আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
reshown by
আমর বাবা নাই আমি মা বাবা ছাড়া আর পরিচিত একজন মানুষ কে বিয়ে করি ।২০২২ সালে পরে আমি আমার আমার মাকে জানাই মা অনেক কষ্ট পায়। মা পরে মেনে নিয়েছে ছেলে ভালো নামাজী রোজাদার কিন্তু ২০২২-২০২৪ সালে অনেক কিছু ঘটে যায় ধৈর্য সহকারে মেনে নেই। ছেলে তখনো বেকার ছিল। কোন প্রকার আবদার ছিল না তার কাছে। কোন প্রকার লোক ছিল না তার কাছে। টাকা পয়সার জন্য কখনো তার উপর জোরাজোরি করিনি। কিন্তু মাঝেমধ্যে খুব রাগ করতাম তার কিছু কিছু কাজের কারণে যেমন সে মাঝে মধ্যে বেখেয়ালি হয়ে অনেক কথা বলতো যা মেনে নিতে আমার কষ্ট হতো। তারপরেও মেনে নিয়েছিলাম সবকিছু। ভালবাসতে শুরু করি স্বামীকে এই ৩ বছর প্রায় হয়েছে।  ওকে কষ্ট দিলে ওর থেকে কষ্ট আমি বেশি পাই। ওহ অনেক সময় বুঝতো অনেক সময় বুঝতো না। এভাবে ২০২৫ সাল চলে আসে ওর জাপানে চাকরি হয় আল্লাহুম্মা বারিক।কিন্তু ছেলের পরিবারের কেউ আমাদের বেশি কিছু জানে না। আমি বলতে মানা করেছি। জাপানের ভিসা আসার পর থেকে ওর উপর কিছু মানুষিক চাপ আসে ছেলে নিজ থেকে তার পরিবারকে জানাই বিয়ে শাদীর বিষয় । ছেলের বয়স অলমোস্ট ২৬ বছর । সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার । আর আমি তার বউ hon's ফাইনাল ইয়ার চলছে। যখন থেকে ওর পরিবারের সাথে আমাদের বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে । আমাদের মাঝে মাঝে অনেক গ্যাপ তৈরি হয়। বুঝতে পারতেছি মানসিক চাপ বেশি। কিন্তু তোমার কি অপরাধ  আমিও তো চাই এই বিয়েকে সামাজিক করতে। ওর পরিবারকে যখন বলা হয়েছে প্রথমবার তার পরিবার মেয়ে মানে (আমি) আমার পরিবারকে বলে ছেলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের যখন আসবে তখন তাকে বিয়ে দিবে। এখন খালি এংগেজমেন্ট করে রাখতে বলছে। এরপর যখন ছেলে তার পরিবারকে জোর দিয়ে বলল ওর পরিবার মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে ঠিক আছে শুধু ছেলে ছেলের মা আসবে সাথে ওর মামা আনবে আর কাউকে আনবে না । কারণ আমার স্বামীর বড় ভাই কম বয়সে বিয়ে করেছিল পরিবার বাধ্য হয়ে ইন্টারে পড়ুয়া আমার ভাসুরকে দিয়ে দিয়েছিল । এই ঘটনা আজ থেকে ২০ বছর আগের কথা । যাই হোক তাই তারা যাচ্ছে এখন এনগেজমেন্ট হবে ভবিষ্যতে ডিসেম্বরে ২০২৫ সালে বিবাহ বন্ধন হবে। এই কথার সাথে মেয়ের পরিবার কোনভাবে একমত নয় । কারণ মেয়ের মা জানত যে ছেলে মেয়ে তো আগে বিয়ে করে ফেলসে। তাই মেয়ের মা দেরি করতে চাচ্ছে না। কিন্তু দিন শেষে মেয়ের পরিবার থেকে লোকজনের এই বিষয়ে জানতে বা যারা জানত না সবাই মিলে বলে । শুধু ছেলের মা আসলে এই বিয়ে দিলে ভালো হবে না কারণ তারা একদিন আগেই বলেছিল ছেলের মা,  ছেলে এবং তার মামা আসবে। বিষয়টা দেখুন  অবাক করার মতন। এরপর ছেলে মানে আমার সামনে আমাকে রাতে ফোন দেয় বলে আমার কি হয়েছে তার পরিবার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে  আমাকে এঙ্গেজমেন্ট করে রাখবে এসব বিষয়ে কথাবার্তা বলল। মেয়ের পরিবার মানে আমার পরিবার আমাকে বলতেছে যারা এত দ্রুত মত পাল্টায় । কথা কাজে মিল নাই । তারা ভবিষ্যতে কি করবে এসব ভেবে তারা চিন্তিত। কিন্তু মেয়ে তো বলতে পারেনা সবার কাছে যে আমার তো বিয়ে আগেই হয়ে গেছে । এসব বিষয়ের স্বামীর সাথে স্ত্রী কথা কাটাকাটি হয় রাগারাগি হয়। ছেলে তার মার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে তার পরিবারের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। সে জাপান চলে যাবে তার উপর স্ট্রেস  যাচ্ছে এসব নিয়ে কথা বলছে আমাকে বলতেছে "তোমার জন্য এত কিছু করলাম পরিবারকে এত কিছু বোঝানোর চেষ্টা করলাম , তারপরও তোমার মন পেলাম না।" আমি রাগ দেখিয়েছি । আমার স্বামী যদি এরকম হয় । আমি ইনসাফ খুঁজবো কার কাছে। আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি আমার শ্বশুর বাড়ি মানুষ সুবিধার না। আমার স্বামী বলে তার পরিবারকে নিয়ে আমাকে চলতে হবে । না হলে আমি আসলে ধ্বংস করছি সবকিছু। এই  যে ৫ দিন তার পরিবারের সাথে সে কথা বলল আমার স্বামী। এই পাঁচ দিনও আমার সাথে অনেক খারাপ করছে। আমিও রাগারাগি করছি আমার রাগটা তো কোথায় যে তার স্বামীকে ভালবাসে একমাত্র সে বুঝবে। কিন্তু তোমার স্বামী বুঝে না , আমি যখন দেখতেছি আমার শ্বশুর বাড়ির মানুষ প্রতিনিয়ত মত পাল্টাচ্ছে । আমার কেমন লাগবে আপনি বলুন।
আমাকে বলুন এমন বিয়ের ভবিষ্যৎ কি? আমার কি আসলে এরকম স্বামীর সাথে সংসার করা উচিত? যার মধ্যে মা আর বউকে যার যার অবস্থানে রাখার capability নাই। সংসার শুরু হওয়ার আগেই অবস্থা। আমাকে অনেক কথা শুনেছ আমাকে অনেক জেরা করছে। কিন্তু নিজেদের ভুলগুলো বা  পরিবারের পোল্টি খাওয়া ভুলগুলো নিয়ে তারা অনুতপ্ত নয়। আমি অনেক কষ্টে আছি আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে আমার জন্য করনীয় কি ? হুজুর জানেন আমি বিয়ে করেছি কেন তাকে গোপনে কারন আমার ঘরে আমার কোন মাহরাম নেই । অ্যাটলিস্ট ভেবেছিলাম মারা গেলে আমার মাহ্ রাম আমাকে মাটি দিবে,  আমার জন্য দোয়া করবে , যেহেতু তাকে আমি বিয়ের আগে দেখেছিলাম শান্ত আমি কিছু বললে চুপ করে শুনে বুঝে উত্তর দেয়, ভেবেছিলাম সে আমাকে বুঝবে, ভেবেছিলাম আমি আমার ভবিষ্যৎতের বংশদরের জন্য নিক্কার বাবা খুঁজে পেয়েছি। এখন দেখছি সব কিছুই উল্টা । আমি যে ভুল করেছি আমি এখন কি করবো ? ছেলের পরিবারকে
নিয়ে আমার অনেক সন্দেহ ছেলেকে যদি পরে বলে মেয়েকে ছেড়ে দেয় , বা তাবিজ বা কুফরি করে ছেলেকে ঘুরিয়ে ফেলে আমি কি করবো আমি বুঝতেছি না আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। কুফরি করবে এ কারণে বললাম কারণ আমার শাশুড়ি মা মাজারে যায় , বাবা এমন কিছু জিনিস মানে। ছেলে জানে তার মা এমন তারপরে ও আমার স্বামী, আমার শ্বশুর, আমার ভাসুর আমার শাশুড়ির কথাই সবাই রাজি আমার শাশুড়ি রাজি না থাকলে কেউ রাজি না সবকিছুর মধ্যে ! আমাকে এখন বলুন আমি কি করবো?

