+1 vote
83 views
in সাওম (Fasting) by (77 points)
edited by

بِسْمِ الّٰلهِ الرَّحْمٰنِ الرَحِيْمِ

মুহতারাম আসসালামু'আলাইকুম,

রমাদান মাস চলছে... এই বিষয় কিছু প্রশ্ন পেশ করতে চাই। সেগুলো হলঃ 

১. একজন রোজাদার কি সিয়ামরত অবস্থায় আঁতর মাখতে পারবেন? 

২. শাহরির সঠিক শেষ সময় কোনটি? অর্থাৎ, ফযরের আযানের কত আগ পর্যন্ত শাহরি করা যাবে বা উচিৎ? 

৩. একজন রোজাদার কি দিনে ঘুমালে তার সিয়ামের কোন ক্ষতি হবে? অথবা কতটুকু ঘুমালে সমস্যা হবেনা?

৪. ম্যাসওয়াক করার পর যদি কিছু ম্যাসওয়াকের আঁশ পেটে চলে যায় এতে কি সিয়াম ভঙ্গ হবে? অনুরুপ, ওযু করার সময় যদি নাকে বা মুখে পানি চলে যায় এতে কি রোজা ভঙ্গ হবে? যদি মুখে থুথু আসে সেটা কি গিলে ফেলা যাবে? 

৫. তারাবির সালাত সুন্নত নাকি ওয়াজিব?  তারাবীর সালাত ২০ রাকাত পড়া কি বাধ্যতামুলক? ২০ রাকাতের কম পড়া যায়েজ হবে কিনা? কেও যদি তারাবীর সালাত না পড়েন অসুস্থতার কারণে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করেন সে কি গুনাগার হবেন? কেও যদি তারাবীর সালাত আদায় না করেন বা পরিত্যাগ করেন, এতে কি তার রোজা কবুল করবেন আল্লাহ? 

৬. ইফতারির সময় হলে যখন আযান হয়, অর্থাৎ, আমার নিকটস্থ মসজিদের আযান শুনে ইফতার শুরু করবো নাকি দুরে কোথাও আযান যদি আমার কানে আসে (সর্বপ্রথম) তখন ইফতার শুরু করবো?

৭. রমাদান মাসে কি বিয়ে করা যায়?  

৮. একজন বলেছেন, রমাদান মাসের রাতের সকল নামাজ ই তাহাজ্জুত নামাজ। কথাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?

৯. বেনামাজির রোজা কি আল্লাহর কাছে কি কবুল হবে? অর্থাৎ যে কিনা রোজা রেখেছে কিন্তু নামাজ পরেনা। 

" ওস্তাদ, প্রশ্ন বিশদ আকারে হওয়ার জন্য দুঃখিত। বিস্তারিতভাবে উত্তর দিলে উপকৃত হবো। "

1 Answer

0 votes
by (42.2k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

(১)

আতর ইত্যাদির সুঘ্রাণ বা কোনো কিছুর দুর্গন্ধ নাকে পৌছালে রোযা ভঙ্গ হবে না।তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনো কিছু জ্বালিয়ে তার ধোয়া-কে নাকে নিলে রোযা ভেঙ্গে যাবে।

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১০/১৫৩

(২)

সাধারণত সুবহে সাদিক উদয়ের পূর্ব পর্যন্তই সেহরীর সময়।এবং সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পর ফজর শুরু হয়ে যায়।আর তাহাজ্জুদের নামাযও সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পড়া যায়, এরপর আর পড়া যায় না।কেননা তখন ফজর শুরু হয়ে যায়।

কিন্তু ক্যালেন্ডারে সেহরীর শেষ সময় এবং ফজরের শুরুর সময়ের মধ্যে সতর্কতামূলক ৫ মিনিটের ব্যবধান রাখা হয়েছে।অর্থাৎ সেহরী শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট পূর্বে সেহরীর শেষ সময়কে দেখানো হয়েছে।

যেহেতু সতর্কতার স্বার্থে ৫ মিনিট পূর্বে সেহরীর সময়কে শেষ সময় হিসেবে দেখানো হয়েছে,তাই এই সতর্কতাকে যত্নসহকারে মানা ও পালন একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

(৩)রোযা ফাসেদ হবে না।তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী ঘুমানো মাকরুহে তানযিহি হবে।

(৪)

জ্বী, রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।তবে এক্ষেত্রে কাফফারা আসবে না।শুধুমাত্র কা'যা করে নিলেই চলবে।

মূখে থুথু আসলে সেটাকে গিলে ফেলা যাবে।কেননা রোযা ভঙ্গ হয়,বাহির থেকে কিছু ভিতরে পৌছালে।  কিন্তু থুথু তো ভিতরেরই জিনিষ।

(৫)

তারাবিহর সালাত ২০ রা'কাত সুন্নাতে মু'আক্কাদা।মসজিদে জামাতের সাথে পড়া সুন্নাতে মু'আক্কাদা আলাল কেফায়া।বিশেষ প্রয়োজনে তরক করা যাবে, গোনাহ হবে না।

(৬)নিকটস্থ মহল্লার মসজিদের আজান শুনেই ইফতার, নামায আদায় করবেন।

(৭)রমজানে বিয়ে করা যায়।নাজায়ের কোনো কারণ নেই।

(৮)

 মাহে রমজানের সকল নামাযকে কিয়ামুল লাইল বলা যেতে পারে।তবে সকল নামাযকে যে তাহাজ্জুদ বলা হবে,কথাটা সঠিক না।

(৯)

নামায একটি ফরয বিধান,রোযা পৃথক আরেকটি ফরয বিধান। একটা না করলে অন্যটা যে আদায় হবে না।বিষয়টি এমন নয়।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.
by
আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত শাইখ
ওযু করার সময় যদি নাকে বা মুখে পানি চলে যায় আর সেটা অনিচ্ছাকৃত হয় আর ব্যক্তির খেয়াল ছিলো না সে সিয়াম  রেখেছে যার ফলে এক্সট্রা সাবধানতা ও অবলম্বন করা হয়ে উঠে নি...সেক্ষেত্রে কি সিয়াম এর কোনো ক্ষতি হবে?

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

Related questions

...