0 votes
74 views
in সালাত(Prayer) by (39 points)

শায়খ আসসালামুআলাইকুম,

জামাআতে নামায আদায়কালে কাতার ফাঁকা থাকলে কোন ব্যক্তিকে ফাঁকা পূরণের জন্য আহবান করবো? যদি আমার ডানে ফাঁকা থাকে অথবা বাঁমে। নাকি আমি ডানে বা বাঁমে সরে যাবো? পুরো বিষয়টি যদি আলোচনা করতেন মুহতারাম।

1 Answer

0 votes
by (40,960 points)
edited by

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

জমাতের সাথে সালাত আদায়ের আদাব।

জামাআতের সাথে সালাত আদায় করতে মুসল্লীদেরকে প্রথমেই তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।

(১) কাতার সোজা করে দাঁড়ানো। কোনো মুসল্লী যেন তার পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর চেয়ে এগিয়ে বা পিছিয়ে না দাঁড়ায়।
(২) কাতারে এমনভাবে দাঁড়ানো, যাতে দুই মুসল্লীর মাঝখানে কোনো ফাঁক না থাকে।

(৩) একটি কাতার থেকে অপর কাতারের মাঝখানে অস্বাভাবিক দূরত্ব না থাকা। বরং স্বাভাবিকভাবে সেজদা করতে যতটুকু দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন ততটুকু দূরত্ব বজায় রাখা।
এসম্পর্কে কয়েকটি হাদীস লক্ষণীয়। যথাঃ-

(এক)

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,

 ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﻦْ ﺳَﺪّ ﻓُﺮْﺟَﺔً ﻓِﻰ ﺻَﻒٍّ ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﺩَﺭَﺟَﺔً ﻭَ ﺑَﻨٰﻰ ﻟَﻪُ ﺑَﻴْﺘًﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨّﺔِ .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কাতারের মধ্যকার ফাঁক বন্ধ করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিবেন।
(আলমু‘জামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৫৭৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ৩৮২৪)

(দুই)

আয়েশা রা. বলেন,

 ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﺍِﻥّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَ ﻣَﻠٰﺌِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺬِﻳْﻦَ ﻳَﺼِﻠُﻮْﻥَ ﺍﻟﺼُّﻔُﻮْﻑَ ﻭَ ﻣَﻦْ ﺳَﺪّ ﻓُﺮْﺟَﺔً ﺭَﻓَﻌَﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻬَﺎ ﺩَﺭَﺟَﺔً .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এবং ফেরেশতাগণ তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা কাতারসমূহকে সংযুক্ত করে। আর যে ব্যক্তি ফাঁক বন্ধ করল, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৯৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৪৬৩১)

(তিন)

ইবনু উমার রা. হতে বর্ণিত,

 ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺍَﻥّ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺃَﻗِﻴْﻤُﻮﺍ ﺍﻟﺼُّﻔُﻮْﻑَ ﻭَ ﺣَﺎﺫُﻭْﺍ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟْﻤَﻨَﺎﻛِﺐِ ﻭَ ﺳُﺪُّﻭْﺍ ﺍﻟْﺨَﻠَﻞَ ﻭَ ﻟِﻴْﻨُﻮْﺍ ﺑِﺄَﻳْﺪِﻱْ ﺍِﺧْﻮَﺍﻧِﻜُﻢْ ﻭَ ﻟَﺎﺗَﺬَﺭُﻭْﺍ ﻓُﺮُﺟَﺎﺕٍ ﻟِﻠﺸّﻴْﻄَﺎﻥِ ﻭَ ﻣَﻦْ ﻭَﺻَﻞَ ﺻَﻔّﺎ ﻭَﺻَﻠَﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَ ﻣَﻦْ ﻗَﻄَﻊَ ﺻَﻔّﺎ ﻗَﻄَﻌَﻪُ ﺍﻟﻠﻪ

ُ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাতার সোজা কর। কাঁধসমূহকে বরাবর রাখ। ফাঁক বন্ধ কর। তোমাদের ভাইদের হাতে তোমরা নরম হয়ে যাও এবং শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ে দিয়ো না। যে কাতার জুড়ে দেয় আল্লাহ তাআলাও তাকে জুড়ে দেন। পক্ষান্তরে যে কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তাআলা তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।(সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ৬৬৬)

(চার)

