরা যদি আহলে কিতাব হন এবং তাদের যবাই নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ হয়—তাহলে কি এটি ঐ দেশের শ্রেণিবিভাগ বা সেখানে বসবাসের হুকুমকে প্রভাবিত করে?
প্রশ্ন হলো—
ইসলামী শ্রেণিবিভাগের দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশে বসবাসের বিষয় একজন মুসলিম কীভাবে বুঝবে? এবং এই শ্রেণিবিভাগ কি সেখানে থাকা বৈধ বা অবৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে কেউ যদি দীন মেনে চলে এবং দাওয়াহের কাজে যুক্ত থাকে?
এছাড়াও, এ ধরনের দেশে থাকা কি “মুশরিকদের মাঝে বসবাস” হিসেবে গণ্য হয়?
প্রশ্নকারী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা আশা করছেন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।