1 Answer

0 votes
by (632,190 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
পূর্বে অনেক ফাতাওয়াতে আমরা উল্লেখ করেছি যে,মাতাপিতার সম্মতি ব্যতীত কখনো কোনো মুসলমান যুবক যুবতীর জন্য কোর্ট মেরেজ করা সমীচীন হবে না,মঙ্গলজনক হবে না।মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হলেই কেবল বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।জানুন-https://www.ifatwa.info/994, কুফু সম্পর্কে জানতে https://www.ifatwa.info/780
চার মাযহাবের অবস্থান দলীল সহ বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/1525

প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
কোর্ট মেরেজের সময় যদি আপনারা পাত্র পাত্রী স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে দুজন সাক্ষীর সামনে ইজাব কবুল করে থাকেন, তাহলে আপনাদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন বিয়েকে কন্টিনিউ করবেন কি না? সেটা সম্পর্কে আপনার মায়ের সাথে পরামর্শ করুন। আমাদের পরামর্শ হল, বিয়ে যখন হয়েই গেছে, এখন কোনো ভাবে সংসার করা সম্ভব হলে, সংসার চালিয়ে যাওয়া উচিত।হ্যা, স্বামীর মতিগতি ও চালচলন সম্পর্কে আরেকটু যাচাই-বাছাই করে নিতে পারবেন।আল্লাহ আপনাকে সঠিক রাস্তা পরিদর্শন করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...