আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
হুজুর আমার মা তার আত্মীয়দের হক্ক চরম ভাবে নষ্টকারী।তার কারো সাথেই ভালো সম্পর্ক নেই আত্মীয়ের মধ্যে..এমনকি উনি এমনই যে আমার বাবার আত্মীয় থেকেও বাবাকে ছিন্ন করেছে অনেকটা..আমার মনে পরে আব্বু, দাদা বা দাদুর সাথে দেখা করতে যেতেন আর উনি ঘরে খুব ঝামেলা করতেন..আব্বু একমাত্র ছেলে যে দেশে থাকে,বাকি সব প্রবাসী.আব্বু দাদুকে ঔষধ দিয়ে আস্লেও খুব ঝামেলা হতো ঘরে..কেন আব্বু গেল?হুজুর ছোট থেকে জেনেছি আমার সব আত্নীয় খারাপ।জীবনের অনেক সময় হক্ক বলতে আমার মা বাবা ই ছিলো আমার কাছে।পরবর্তীতে যখন দ্বীনের ব্যপার জানলাম পক্ষপাত থেকে সরে এসে নিরপেক্ষ ভাবে বিচার করলাম,দ্বীন দিয়ে তখন আবিষ্কার করেছে আমার আম্মুই আসলে সব নষ্টের গোড়া..সে আম্মু যাকে আমি কিনা হক্কের গোড়া ভেবেছি..সে আমাকে ভুল বুঝিয়েছে আমার ফুপী দাদু নানু নানা মামা খালা সবার ব্যপারে! এবং আমার জননী আমার মা, সে একজন জালীম,না শোকর, হঠকারী!(আল্লাহ মাফ করুন)
এখন উনি আমাদেরকেও আত্মীয়দের থেকে দূরে সরাতে চান।আমাদের মনে বিদ্বেষ ঢালতে চান.(ঢেলে এসেছেন এতোদিন)আমি আমার ফুপিদের সাথে উনার সামনে কথা বলার সাহস পাই না! উনি খুব বকাবকি করেন..চাচাদের সাথে তো সম্পর্ক নাই আব্বুর বা আমাদের!কেন?উনিই কারণ..আব্বু তাও সম্পর্ক রাখার সামান্য অপর্যাযাপ্ত চেষ্টা করে,তাতেও উনি জ্বলেন!
আমার মা আত্মীয় বা প্রতিবেশি মেহমান দের যে হক্ক বা কদর তা একবারেই বলা চলে বুঝন না..প্রচন্ড হঠকারী!আহংকারী(যদিও অহংকার করার উনার আদতে কিছুই নেই)
এখন আমি যদি মায়ের সামনে মেহমানদের,আত্মীয়দের, প্রতিবেশিদের সমাদর করি, তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?যেহেতু উনি খুবই অসন্তুষ্ট হবেন..?
যেমন:আমার নানা আসলে তাকে চা দেওয়া(উনার সম্মতি ছাড়া,উনি নানা আসলে কোন কথা বলেন না,কখনো গালি গালাজ করেন,নানাভাই কানে শোনেন না কিন্তু অনেক কিছুই বোঝেন) মামা আসলে তাকে আপ্যায়ন করে,মামী ও মামাতো বোনের খোজ নেয়া কিছু কথা বলা(উনি মামা আসলে প্রায়ই কিছুই বলেন না মামার সাথে,শুয়ে থাকেন বা নিজের কাজ করেন) বাসায় প্রতিবেশি কেউ আসলে তাদের সমাদর করা( উনি তেমন পাত্তা দেন না বা অবহেলা করেন), আমার ফুপাতো ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাড়িতে এসে বলেছে যেন একটু দেখা করে যাই,আম্মু স্বভাবতই বাঁধ সেজেছে এখন আমি গেলে আমার গুনাহ হবে?উনাকে আদবের সাথে কিভাবে বুঝাবো তা আমি অধমের বদ আখলাকের এখনো জানা নেই...তাই বোঝাতেও যাই না..আমার বোন অনেক অনেক অনেক দিন পর এসেছে, আবার কবে যে আসবে কে জানে!কেউ আমাদের বাসায় আসুক তাও আমি চাই না..কারণ আমার মা ঝামেলা করে প্রচুর!ইদানিং তাই দেখেছি।এছাড়া কেউ আসলে আম্মু কি না কি করে তার সাথে আর সে অপমানিত হয় বিব্রত হয় এ নিয়ে টেনশনে থাকি..
আমি কি এরকম অবস্থায় বোনের সাথে দেখা করতে যেতে পারব?
তারউপর আমি তীব্র আশংকা করি যে ভবিষ্যতে যদি বিয়ে দেন আল্লাহ তাআ'লা, আর উনি যদি না শুধুরান,তাহলে উনি আমাকে ফুসলাবে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে।এটা আমি দেখছি,উনি পারস্পারিক সম্পর্ক নষ্ট করেন..শ্রোতা স্ত্রী হলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে কথা বলেন,আর শোতা কোন স্বামী হলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ফুসলান! শ্বাশুড়ি বউ এর সম্পর্ক ও নষ্ট করেন, যে ফুপু কে সব সময় দেখেছি নিজের পুত্রবধূর প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে,মায়ের পাল্লায় ঠিকই দেখেছি গীবত করছেন!
তো আমি যদি বিয়ের পর আম্মু সাথে সব বানিয়ে মিথ্যা বলি যাতে উনি কোন বিরুদ্ধাচারণ না করতে পারেন, যাতে স্বামীর ব্যপারে ফুসলানো সুযোগ না পান আমিও গোমরাহীতে না পড়ি(যতই হোক মা, উনার প্রতি আমার দূর্বলতা তো আছেই) তাহলে সেটা জায়েজ হবে?
যেমন:কি খাইসিস.(এমন এক এক খাবারের নাম বলবো উনি আর কিছু বলতে পারবেন না এম্ন)
কে রাঁধসে?(জামাই বা শাশুড়ি)আমি শুধু হেল্প করি..
এসব..বললে গুনাহ হবে?
এছাড়া হুজুর আমার মা যদি এরকমই থাকে তাঁর ব্যপারে আমার তো ভয়াবহ শাস্তির আশংকা হয়..কিভাবে মাকে শুধরাবো?আমি নিজেও তো উনারই মতো..তবে আমি শুধরাতে চাই..আল্লাহর বামদাদের কষ্ট দিতে চাই না..আল্লাহর জন্য পবিত্র হতে চাই..বাবা মা এর সাথে সবার সম্পর্ক অন্তত স্বভাবিক হোক..এটা কিভাবে করবো?