আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
751 views
in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (18 points)
closed ago by
আমাদের এক আত্মীয় যে হুজুরের কাছ থেকে ইসলামিক শিক্ষা নেন তিনি বলেছেন দু'য়া ইউনূস খতম দেওয়া হয় সম্মিলিত ভাবে আমরাও যেনো পারিবারকে নিয়ে খতম দিয়ে হিসেব করে তাকে জানাই; এরপর তিনি সম্মিলিত খতম নিয়ে মিলাদ দিবেন! এটা জায়েজ কিনা!? যতদূর জানি, সম্মিলিত মুনাজাত ও মিলাদ জায়েজ নয়; তা বি'দআত!
closed

1 Answer

0 votes
by (737,820 points)
selected ago by
 
Best answer

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত ইউনুস আঃ এর উনার কওমের সাথে সংগঠিত ঘটনা এবং ঘটনা প্রক্ষালে উনার পঠিত দু'আ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻭَﺫَﺍ ﺍﻟﻨُّﻮﻥِ ﺇِﺫ ﺫَّﻫَﺐَ ﻣُﻐَﺎﺿِﺒًﺎ ﻓَﻈَﻦَّ ﺃَﻥ ﻟَّﻦ ﻧَّﻘْﺪِﺭَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻓَﻨَﺎﺩَﻯ ﻓِﻲ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺃَﻥ ﻟَّﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲ ﻛُﻨﺖُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦ(٨٧)
ﻓَﺎﺳْﺘَﺠَﺒْﻨَﺎ ﻟَﻪُ ﻭَﻧَﺠَّﻴْﻨَﺎﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻐَﻢِّ ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧُﻨﺠِﻲ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ(٨٨)
তরজমাঃ- এবং মাছওয়ালার কথা স্মরণ করুন তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন, অতঃপর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধৃত করতে পারব না। অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্যে আহবান করলেনঃ
"(হে আল্লাহ)"আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাশ্য নেই।আপনিই প্রবিত্র।আমি গোনাহগার,  জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।" (সূরা আম্বিয়া-৮৭)

অতঃপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি। (সূরা আম্বিয়া-৮৮)

ইউনুস এর পঠিত দু'আ সম্পর্কে এক হাদীসে এসেছে,
হযরত সা'দ রাযি থেকে বর্ণিত,
وَعَنْ سَعْدٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: " «دَعْوَةُ ذِي النُّونِ إِذْ دَعَا رَبَّهُ وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوتِ  {لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ} [الأنبياء: ٨٧] لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ إِلَّا اسْتُجِيبَ لَهُ» " رَوَاهُ أَحْمَدُ، وَالتِّرْمِذِيُّ
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,মাছ ওয়ালার দু'আ যখন তিনি মাছের পেঠে থাকাবস্থায় দু'আ করেছিলেন,
লা-ইলাহা, ইল্লা আনতা,সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায-যালিমীন।(সূরা আম্বিয়া-৮৭)
মুসলমান যে উদ্দেশ্যেই উক্ত দু'আ পড়বে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সফলকাম করবেন।(তার দু'আ কবুল করবেন)
(মিশকাতুল মাসাবিহ-২২৯২)

দেখুন উক্ত হাদীসে দু'আ ইউনুসের কথা বলা হয়েছে।কিন্তু তাতে সংখ্যা আলোচনা আসেনি। বরং সেই দু'আ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

যেমন আব্দুর রাহমান মুবারকপুরী রাহ লিখেন,
وَحَدِيثُ سَعْدٍ هَذَا أَخْرَجَهُ أَيْضًا النَّسَائِيُّ وَالْحَاكِمُ وَقَالَ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَزَادَ فِي طَرِيقٍ عِنْدَهُ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ كَانَتْ لِيُونُسَ خَاصَّةً أَمْ لِلْمُؤْمِنِينَ عَامَّةً فَقَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ونجيناه من الغم وكذلك ننجي المؤمنين كذا في الترغيب
ইসাম হাকিম রাহ, এর এক সনদে (ত্বরিকায়) একটু অতিরিক্ত অংশ বর্ণিত রয়েছে,সেটুকু হল-
'এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাঃ! এই দু'আ কি হযরত ইউনুস আঃ এর জন্য খাস নাকি সকল মুসলমানের জন্য প্রযোজ্য হবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তুমি কি আল্লাহ তা'আলার বাণী শুননি?
আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আমি ইউনুসকে চিন্তা-পেরেশানি থেকে মুক্তি দান করলাম।এবং এভাবেই আমি মু'মিনদেরকে মুক্তি দিবো।(তুহফাতুল আহওয়াযী-৯/৩৩৬-শামেলা)

একটি মূলনীতি জানা থাকলে এ বিষয়গুলো বুঝা খুবই সহজ। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1286

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
কিছু দু'আ র বেলায় হাদীসে সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে।সুতরাং সেগুলোকে উক্ত সংখ্যায় পড়াই সুন্নাত।অন্যদিকে কিছু দু'আ এমন রয়েছে যেগুলোতে সংখ্যার উল্লেখ আসেনি।সুতরাং সেগুলো কোনো বিশেষ সংখ্যা দ্বারা আখ্যায়িত করা,বা উক্ত সংখ্যার সাথে জরুরী মনে করা ঠিক হবে না।এমনকি বাড়াবাড়ি করলে বেদ'আত হবে।
হ্যা পূর্ববর্তী কিছু নেককার বান্দাগণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু সংখ্যার পরামর্শ দেন,সেগোলো জরুরী বা সুন্নত মনে না করে আ'মলে নেয়া যেতে পারে।তবে এক্ষেত্রে এমন মনোভাব রাখতে হবে যে,উক্ত সংখ্যা আমাদের উদ্দেশ্য নয় বরং আমরা বেশী করে পড়তে চাই।কিন্তু কতটুকু পড়ালে বেশী হবে?সেটা আমরা জানিনা।তাই নেককার বান্দাদের পরামর্শকৃত একটা সংখ্যাকে বেশীর মানদন্ড ধরে নিলাম।এবং সাথে সাথে নিজেকে খালিছভাবে আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করবো।হয়তো এই বেশী পড়ার মনোভাব থাকায় আল্লাহ আমাদের দু'আ কে কবুল করে নিতে পারেন।

সম্মিলিত ভাবে পড়া সম্পর্কে বলা যায় যে,
এটা কে সুন্নত মনে করা যাবে না। তবে যদি কোথাও সম্মিলিতভাবে পড়া হয়,তাহলে যেন এমনভাবে পড়া হয় যে,একজনের আওয়াজ অন্যজনের কানে না পৌছায়।বরং দূরত্ব বজায় রেখে পড়া হয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 1,512 views
...