আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
43 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তায

আমার বাবার উপর যাকাত ফরয। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা উনাকে উত্তমভাবে যাকাত আদায়ের বুঝ দান করুন
কিন্তু আমার কিছু আত্মীয় দাওয়াহর উদ্দেশ্য ছাড়া, কখনো বা তিরস্কার করে বলে যে তোর বাপে তো যাকাত দেয় না
এক্ষেত্রে কি আমি তাদেরকে এভাবে বলতে পারি যে, 'উনার উপর যাকাত ফরয এটা উনাকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বলা সওয়াবের কাজ, কিন্তু অহেতুক উনার গুনাহ নিয়ে সমালোচনা করা কোনো ভালো কাজ না। উনার টাকার হিসাব উনি বুঝবে আল্লাহর সাথে। আপনি আমি সমালোচনা করে কেনো গুনাহ বাড়াই নিজেদের? নজর দেই টাকার উপর?

২. আমার নানী প্রায় সময় উনার ছেলের ঘরের অমুককে এটা দিস, তমুককে এটা দিস বলতে থাকে
আমি কি হেসেহেসে নানীকে বলতে পারি যে উপহার মানুষ খুশি হয়ে হাতে টাকা থাকলে দিবে না দিলে নাই। ছেলের ঘরের বেলায় খালি মনে করিয়ে দেন মেয়ের ঘরের বেলায় কেনো উপহারের কথা মনে করিয়ে দেন না কেনো নানু?
উনারা যথেষ্ট ভালো খায়, পরে। তাও আমাদের বিষয় উনার চোখ লাগে। উনার কাছে জমানো টাকা থাকা সত্বেও খালি বলে এটা কিনে দিস ওইটা কিনে দিস। এসব লোভ করে বলে। আবার কখনো কিছু দিলে প্রশংসাও করে না। উনাকে যা দেওয়া হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু উনি খুবই নজর দেয় আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে। ফেডআপ উনার উপর। একারণে এবার উত্তর দিতে চাই ইনশাআল্লাহ। আমরা গেলেও মেহমানের মত আতিথেয়তা খুব ভালো পাই না। অনেকবার অবহেলাও পাইসি। উনি খালি ছেলে ছেলে করে সবকিছুতে। মেয়েকে খুব একটা ভালোবাসে না। কিন্তু মেয়ের জামাইর টাকার উপর প্রচুর লোভ। সমাধান চাই উস্তাদ। সব সময় সহ্য করা যায় না। বুঝাই যায় যে নজর দিতে চায়।

৩.  যে আত্মীয় স্বজন বারবার বলে তোর বাপে দেয় নাই, আমরা কিছুই পাই নাই। তাদেরকে হাসি মুখে কি বলা যাবে যে আমাদেরকেও তো আপনারা কিছু দেন নাই?(তাদেরও আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট মাশাআল্লাহ) মোটকথা যাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদেরকে কি বলা যাবে যে নানীর বাড়ি থেকে তো তাহলে আমাদেরও হক্ব আছে। আমরা তো কোনো গিফট পাই না। আশা করিও না গিফটের। মূলত তারা বারবার গিফট চায়, আবার বলেও যে কিপটা তাই গিফট দেয়না। অথচ তারা নিজেরা গিফট হিসেবে একটা সুতাও দেয় না।

এগুলা খুবই কমন কথা যদিও কিন্তু বলার পর অস্বস্তি হচ্ছে তাই সমাধান চাই।

1 Answer

0 votes
by (635,160 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
হ্যা, আপনি তাদেরকে এভাবে বলতে পারেন যে, তারা আপনার পিতাকে এভাবে বলবে যে,
'উনার উপর যাকাত ফরয, এটা উনাকে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বলা সওয়াবের কাজ, কিন্তু অহেতুক উনার গুনাহ নিয়ে সমালোচনা করে নিজেদের ক্ষতি করা কখনো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।' ব্যস, এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু বলা মুনাসিব হবে না।

(২)
দ্বিতীয় প্রকারে পিতা-মাতা ছাড়াও আরও অনেকের জন্য নাফক্বাহ ওয়াজিব হয়।
এ বিষয়ে ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে বর্ণিত আছে,
وَالنَّفَقَةُ لِكُلِّ ذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ إذَا كَانَ صَغِيرًا فَقِيرًا، أَوْ كَانَتْ امْرَأَةً بَالِغَةً فَقِيرَةً، أَوْ كَانَ ذَكَرًا فَقِيرًا زَمِنًا، أَوْ أَعْمَى وَيَجِبُ ذَلِكَ عَلَى قَدْرِ الْمِيرَاثِ وَيُجْبَرُ كَذَا فِي الْهِدَايَةِ وَتُعْتَبَرُ أَهْلِيَّةُ الْإِرْثِ لَا حَقِيقَتُهُ كَذَا فِي النُّقَايَةِ.
প্রত্যেক আত্মীয়র জন্য নিকটত্বের ধারাবাহিতায় নাফক্বাহ ওয়াজিব হবে,যদি তারা নাবালিগ ও ফকির হয়।অথবা ফকির বালিগা মহিলা হয়।অথবা বার্ধক্য বা রোগগ্রস্ত উপার্জনে অক্ষম(ফকির)অথবা অন্ধ হয়।এবং তা মিরাসের ভিত্তিতে ওয়াজিব হবে।অর্থ্যাৎ উক্ত ধনী ব্যক্তিকে তাদের উপর তাদের কাছ থেকে তার জন্য প্রাপ্য মিরাস অনুযায়ী নাফক্বাহ দিতে তাকে বাধ্য করা হবে।এক্ষেত্রে ওরাসতের আহল হওয়াই যতেষ্ট বাস্তবে ওয়ারিছ হওয়া শর্ত নয়।নুক্বায়া কিতাবে এভাবেই বর্ণিত রয়েছে।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৫৬৬)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3712

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার সামর্থ্য থাকলে এবং আপনার মামাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকলে তখন আপনার উচিৎ কিছু হাদিয়া দিয়ে দেয়া। হাদিয়া দিতে সক্ষম না হলে, কথা না বাড়িয়ে বরং চুপচাপ থাকাটাই কল্যাণর মনে হচ্ছে।

(৩)  প্রশ্নের বিবরণমতে আত্মীয় স্বজনদের কথাবার্তার জবাব না দিয়ে বরং নিশ্চুপ থাকাই কল্যাণকর।

ﻭَﻟَﻤَﻦ ﺻَﺒَﺮَ ﻭَﻏَﻔَﺮَ ﺇِﻥَّ ﺫَﻟِﻚَ ﻟَﻤِﻦْ ﻋَﺰْﻡِ ﺍﻟْﺄُﻣُﻮﺭِ
অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।(সূরা শুআরা-৪২/৪৩)

নবী কারীম সাঃ বলেনঃ
ﻭﻗﺎﻝ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ( ﻳَﺎ ﻋُﻘﺒَﺔَ ﺑﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮ : ﺻِﻞْ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻌَﻚَ ، ﻭَﺃَﻋْﻂِ ﻣَﻦْ ﺣَﺮَﻣَﻚَ ، ﻭَﺍﻋْﻒُ ﻋَﻤَّﻦ ﻇَﻠَﻤَﻚَ )
হে উকবা তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর তার সাথে যে তোমার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছে,এবং দান কর তাকে  যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে,এবং মাফ করে দাও তাকে যে তোমার উপর যুলুম করেছে। (মসনদে আহমদ-৪/১৫৮) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/19877


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...