আপনার শরীরে যদি জীন নাও থাকে, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঐ রাকীর বলার দরুন আপনি জিন আক্রান্ত হবেননা।
(ক) প্রথম স্বপ্ন।
সুড়ঙ্গ / গর্তে হাঁটা
সাধারণত সংকট, দুশ্চিন্তা, জীবনের কঠিন সময়,
অথবা জীবনে কোন অজানা/অস্পষ্ট পথ—নির্ণয়হীনতার প্রতীক।
আগুন দেখা,
পাপ কাজের সতর্কতা,
ঝগড়া-বিবাদ, দুনিয়াবি পরীক্ষার ইঙ্গিত,
অথবা ঈমান দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা।
একজন মানুষ বসে থাকা,
আপনার জীবনে কারো প্রভাব—তিনি হয়তো ভুল পথে টানছে, অথবা আপনি তার কারণে সমস্যায় আছেন।
কখনো এটি নিজের নফস ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকেও নির্দেশ করে।
★এই স্বপ্নটি সাধারণত সতর্কতামূলক।
ইশারা হতে পারে—
আপনি যে পথে যাচ্ছেন তা আপনার জন্য উপকারী নয়।
আত্মিক বা নৈতিক দুর্বলতা আছে
কিছু পাপ বা গোনাহের কারণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন
আল্লাহ আপনাকে সতর্ক করছেন যেন আপনি নিজের আমল ঠিক করেন
করণীয়ঃ
বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার
৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে নিয়মিত আদায় করুন।
নিজের সম্পর্ক, বন্ধুবান্ধব, পরিবেশ যাচাই করা
কোন গোপন ভুল বা নফসের দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধন করুন।
★(খ) দ্বিতীয় স্বপ্ন
“স্বপ্নের মধ্যে বারবার দেখতে যে আমি কিছু খাচ্ছেন"
স্বপ্নে খাদ্য দেখা বা খাওয়া,
রিযিকের বৃদ্ধি
উপকার লাভ
দুনিয়াবি সাচ্ছন্দ্য
কল্যাণ, সুখবর
কিছু ক্ষেত্রে দ্বীনী জ্ঞান লাভকেও বোঝায়।
বারবার একই স্বপ্ন দেখা,
কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আল্লাহ তাআলা আপনার দিকে বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
সাধারণত এটি হালাল রিযিক, শান্তি, জীবিকার উন্নতি বা নতুন সুযোগ আসার প্রতীক।
এই স্বপ্নটি মূলত ভালো স্বপ্ন,
ইশারা দেয়—আপনার সামনে রিযিক, উপকার বা সাচ্ছন্দ্যের দরজা খুলতে পারে।
এমতাবস্থায় করণীয়:
আল্লাহর প্রতি শোকর করা
হালাল রিযিক অর্জনে দৃঢ় থাকা
সম্ভব হলে সাদকা করা।
★(গ) তৃতীয় স্বপ্ন
“পুরনো অন্ধকার বাড়ি—আপনার পরিবারসহ সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও থাকা শুরু"
পুরনো ও অন্ধকার ঘর দেখা,
অতীতের কোনো চাপ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতা,
পারিবারিক সমস্যা বা দায়িত্বের ভার,
অথবা অতীতের কোন ঘটনা আপনাকে প্রভাবিত করছে,
পরিবারসহ থাকা ও খাওয়া-দাওয়া করা।
পরিবারকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত
পরিবারে পরিবর্তন আসা
কখনো এটি বাসস্থান পরিবর্তন,
অথবা পুরনো কোনো সমস্যার পুনরায় সামনে আসা বোঝায়।
অন্ধকার,
অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্তহীনতা
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
অথবা ঈমান/আত্মিক অবস্থার দুর্বল অবস্থার সতর্কতা।
এই স্বপ্ন ইঙ্গিত করছে—
পরিবারকে কেন্দ্র করে কোনও পরিবর্তন/দায়িত্ব/সমস্যা আসতে পারে
পুরনো কিছু বিষয় আপনাকে প্রভাবিত করছে
আল্লাহ আপনাকে পরিবারকে নিয়ে সতর্ক ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বলছেন
করনীয় হলো,
পরিবারে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা
কারো সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে সমাধান করা।
পরিবারের জন্য সাদকা।
ঘরে সূরা বাকারাহ পাঠ করা (হাদিসে শয়তান দূরে থাকে)
(কিছু তথ্য সংগৃহীত।)
(০৩)
ওয়াক্তের শুরুতে মাগরিব নামাজ পড়ে নামাজের পর উক্ত আমল গুলি করবেন।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلَا إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ الْقُرْآنَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَإمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا فِيهِ الرَّبَّ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! আমাকে রুকূ-সাজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই তোমরা রুকূ‘তে তোমাদের ‘রবের’ মহিমা বর্ণনা কর। আর সাজদায় অতি মনোযোগের সাথে দু‘আ করবে। আশা করা যায়, তোমাদের দু‘আ ক্ববূল করা হবে।
মুসলিম ৪৭৯, নাসায়ী ১০৪৫, আহমাদ ১৯০০, দারেমী ১৩৬৫, সহীহ আল জামি‘ ২৭৪৬।
সুতরাং প্রমানীত হলো হলো সেজদাহ দু'আর জায়গা।
আর দরুদ শরীফও দু'আ।
তাই সেজদায় দরুদ শরীফ পাঠ করা যাবে।
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَهَبَ ثُلُثَا اللَّيْلِ قَامَ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللَّهَ اذْكُرُوا اللَّهَ جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ " . قَالَ أُبَىٌّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي فَقَالَ " مَا شِئْتَ " . قَالَ قُلْتُ الرُّبُعَ . قَالَ " مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ " . قُلْتُ النِّصْفَ . قَالَ " مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ " . قَالَ قُلْتُ فَالثُّلُثَيْنِ . قَالَ " مَا شِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ " . قُلْتُ أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا . قَالَ " إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ "
উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের দুই-তৃতীয়াংশ চলে যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জেগে দাড়িয়ে বলতেনঃ হে মানবগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে স্মরণ কর, তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে স্মরণ কর। কম্পন সৃষ্টিকারী প্রথম শিঙ্গাধ্বনি এসে পড়েছে এবং এর পরপর আসবে পরবর্তী শিঙ্গাধ্বনি। মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, মৃত্যু তার ভয়াবহতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।
উবাই (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি তো খুব অধিক হারে আপনার প্রতি দরূদ পাঠ করি। আপনার প্রতি দরূদ পাঠের জন্য আমি আমার সময়ের কতটুকু খরচ করবো? তিনি বললেন, তুমি যতক্ষণ ইচ্ছা কর। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু ইচ্ছা কর, তবে এর চেয়ে অধিক পরিমাণে পাঠ করতে পারলে এতে তোমারই মঙ্গল হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি কি অর্ধেক সময় দরূদ পাঠ করবো? তিনি বললেন, তুমি যতক্ষণ চাও, যদি এর চেয়েও বাড়াতে পারো সেটা তোমার জন্যই কল্যাণকর।
আমি বললাম, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ সময় দরূদ পাঠ করবো? তিনি বললেন, তুমি যতক্ষণ ইচ্ছা কর, তবে এর চেয়েও বাড়াতে পারলে তোমারই ভাল। আমি বললাম, তাহলে আমার পুরো সময়টাই আপনার উপর দরূদ পাঠে কাটিয়ে দিব? তিনি বললেনঃ তাহলে তোমার চিন্তা ও কষ্টের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।
হাসানঃ সহীহাহ (৯৫৪) তিরমিজি ২৪৫৭)