আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
91 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
কারো কথায় বা কাজে প্রতিনিয়ত কষ্ট পেয়ে এবং নিজের হক নষ্ট হওয়ার পর এসব কথা বললে কি অভিশাপ হবে?
১. আল্লাহ আপনার বিচার করুক

২. হাশরের ময়দানে হিসাব হবে

৩. আল্লাহর সামনে কি জবাব দিবেন?

৪. আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম

৫. আমি আখিরাতে মাফ করব না

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

★ইসলামে কষ্ট পেলে বিচার আল্লাহর কাছে চাওয়া — বৈধ ও অনুমোদিত

ইসলামে কাউকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিলে, মজলুম (অত্যাচারগ্রস্ত) ব্যক্তির অধিকার আছে আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়ার।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

 "اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ"
“মজলুমের দোয়া থেকে বাঁচো, কারণ তার দোয়া ও আল্লাহর মধ্যে কোনো পর্দা থাকে না।”
— [সহিহ বুখারি ২৪৪৮, সহিহ মুসলিম ১৯/৬]

অর্থাৎ, অন্যায়কারী যদি অন্যের হক নষ্ট করে, কষ্ট দেয়, অপমান করে — তখন পীড়িত ব্যক্তি যদি বলে:

“আল্লাহ বিচার করবেন”,

“হাশরে হিসাব হবে”,

“আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম”,

এগুলো অভিশাপ নয়, বরং “বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া” — এটা হালাল, বৈধ, এমনকি কখনো ন্যায়সঙ্গত।

★ “আল্লাহ আপনার বিচার করুন” – এটা লা’নত নয়

“লা’নত” বা অভিশাপ মানে হলো — কারো উপর আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার দোয়া করা।
যেমন: “আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন”, “আল্লাহ তোমাকে লা’নত দিন” — এসব অভিশাপ, এবং মুসলিমের প্রতি বলা হারাম।

কিন্তু “আল্লাহ বিচার করুন” — এটা একটি দোয়া নয়, বরং “বিচার আল্লাহর হাতে তুলে দেওয়া”।

আপনি বলছেন যে,  আমি নিজের প্রতিশোধ নিচ্ছি না, আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি।
এটা অভিশাপ নয়, বরং ধৈর্যের এক রূপ।

★“আমি আখিরাতে মাফ করব না”

 ইসলামী দৃষ্টিতে, যদি কেউ সত্যিই আপনার উপর জুলুম করে, আর আপনি বলেন — “আমি আখিরাতে মাফ করব না”, তাহলে আপনি ন্যায্য হক দাবি করছেন। এটা হারাম নয়।
কিন্তু —আল্লাহ বলেন, ক্ষমা করা হলে আল্লাহও ক্ষমা করতে ভালোবাসেন:

"فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ"
“যে ক্ষমা করে ও সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।”
— (সূরা আশ-শূরা ৪০)

অর্থাৎ, আপনি যদি ক্ষমা করেন — তবুও ক্ষতি হবে না, বরং অগণিত সওয়াব পাবেন।
তবে কেউ যদি ইচ্ছা করে জুলুম চালায়, তখন আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়া ন্যায়।

★“হাশরে হিসাব হবে” – এটি হাকিকত, অভিশাপ নয়

এটা তো আল্লাহর দেওয়া সত্য প্রতিশ্রুতি — সবাইকেই হাশরে জবাব দিতে হবে।
আপনি যদি বলেন — “আল্লাহর সামনে কি জবাব দিবে?”, তাহলে আপনি স্মরণ করাচ্ছেন, অভিশাপ দিচ্ছেননা।

“আমি আখিরাতে মাফ করব না” এটি বলাবৈধ কিন্তু উত্তম নয়।
অন্যায় হলে বলা যায়, তবে ক্ষমা করা উত্তম

যদি কেউ আপনাকে কষ্ট দেয়, আপনি চাইলে আল্লাহর কাছে বিচার দিতে পারেন — এটা আপনার হক।
তবে নিজের অন্তর শান্ত রাখার জন্য ক্ষমা করাও এক বিশাল ইবাদত।
রাসুল ﷺ বলেছেন:

 “যে ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।” — (সহিহ মুসলিম ২৫৮৮)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...