বারা ইবনে আযেব রা. হতে বর্ণিত,

 ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺒَﺮَﺍﺀِ ﺑْﻦِ ﻋَﺎﺯِﺏٍ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﻳَﺘَﺨَﻠّﻞُ ﺍﻟﺼّﻒّ ﻣِﻦْ ﻧَﺎﺣِﻴَﺔٍ ﺇِﻟٰﻰ ﻧَﺎﺣِﻴَﺔٍ ﻳَﻤْﺴَﺢُ ﺻُﺪُﻭْﺭَﻧَﺎ ﻭَ ﻣَﻨَﺎﻛِﺒَﻨَﺎ ﻭَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻟَﺎﺗَﺨْﺘَﻠِﻔُﻮْﺍ ﻓَﺘَﺨْﺘَﻠِﻒَ ﻗُﻠُﻮْﺑُﻜُﻢْ ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺇِﻥّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَ ﻣَﻠٰﺌِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼُّﻔُﻮْﻑِ ﺍﻟْﺎُﻭَﻝِ .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত কাতারে প্রবেশ করে আমাদের বুক এবং কাঁধ স্পর্শ করতেন এবং বলতেন ভিন্ন ভিন্ন হয়ো না। নতুবা তোমাদের অন্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে। তিনি আরও বলতেন, আল্লাহ তাআলা এবং ফেরেশতাগণ প্রথম দিকের কাতারসমূহের উপর রহমত নাযিল করেন।
(সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ৬৬২)

(পাঁচ)

আবূ মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত,

 ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰْ ﻣَﺴْﻌُﻮْﺩٍ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﻳَﻤْﺴَﺢُ ﻣَﻨَﺎﻛِﺒَﻨَﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟﺼّﻠَﺎﺓِ ﻭَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺍِﺳْﺘَﻮُﻭْﺍ ﻭَ ﻟَﺎﺗَﺨْﺘَﻠِﻔُﻮْﺍ ﻓَﺘَﺨْﺘَﻠِﻒَ ﻗُﻠُﻮْﺑُﻜُﻢْ ﻟِﻴَﻠِﻨِﻰْ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﺍُﻭﻟُﻮﺍ ﺍﻟْﺎَﺣْﻠَﺎﻡِ ﻭَ ﺍﻟﻨُّﻬٰﻰ ﺛُﻢّ ﺍﻟَّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﻠُﻮْﻧَﻬُﻢْ ﺛُﻢّ ﺍﻟّﺬِﻳْﻦَ ﻳَﻠُﻮْﻧَﻬُﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﺍَﺑُﻮْ ﻣَﺴْﻌُﻮْﺩٍ ﻓَﺎَﻧْﺘُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺍَﺷَﺪُّ ﺍِﺧْﺘِﻠَﺎﻓًﺎ .
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে আমাদের কাঁধ স্পর্শ করতেন এবং বলতেন, বরাবর হয়ে দাঁড়াও। পৃথক হয়ে দাঁড়িও না। নতুবা তোমাদের অন্তরসমূহ পৃথক হয়ে যাবে। তোমাদের মধ্য হতে যারা জ্ঞান ও বুদ্ধির অধিকারী তারাই যেন আমার নিকটে থাকে। অতপর তারা, যারা তাদের কাছাকাছি জ্ঞান ও বুদ্ধির অধিকারী, অতপর তারা, যারা তাদের কাছাকাছি জ্ঞান ও বুদ্ধির অধিকারী। আবূ মাসঊদ রা. বলেন, তো আজ তোমরা অধিক বিভিন্নতার শিকার।
(মুসনাদে সিরাজ, হাদীস ৭৬৬)

(ছয়)

হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত,

 ﻋَﻦْ ﺍَﻧَﺲٍ ﻗَﺎﻝَ ﺍُﻗِﻴْﻤَﺖِ ﺍﻟﺼّﻠَﺎﺓُ ﻓَﺎَﻗْﺒَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻨَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﺑِﻮَﺟْﻬِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍَﻗِﻴْﻤُﻮْﺍ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﻭَﺗَﺮَﺍﺻٌّﻮْﺍ ﻓَﺎِﻧِّﻰ ﺍَﺭَﺍﻛُﻢْ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﻇَﻬْﺮِﻯْ .
তিনি বলেন, একদা সালাতের ইকামত দেওয়া হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে অভিমুখী হয়ে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারগুলো সোজা কর এবং গায়ে গায়ে মিশে মিশে দাঁড়াও। কেননা আমি তোমাদেরকে আমার পেছন দিক থেকেও দেখতে পাই।
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৯)

