আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
44 views
in পবিত্রতা (Purity) by (7 points)
১। ১দিরহামের কম নাপাকি যদি কাপড়ের কয়েক জায়গায় লাগে তাহলে কি ঐ কাপড়ে নামাজ হবে?

২। সাদাস্রাব/বীর্য/মজি যদি কাপড়ে লেগে শুকিয়ে যায়, এরপর নখ দিয়ে খুঁটে/কাপড়ে কাপড়ে ঘষে শুকনা অবস্থায় যদি ঐ নাপাকি দূর করা হয় তাহলে কি ঐ কাপড়ে নামাজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচার জন্য গুরুত্বের সাথে নির্দেশ দিয়েছেন। কেনন অধিকাংশ কবরের আজাব পেশাবের ছিটা থেকে নিজেকে রক্ষা না করার কারণে হয়ে থাকবে।

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: استنزهوا من البول فإن عامة عذاب القبر منه

(২৫৭) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ () বলেছেন, তোমরা পেশাব থেকে পবিত্র থাকবে; কারণ কবরের আযাব সাধারণত এর কারণে হয়। (ফিকহুস সুনান, হাদীস নং ২৫৭)

পেশাব করার সময় পেশাবের সামান্য পরিমাণ পায়ে কিংবা কাপড়ে লেগে গেল। এরপর পা অথবা কাপড়ের ঐ নাপাক অংশ টিউবওয়েলের নিচে ধোয়ার সময় ছিটা এসে গায়ে বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হিসেবে গণ্য হবে, যদি ধোয়ার প্রথম দিকের ছিটা হয়।

আর যদি কিছুক্ষণ ধোয়ার পর অর্থাৎ নাপাক এর জায়গাটা একবার ধোয়ার জন্য যেটুকু পানি লাগে সেইটুকু পানি প্রবাহিত হয়ে যাওয়ার পরে ছিটা আসে, তবে সেই ছিটা সুস্পষ্ট নাপাক বলা যাবে না।

বলে রাখা ভালো, নাপাক পা অথবা কাপড়ের অংশ ধোয়ার সময় প্রথমেই যদি ছিটা এসে কাপড়ে বা অন্য অঙ্গে পড়ে, তবে ঐ অঙ্গগুলো অবশ্যই ধৌত করে নিতে হবে। কারণ, অল্প পানির মধ্যে নাপাক পতিত বা মিশ্রিত হওয়ার দ্বারা পানি নাপাক হয়ে যায়। কিন্তু উক্ত পানির ছিটার কারণে সমস্ত শরীর নাপাক হবে না। শুধু যে অংশে ছিটা পড়েছে সেই অংশটুকু নাপাক হবে।

কিছু লোক আছে অপ্রয়োজনীয় সন্দেহের মধ্যে ভুগতে থাকে। কাপড় ও অঙ্গের নাপাকি ধোয়ার সময় প্রথম দিকে কিছু পানি প্রবাহিত করে দেওয়া হলো। দ্বিতীয়বার কিংবা তৃতীয়বার ধোয়ার সময় ছিটা আসলোও মনে করে তার কাপড় ও অঙ্গ নাপাক হয়ে গেছে। অথচ শেষদিকে উড়ে আসা ছিটায় নাপাক থাকার ব্যাপারটি যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে বাহ্যিক নাপাকি দেখা না গেলে এতে কোন অসুবিধা নেই। এর কারণে কাপড় বা শরীর নাপাক হয় না। কেননা, এক বর্ণনায় এসছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي الرَّجُلِ يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَيَنْضَحُ فِي إِنَائِهِ مِنْ غُسْلِهِ، فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. ফরয গোসলের সময় পাত্রে পানির ছিটা পড়া সম্পর্কে বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭৮৯)

অনুরূপভাবে বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম যুহরী রহ.-কে জনৈক ব্যক্তির (গোসলের হুকুম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যার গোসল করার সময় গা বেয়ে পানির ছিটা পাত্রে পড়েছিল। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, এতে ক্ষতির কিছু নেই। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১/৯২)

বীর্য অবশ্যই নাপাক। বীর্য নাপাক বলেই শুকনা হলে খুটিয়ে তুলে ফেলা ও ভিজা হলে কাপড়টি ধৌত করার কথা হাদীসে এসেছে। যেমন-

عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ [ص:56] فِي الثَّوْبِ تُصِيبُهُ الجَنَابَةُ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ، وَأَثَرُ الغَسْلِ فِيهِ» بُقَعُ المَاءِ

অনুবাদ- আমার বিন মাইমুন রহঃ সুলাইমান বিন ইয়াসার রাঃ কে বীর্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন, “আমি রাসূল সাঃ এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে,কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকতো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৩১, ২২৯}

এছাড়া অন্যান্য হাদীসে এসেছে-

يَا عَمَّارُ إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ: مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَالْقَيْءِ وَالدَّمِ وَالْمَنِيِّ

 

আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথা-১-পায়খানা, ২-প্রশ্রাব, ৩-বমি, ৪-রক্ত, ৫-বীর্য। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮}

হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন-বীর্য সিক্ত থাকলে তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে ফেল। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৯৩৩}

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

১. এক দিরহাম বা চারআনা সিকি পরিমাণ নাপাকি কাপড় বা শরীরকে নাপাক করে। এর কম হলে নাপাক সাব্যস্ত হয় না। যদি নাপাকির ছিটা সুইয়ের আগা পরিমাণ ছোট ছোট হয়, তাহলে প্রথমেই বস্তুটি নাপাক হবে না। তবে, যদি সব ছিটা জমা করলে চারআনা সিকি পরিমাণ মনে হয়, তাহলে নাপাক হবে। এমন নাপাকি যে কোনোভাবে দূর করতে হবে।

২. বীর্য নাপাক। তা শুকনো হলে খুটিয়ে তুলে ফেলতে হবে। আর সিক্ত হলে কাপড় ধুয়ে ফেলতে হবে। ধোয়া ছাড়া কাপড় পাঁক হবে না। কাপড়ে বীর্য লেগে থাকলে উক্ত কাপড়সহ নামায পড়লে তা শুদ্ধ হবে না। তবে যেই স্থানে ময়ী বা সাদাস্রাব লেগেছে উক্ত স্থান ধৌত করে নিলেই তা পবিত্র হয়ে যাবে।

মনে রাখা উচিতে যে, পবিত্রকরণের দিক দিয়ে নাপাকি আবার দুই প্রকার। যথা- (ক) দৃশ্যমান নাপাক। (খ) অদৃশ্যমান নাপাক।

(ক) কাপড়ে দৃশ্যমান নাপাক লাগলে, সেই নাপাকিকে দূর করে দিলেই কাপড় পবিত্র হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে নাপাকি দূর করতে ধৌত করার কোনো পরিমাণ নেই। যতবার ধৌত করলে নাপাকি দূর হবে, ততবারই ধৌত করতে হবে। যদি একবার ধৌত করলে তা চলে যায়, তবে একবারই ধৌত করতে হবে।

(খ) কাপড়ে  অদৃশ্যমান নাপাকি লাগলে, কাপড়কে তিনবার ধৌত করে তিনবারই নিংড়াতে হবে। শেষবার একটু শক্তভাবে নিংড়াতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে আর কোনো পানি বাইর না হয়। (ফাতাওয়ায়ে হাক্কানিয়া : ২/৫৭৪; জামিউল ফাতাওয়া : ৫/১৬৭)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...