আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
18 views
ago in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
১.
ইসলামে স্ত্রীর বাবা-মা এবং পরিবারের উপর স্বামীর কতটুকু হক আছে? শ্বশুরবাড়ি থেকে কি স্বামী কিছু আশা করতে পারে?  যদি সে শ্বশুরবাড়ির মানুষের ওপর অসন্তুষ্ট থাকে (বাড়ি মানুষের ব্যবহার যদি তার কাছে ভালো না লাগে বা অপমানজনক লাগে, আদর যত্ন যদি ঘাটতি মনে হয়) তাহলে এটার জন্য কি সে তার বউ এর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারে বা তাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারে? একইভাবে স্বামীর পরিবার যদি বলে যে মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে আমরা ওরকম আদর যত্ন পায়নি যেরকম আশা করেছিলাম, তাহলে কি এটা নিয়ে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করা যায়েজ?

২.

স্বামী যদি এমন কিছু বলে যেটাতে আমার দ্বিমত আছে তাহলে না রেগে বা সম্মান রেখে তার সাথে সে কথাটা বলা যাবে? যেমন আমার স্বামী চায় প্রথম প্রেগনেন্সির সময়েই আমাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সে অন্য শহরে থাকবে জীবিকার সন্ধানে, দুই সপ্তাহ পর পর সে আমাকে ২ দিনের জন্য দেখতে যাবে। যদিও সে চাইলে তার সাথে আমাকে রাখতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে এখন আমরা ঘর সংসার একসাথে শুরু করিনি, আমি আমার বাপের বাড়িতে থাকি এবং তার একটা পার্মানেন্ট জব হলে সে আমাকে উঠাবে বলেছে। কিন্তু এখন শুনতেছি সেই উঠানো টা হবে আমার শ্বশুর বাড়িতে যেখানে আমি কখনো যাইনি। এমত অবস্থায় স্বামী ছাড়া এতদিন থাকা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে এবং ওই সময়টাতে আমি আমার মায়ের কাছাকাছিও থাকতে চাই। এসব ভেবে আমি সুন্দর করে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে ওখানে তো আমি এখনো যাইনি, ওখানে ওই অবস্থাতে আপনাকে ছাড়া আমার মানায় না হয়তো কঠিন হবে। সে তো চরম রেগে যায়,আমাকে বেয়াদব বলে এবং ঝগড়া করে একপর্যায়ে গালিগালাজ ও করে । আমাকে শুধু বলে যে ইসলামে স্বামীর উপর দিয়ে কথা বলার অধিকার নেই। আমি জানতে চাই এখানে স্বামী ছাড়া থাকতে না চাওয়া এবং এ কথা তাকে বলা কি আমার ভুল? আমি এটাও জানতে চাই যে স্বামীর সাথে কোন ব্যাপারেই কি দ্বিমত পোষণ করা যাবে না?
একবার আমার পরিচিত এক এলাকায় আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম। রাস্তায় কাজ চলছিল, এমন অবস্থা ছিল যে রিকশা আসা যাওয়া কঠিন ছিল। সে রিকশা নিতে চেয়েছে, আমি যেহেতু  ওই এলাকায় চিনি সেহেতু আমি তাকে বলেছি যে এদিক দিয়ে রিক্সায় গেলে অনেক ঘুরে যেতে হবে তার চেয়ে আমরা অন্য দিক দিয়ে একটু হেঁটে যাই। এতে নাকি তার আদেশ অমান্য করা হয়েছে এবং আমি বেয়াদব। ঘুরতে যাওয়ার পর আমি নদী দেখতে যেখানে দাঁড়াতে চেয়েছি সেখানে সে না দাঁড়িয়ে অন্য জায়গায় দাঁড়িয়েছে, আমি আবদার করে দুই তিন বার বলেছি যে চলে না ওখানে যেয়ে দাড়াই। এতে সে রেগে গেছে, আমি নাকি কথা শুনি না আমি নাকি বেয়াদব। সে ওখান থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে চেয়েছে এবং আমি সরি বলার পর বাসায় এসেও সে আমার সাথে ঝগড়া করেছে। আমি জানতে চাই এসব ব্যাপারেও কি স্বামীর কথার উপর কথা বলা যাবে না?
৩.
আমার স্বামীকে যদি ইসলামের কোন জিনিস মেনে চলতে পরামর্শ দিই বা অনুরোধ করি তাহলেও সে রেগে যায়। বলে আমি যেন তাকে জ্ঞান না দেই, বেয়াদবি না করি। যেমন আমি যদি বলি কয়েক বছর আগে তো আপনি নজরের হেফাজত করতেন, কিন্তু এখন আপনি গায়ের মাহারাম দের সাথে হাসি ঠাট্টা করেন। একটু আগের মত হওয়ার চেষ্টা করেন। তাহলেও সে রেগে যায়। কালকে আমি বলেছি যে একটু সময় করে তার বাবা মার সাথে অন্তত কথা বলতে কারণ দুই দিন হয়ে গেছে। সে আমাকে বলছে যে আমি যেন তাকে জ্ঞান না দেই। কেউ তাকে জ্ঞান দিক এটা তার পছন্দ না।