(সাত)

আনাস রা. হতে বর্ণিত,
ﻋَﻦْ ﺍَﻧَﺲِ ﺑْﻦِ ﻣَﺎﻟِﻚٍ ﻋَﻦْ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺭُﺻُّﻮْﺍ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﻭَ ﻗَﺎﺭِﺑُﻮْﺍ ﺑَﻴْﻨَﻬَﺎ ﻭَ ﺣَﺎﺫُﻭْﺍ ﺑِﺎﻟْﺎَﻋْﻨَﺎﻕِ ﻓَﻮَﺍﻟﺬِﻯ ﻧَﻔْﺴِﻰْ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﺍِﻧِّﻰْ ﻟَﺎَﺭَﻯ ﺍﻟﺸّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻳَﺪْﺧُﻞُ ﻣِﻦْ ﺧَﻠَﻞِ ﺍﻟﺼّﻒِّ ﻛَﺎَﻧّﻬَﺎ ﺍﻟْﺤَﺬَﻑُ .
তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের কাতারসমূহকে সংলগ্ন কর। কাতারগুলোকে কাছাকাছি রাখ। তোমাদের ঘাড়সমূহকে বরাবর রাখ। যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, নিশ্চয়ই আমি শয়তানকে দেখি ভেড়ার বাচ্চার ন্যায় কাতারের মাঝে প্রবেশ করতে।
(সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ৬৬৭)

(আট)

নু‘মান ইবনে বাশীর রা. বলেন,

 ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨُّﻌْﻤَﺎﻥِ ﺑْﻦِ ﺑَﺸِﻴْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠﻢَ ﻳُﺴَﻮِّﻯْ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻨَﺎ ﺣَﺘّٰﻰ ﻛَﺄَﻧّﻤَﺎ ﻳُﺴَﻮِّﻯْ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟْﻘِﺪَﺍﺡَ ﺣَﺘّٰﻰ ﺭﺍٰﻯ ﺍَﻧّﺎ ﻗَﺪْ ﻋَﻘَﻠْﻨَﺎ ﻋَﻨْﻪُ ﺛُﻢّ ﺧَﺮَﺝَ ﻳَﻮْﻣًﺎ ﻓَﻘَﺎﻡَ ﺣَﺘّٰﻰ ﻛَﺎﺩَ ﺍَﻥْ ﻳُﻜَﺒِّﺮَ ﻓَﺮﺍٰﻯ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﺑَﺎﺩِﻳًﺎ ﺻَﺪْﺭَﻩُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺼّﻒِّ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻋِﺒَﺎﺩَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻟَﺘُﺴَﻮُّﻥّ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﺍَﻭْ ﻟَﻴُﺨَﺎﻟِﻔَﻦّ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑَﻴْﻦَ ﻭُﺟُﻮْﻫِﻜُﻢْ

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলোকে এমনভাবে সোজা করতেন যেন তিনি তদ্দারা তীর সোজা করবেন। এভাবে তিনি করতে থাকলেন যতদিন না তিনি দেখলেন যে, আমরা তাঁর থেকে বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছি। অতপর একদিন তিনি (সালাতের জন্য) বের হলেন। যখন তিনি তাকবীর দিতে যাবেন সেই মুহূর্তে এক ব্যক্তিকে দেখলেন তার বুকটাকে কাতারের বাইরে বের করে রাখতে। তা দেখে তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দারা, হয় তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করবে নতুবা তোমাদের মাঝে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই বিরোধিতা সৃষ্টি করে দেবেন।
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০৭)

(নয়)

 ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﺍﻟْﻘﺎﺳِﻢِ ﺍﻟْﺠَﺪَﻟِﻰِّ ﻗَﺎﻝَ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺍﻟﻨُّﻌْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦَ ﺑَﺸِﻴْﺮٍ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺍَﻗْﺒَﻞَ ﺭَﺳُﻮْﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺑِﻮَﺟْﻬِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﺍَﻗِﻴْﻤُﻮْﺍ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﺛَﻠَﺎﺛًﺎ ﻭَﺍﻟﻠﻪِ ﻟَﺘُﻘِﻴْﻤَﻦَّ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﺍَﻭْ ﻟَﻴُﺨَﺎﻟِﻔَﻦّ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑَﻴْﻦَ ﻗُﻠُﻮْﺑِﻜُﻢْ ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺮَﺃَﻳْﺖُ ﺍﻟﺮّﺟُﻞَ ﻳُﻠْﺰِﻕُ ﻣَﻨْﻜِﺒَﻪُ ﺑِﻤَﻨْﻜِﺐِ ﺻَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَ ﺭُﻛْﺒَﺘَﻪُ ﺑِﺮُﻛْﺒَﺔِ ﺻَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَ ﻛَﻌْﺒَﻪُ ﺑِﻜَﻌْﺒِﻪِ .
আবুল কাসেম আলজাদালী বলেন, আমি নু‘মান ইবনে বাশীর রা.-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের দিকে অভিমুখী হয়ে তিনবার বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা কর। আল্লাহর শপথ তোমরা তোমাদের কাতারগুলোকে সোজা করবে নতুবা আল্লাহ তাআলা তোমাদের অন্তরসমূহের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন। নু‘মান ইবনে বাশীর বলেন, আমি ব্যক্তিকে দেখতাম তার কাঁধকে তাঁর পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সঙ্গে এবং তার হাঁটুকে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির হাঁটুর সঙ্গে এবং তার টাখনুকে তার টাখনুর সঙ্গে মিলিয়ে দিতে।
(সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস ৬৬২)

(দশ)

হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত,

 ﻋَﻦْ ﺍَﻧَﺲٍ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨّﺒِﻰِّ ﺻَﻠّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَ ﺳَﻠّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺍَﻗِﻴْﻤُﻮْﺍ ﺻُﻔُﻮْﻓَﻜُﻢْ ﻓَﺎِﻧِّﻰْ ﺍَﺭَﺍﻛُﻢْ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﻇَﻬْﺮِﻯْ ﻭَ ﻛَﺎﻥَ ﺍَﺣَﺪُﻧَﺎ ﻳُﻠْﺰِﻕُ ﻣَﻨْﻜِﺒَﻪُ ﺑِﻤَﻨْﻜِﺐِ ﺻَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَ ﻗَﺪَﻣَﻪُ ﺑِﻘَﺪَﻣِﻪِ .
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তোমাদের কাতারসমূহকে সোজা কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে আমার পেছন দিক থেকে দেখতে পাই। তো আমাদের একজন তার কাঁধ অপরজনের কাঁধের সাথে এবং তার পা অপরজনের পায়ের সাথে মিলিয়ে দিত।
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৭২৫)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

তিন নাম্বার হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলছেন,

"তোমাদের ভাইদের হাতে তোমরা নরম হয়ে যাও "(আবু-দাউদ:৬৬৬)

প্রত্যেক মুসাল্লি তার পাশে খালি জায়গা দেখলে পাশের মুসাল্লি কে হাত ধরে নিজের দিকে ডাকবে।অর্থাৎ নিজের পাশে অপর মুসাল্লি ভাইকে দাড় করাবে যাতে করে ফাঁক না পড়ে যায়।যাকে ডাকা হবে তার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নির্দেশ হল,সে যেন নরম হয়ে যায় এবং আহবান কারী মুসাল্লি ভাইয়ের ডাকের জবাব দেয়।

ইমাম সাহেবের বরাবর পিছন হল মুক্তাদিদের মূল অবস্থান স্থল,তাই এই অবস্থানস্থলের দিকে নিয়ে আসতে ডান বাম যেকোনো দিক থেকে মুসাল্লিকে ডাকা হবে।

ইমাম সাহেবের পিছনে কাতারে যদি তিনজন মুক্তাদি থাকেন,তাহলে মধ্যখানের জন ঠিক ইমাম সাহেবের পিছনো দাড়াবেন,এবং অন্য দুইজন দুই পাশে দাড়াবেন।এখন যদি চতুর্থ আরেকজন আসেন,তাহলে উনি ডান দিকে দাড়াবেন।এভাবেই কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করার নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (39 points)
জাযাকাল্লাহু খইরন জাযীলান শায়খ
by (39 points)
জাযাকাল্লাহু খইরন শায়খ

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...