জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০২)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
“তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো।” (সূরা আন-নিসা: 19)
রাসূল ﷺ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ করে।” (সুনান তিরমিযী)
স্ত্রীর পরিবারকে সম্মান দেখানো স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণের অংশ।
শরীয়তের দিক থেকে স্বামীর হক স্ত্রীর বাবা মা ও স্ত্রীর পরিবারের প্রতিঃ-
★ফরজ বা ওয়াজিব কোনো দায়িত্ব নেই।
স্বামীর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ, খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক নয়। কুরআন-হাদীসে এর কোনো ফরজ নির্দেশ নেই। স্ত্রীকে ভরণপোষণ করা স্বামীর দায়িত্ব, কিন্তু স্ত্রীর বাবা-মাকে নয়।
★সদাচরণ ও সর্ম্পক বজায় রাখা সুন্নত ও নৈতিক দায়িত্ব।
স্বামীকে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে ভালো আচরণ করে।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
শ্বশুর-শাশুড়ি যদিও প্রতিবেশী না, কিন্তু স্ত্রী’র আত্মীয়। তাই তাদের সাথে সদাচরণ করা ইসলামি চরিত্রের অংশ।
★স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য সম্মান দেখানো
স্ত্রীকে কষ্ট না দিয়ে তার পরিবারের সাথে অকারণে খারাপ আচরণ করা জায়েজ নয়। স্ত্রী তার পরিবারের সাথে দেখা করবে, যোগাযোগ রাখবে—এতে স্বামী বাধা দিতে পারে না, যতক্ষণ না তা হারাম কাজে পরিণত হয়।
★বিপদ আপদে সাহায্য করা হলে এটি সওয়াবের কাজ।
যদি স্বামী স্বেচ্ছায় স্ত্রীর পরিবারের আর্থিক সাহায্য করে, তবে তা সদকা ও সওয়াবের কাজ, কিন্তু তা তার উপর ফরজ নয়।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বামী কোনো কিছু আশা করতে পারেনা।
যদি সে শ্বশুরবাড়ির মানুষের ওপর অসন্তুষ্ট থাকে (বাড়ি মানুষের ব্যবহার যদি তার কাছে ভালো না লাগে বা অপমানজনক লাগে, আদর যত্ন যদি ঘাটতি মনে হয়) তাহলে এটার জন্য সে তার বউ এর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা, তাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারেনা।
একইভাবে স্বামীর পরিবার যদি বলে যে মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে আমরা ওরকম আদর যত্ন পায়নি যেরকম আশা করেছিলাম, তাহলে এটা নিয়ে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করা যায়েজ নেই।
(০২)
স্বামী যদি এমন কিছু বলে যেটাতে আপনার দ্বিমত আছে, তাহলে না রেগে বা সম্মান রেখে তার সাথে সে কথাটা বলা যাবে।
এখানে স্বামী ছাড়া থাকতে না চাওয়া এবং এ কথা তাকে বলা আপনার ভুল নয়।
এটি বলার ন্যায্য অধিকার আপনার রয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ-
স্বামীর সাথে কোন ব্যাপারেই দ্বিমত পোষণ করা যাবে না,এ কথা সঠিক নয়।
বরং সম্মান বজায় রেখে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করা যাবে।
শেষোক্ত প্রশ্নের জবাব,
এসব ব্যাপারেও স্বামীর সাথে দ্বিমত পোষণ করা যাবে।
(০৩)
এ ধরনের পরামর্শ শুনে আপনার স্বামীর রেগে যাওয়া ঠিক নয়।
এ ধরনের পরামর্শ দেয়ার অধিকার আপনার রয়েছে।
(০৪)
এধরণের কথা ইসলামে নেই।
এটি ন্যায্য অধিকার নয়।
ইসলাম ন্যায্য অধিকারে বিশ্বাসী।
(০৫)
মেয়ের জামাই কোন ভুল করলে তাকে মেয়ের বাবা মা হিকমতের সহিত কিছু বললে কোনো সমস্যা নেই,তারাও জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।
তবে সংসার ভেঙে যায়,এমন ধরনের কথা না বলাই কাম্য।
একটু হিকমতের সহিত বুঝিয়ে বলা উত্তম পদ্ধতি।
(০৬)
এলাকার ইমাম সাহেব বা মুরব্বিদের মাধ্যমে বুঝাতে পারেন।
তিনি যাদেরকে মেনে চলেন,তাদেরকে দিয়ে বুঝাতে পারেন।
পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে তার জন্য দোয়া করবেন।
ইনশাআল্লাহ সফলতা পাবেন।