0 votes
26 views
in পবিত্রতা (Purity) by (44 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

১) বীর্য কি পাক?

২) স্বপ্নদোষ হলে শুধু ফরজ গোসল করলেই হবে নাকি সেই কাপড় ধৌতও করতে হবে?

৩) আজকে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছে। ফরজ গোসল করার আগে পস্রাব করি। আমার পস্রাবে সমস্যা হয়। তাই পস্রাব করার পর প্রায় ২০মি. অপেক্ষা করি কিন্তু ক্লিয়ার হয়না। খুবই অল্প করে কিছুক্ষণ পর আবার বের হয়।  তাই যখন দেখলাম ফজরের সময় শেষ হয়ে যাবে তখন এই অবস্থায় আপনাদের ফতুয়ার কথা মনে আসে( যেটা বলেছিলেন ওজুর ক্ষেত্রে, ফরজ গোসলের  ক্ষেত্রে না) ।  তাই এই অবস্থায় ফরজ গোসল করে বের হই দ্রুত নামাজ পড়ার জন্য কিন্তু দেখি সময় শেষ। তারপর নিষিদ্ধ সময় পের হলে  আবার ওজু + ফরজ গোসল না করেই নামাজ পড়ি (যেহেতু আগে করেছি,তবে ওজর জনিত সমস্যা ছিল )।
নামাজ কি হয়েছে? নাকি আবার ফরজ গোসল করতে হবে?

[ এর আগে একবার এমন হয়েছিল।  ফরজ গোসল করার পর
দেখি হালকা পস্রাব বের হয়, তখন আবার গোসল করি।
ডাক্তার দেখিয়েছি তবে ফল পাইনি।  আপনার দোয়ায় আমাকে শামিল করিয়েন ]

1 Answer

0 votes
by (80,280 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


(০১)
বীর্য নাপাক। 
বীর্য নাপাক বলেই শুকনা হলে খুটিয়ে তুলে ফেলা ও ভিজা হলে কাপড়টি ধৌত করার কথা হাদীসে এসেছে। 

عَمْرُو بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ [ص:56] فِي الثَّوْبِ تُصِيبُهُ الجَنَابَةُ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: «كُنْتُ أَغْسِلُهُ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ، وَأَثَرُ الغَسْلِ فِيهِ» بُقَعُ المَاءِ

অনুবাদ- আমার বিন মাইমুন রহঃ সুলাইমান বিন ইয়াসার রাঃ কে বীর্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন,হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন, “আমি রাসূল সাঃ এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে,কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকতো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৩১, ২২৯}

মুফতী লুতফর রহমান ফারায়েজী সাহেব দাঃবাঃ বলেছেন যে এ পরিচ্ছেদের অধীনে কিছু ইসলামী স্কলার বলেছেম যে “ইমাম বুখারী রহঃ এ পরিচ্ছেদে বীর্য ছাড়া অন্য কোন নাপাকীর কথা উল্লেখ করেননি। হয়তো বাকি নাপাককে বীর্যের উপরই কিয়াস করেছেন। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ইমাম বুখারী রহঃ এর নিকট বীর্য নাপাক।{তাইসীরুল বারী-১/১৭০}

তাছাড়া রাসূল সাঃ এটা সিক্ত থাকলে ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর কাপড়ে লাগলে তা ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাক হলে ধৌত করার নির্দেশনা দিলেন কেন? আর নবীজী সাঃ এর কাপড়ে যে বীর্য লেগে শুকিয়ে গেয়েছিল, তা তিনি খুটিয়ে তুলে ফেলাটাই প্রমাণ করে তা পাক থাকলে খুটে ফেলে দেয়ার দরকার কি? যেমন কাপড়ে যদি আটা লেগে শুকিয়ে যায়, তাহলে তা খুটিয়ে ফেলে দিলে তা একেবারেই উঠে যায়, এমনি বীর্যও শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে তা তুলে ফেললে তার কোন কিছু আর বাকি থাকে না, তাই নবীজী সাঃ খুটিয়ে তুলে ফেলার পর তা না ধুয়েই নামায পড়েছেন। বীর্য পাক এজন্য নয়।

এছাড়া অন্যান্য হাদীসে এসেছে-

يَا عَمَّارُ إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ: مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَالْقَيْءِ وَالدَّمِ وَالْمَنِيِّ

আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথা-১-পায়খানা, ২-প্রশ্রাব, ৩-বমি, ৪-রক্ত, ৫-বীর্য। {সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮}

হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন-বীর্য সিক্ত থাকলে তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে ফেল। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৯৩৩}

সুতরাং বুঝা গেল যে, বীর্য নাপাক। তা শুকনো হলে খুটিয়ে তুলে ফেলতে হবে। আর সিক্ত হলে ধুয়ে ফেলতে হবে। কাপড়ে বীর্য লেগে থাকলে উক্ত কাপড়সহ নামায পড়লে তা শুদ্ধ হবে না।
,
(তবে কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে বীর্য পাক।
তাদের মতানুসারী গন সেই মত অনুযায়ী আমল করতে পারেন।)
,    
(০২)
স্বপ্নদোষ হলে শুধু ফরজ গোসল করলেই হবেনা।
,
সেই কাপড়ও ভালোভাবে ধৌত করতে হবে।
তিনবার ধৌত করে প্রত্যেকবার নিংড়াতে হবে।

(০৩)
আপনাকে আর গোসল করতে হবেনা।
এ সম্পর্কে জানুনঃ 
,
তবে আপনার যেহেতু এই ওযর জারী আছে,সেক্ষেত্রে আপনি শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে মা'যুর বলে সাব্যস্ত হোন কিনা,সেটি আগে দেখতে হবে।
,
শরীয়তের বিধান মতে যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো,

شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-

শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

যার সারমর্ম হলো যদি সেই পুরা ওয়াক্তের ভিতর এমন কোনো সময় আপনি পান,যেই সময়ে আপনি অযু করে নামাজ পড়তে পারবেন,উল্লেখিত ওযর আর আসলোনা,তাহলেই আপনি মা'যুর।

বিস্তারিত জানুনঃ  
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ফজরের ওয়াক্তের শুরু থেকে যেহেতু আপনার এই ওযর জারী ছিলোনা,বরং গোসল করার আগ দিয়ে পেশাব করার পর থেকে উক্ত অযর চালু হয়,ততক্ষনে ফজরের ওয়াক্ত কিছুটা হলেও চলে গিয়েছিলো।
তাই আপনি মা'যুর নন।
,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে মা'যুরের বিধান আপনার উপর আরোপ হবেনা।
তাই উল্লেখিত নামাজ আপনার ছহীহ হয়নি।
উক্ত ওযর শেষ হওয়ার পর পুনরায় অযু করে ফজরের নামাজের কাজা  আদায় করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...