৪.

আমার স্বামী আমাকে বলে যে ইসলামে স্বামী স্ত্রীর সম অধিকার নেই। এই জিনিসটাকে সে এভাবে দেখায় যে সে আমাকে যা ইচ্ছা বলতে পারবে কিন্তু আমি তাকে কিছু বলতে পারব না। ইসলাম কি বলে আমি জানতে চাই।

৫.

মেয়ের বাবা-মা কি মেয়ের জামাই কোন ভুল করলে তাকে কিছু বলতে পারবেনা?  ছেলে পক্ষের আদর যত্ন ঠিকমতো হয় নাই দেখে আমার স্বামী আমার মায়ের সাথে বেয়াদবি করে উচ্চস্বরে  কথা বলছিল। আমার মা এটুক বলেছে যে ও বেয়াদবের মত কথা বলছে। এই কথাটাকে কেন্দ্র করে আমার স্বামী এত রেগে যায় যে কত বড় সাহস আমার শাশুড়ি আমাকে বেয়াদব বলে! তখন সে শুধুমাত্র এই কারণে আমাকে ছেড়ে দিতে উদ্যত হয়।

আরেকদিন আরেকটা ব্যাপারে ঝগড়া লাগায় সে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে এবং সে নিজেই আমার মাকে ডেকে আনে। আমার মা সেই কথা জানার পর রাগে আমাকে বলে যে ছেড়ে দিলে ছেড়ে দেক, তুই এত ভয় পাস কেন? আমার মায়ের এই কথাটার জন্য সে এখন পর্যন্ত আমার উপর রেগে আছে। তার ভাষ্যমতে শাশুড়ি কিভাবে মেয়ের জামাইকে এই কথা বলে? আমি জানতে চাই ইসলামের দৃষ্টিতে এখানে শাশুড়ির এটা বলা কি ঠিক আছে নাকি নাই ?

৬.
কোন বিষয় নিয়ে বেশি রেগে যাওয়া আমার স্বামীর অভ্যাস। রেগে গিয়ে সে ছয় মাসের চারবার আমাকে ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সে শুধু নিয়ত করে ফেলে নি দেনমোহরের টাকা যোগাড় করার জন্য মানুষকে ফোন দিয়ে টাকা ধারও চেয়েছে, তখন মুখ দিয়ে কিছু একটা বের হয়ে গেলেই সব শেষ হয়ে যেত। এমত অবস্থায় আমার স্বামীকে যদি কোন ইসলামিক কাউন্সেলিং করানো যেত তাহলে ভালো হতো। উল্লেখ্য যে আমার স্বামী  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, সুন্নতি দাড়ি  আছে, পাঞ্জাবি পাজামা পরে এবং টাখনুর উপর পড়ে। তিন চিল্লা দিয়েছে। আমার আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে যে কোন হুজুর বা ওলামা যদি তাকে বুঝায় তাহলে সে বুঝবে। কোন পদ্ধতি বা ঠিকানা জানা থাকলে প্লিজ জানাবেন।

1 Answer

0 votes
ago by (663,090 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০২)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 
“তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করো।” (সূরা আন-নিসা: 19)

রাসূল ﷺ বলেছেন,

“তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণ করে।” (সুনান তিরমিযী)

স্ত্রীর পরিবারকে সম্মান দেখানো স্ত্রীর প্রতি উত্তম আচরণের অংশ।

শরীয়তের দিক থেকে স্বামীর হক স্ত্রীর বাবা মা ও স্ত্রীর পরিবারের প্রতিঃ-

★ফরজ বা ওয়াজিব কোনো দায়িত্ব নেই।
স্বামীর জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণপোষণ, খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক নয়। কুরআন-হাদীসে এর কোনো ফরজ নির্দেশ নেই। স্ত্রীকে ভরণপোষণ করা স্বামীর দায়িত্ব, কিন্তু স্ত্রীর বাবা-মাকে নয়।

★সদাচরণ ও সর্ম্পক বজায় রাখা সুন্নত ও নৈতিক দায়িত্ব।
স্বামীকে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে ভালো আচরণ করতে হবে। 

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে ভালো আচরণ করে।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

শ্বশুর-শাশুড়ি যদিও প্রতিবেশী না, কিন্তু স্ত্রী’র আত্মীয়। তাই তাদের সাথে সদাচরণ করা ইসলামি চরিত্রের অংশ।

★স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য সম্মান দেখানো
স্ত্রীকে কষ্ট না দিয়ে তার পরিবারের সাথে অকারণে খারাপ আচরণ করা জায়েজ নয়। স্ত্রী তার পরিবারের সাথে দেখা করবে, যোগাযোগ রাখবে—এতে স্বামী বাধা দিতে পারে না, যতক্ষণ না তা হারাম কাজে পরিণত হয়।

★বিপদ আপদে সাহায্য করা হলে এটি সওয়াবের কাজ।

যদি স্বামী স্বেচ্ছায় স্ত্রীর পরিবারের আর্থিক সাহায্য করে, তবে তা সদকা ও সওয়াবের কাজ, কিন্তু তা তার উপর ফরজ নয়।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বামী কোনো কিছু আশা করতে পারেনা।  

যদি সে শ্বশুরবাড়ির মানুষের ওপর অসন্তুষ্ট থাকে (বাড়ি মানুষের ব্যবহার যদি তার কাছে ভালো না লাগে বা অপমানজনক লাগে, আদর যত্ন যদি ঘাটতি মনে হয়) তাহলে এটার জন্য সে তার বউ এর সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারেনা, তাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারেনা।

একইভাবে স্বামীর পরিবার যদি বলে যে মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে আমরা ওরকম আদর যত্ন পায়নি যেরকম আশা করেছিলাম, তাহলে এটা নিয়ে স্বামী তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করা যায়েজ নেই।

(০২)
স্বামী যদি এমন কিছু বলে যেটাতে আপনার দ্বিমত আছে, তাহলে না রেগে বা সম্মান রেখে তার সাথে সে কথাটা বলা যাবে।

এখানে স্বামী ছাড়া থাকতে না চাওয়া এবং এ কথা তাকে বলা আপনার ভুল নয়।
এটি বলার ন্যায্য অধিকার আপনার রয়েছে। 

এ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ- 

স্বামীর সাথে কোন ব্যাপারেই দ্বিমত পোষণ করা যাবে না,এ কথা সঠিক নয়। 

বরং সম্মান বজায় রেখে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করা যাবে। 

শেষোক্ত প্রশ্নের জবাব,
এসব ব্যাপারেও স্বামীর সাথে দ্বিমত পোষণ করা যাবে। 

(০৩)
এ ধরনের পরামর্শ শুনে আপনার স্বামীর রেগে যাওয়া ঠিক নয়।
এ ধরনের পরামর্শ দেয়ার অধিকার আপনার রয়েছে। 

(০৪)
এধরণের কথা ইসলামে নেই।
এটি ন্যায্য অধিকার নয়।

ইসলাম ন্যায্য অধিকারে বিশ্বাসী।

(০৫)
মেয়ের জামাই কোন ভুল করলে তাকে মেয়ের বাবা মা হিকমতের সহিত কিছু বললে কোনো সমস্যা নেই,তারাও জবাব দেয়ার অধিকার রাখে। 
তবে সংসার ভেঙে যায়,এমন ধরনের কথা না বলাই কাম্য।

একটু হিকমতের সহিত বুঝিয়ে বলা উত্তম পদ্ধতি। 

(০৬)
এলাকার ইমাম সাহেব বা মুরব্বিদের মাধ্যমে বুঝাতে পারেন।

তিনি যাদেরকে মেনে চলেন,তাদেরকে দিয়ে বুঝাতে পারেন।

পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে তার জন্য দোয়া করবেন।
ইনশাআল্লাহ সফলতা পাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by
 আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।এত তাড়াতাড়ি উত্তর দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি চেষ্টা করব তাকে এমন কাউকে দিয়ে বোঝাতে যার কথা উনি মানবে ইন শা আল্লাহ।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...