বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
জ্বী,
মহানবি সাঃ গুন ও বৈশিস্ট্য অর্থাৎ সকল ক্ষেত্রে ছিলেন অতুলনীয়।মানব জাতীর আদর্শ।
বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাঁর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসা করে ঘোষণা করেছেন, ‘আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।’ (সূরা আল কলম : ৪)। অন্যত্র তিনি আরো ঘোষণা করেছেন, ‘অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকালের সাফল্য প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সূরা আল আহযাব : ২১)।
ইসলামের সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর জামানার লোকের সম্মুখে ছিল এবং তাঁর ইন্তিকালের পর বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় তা পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়েছে। তাঁর জীবনের সামান্যতম অংশও এমন নেই যে, ঐসময়ে তিনি তাঁর দেশবাসীর দৃষ্টিসীমার বাইরে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে লিপ্ত ছিলেন।
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সকল বিষয়ই লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত আছে
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জন্ম, দুগ্ধপান, শৈশব, কৈশোর, যৌবন, ব্যবসায়ে যোগদান, চলাফিরা, বিয়ে, নবুওয়ত-পূর্বকালের বন্ধু-বান্ধব, কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ ও চুক্তিতে অংশগ্রহণ, আল আমিন উপাধি লাভ, কা’বাগৃহে প্রস্তর স্থাপন, ধীরে ধীরে নির্জন প্রিয়তা, হেরাগুহায় নিঃসঙ্গ অবস্থান, অহি অবতরণ, ইসলামের দাওয়াত দান, প্রচার অভিযান, বিরোধিতা, তায়েফ সফর, মি’রাজ, হিজরত, যুদ্ধ, হুদায়বিয়ার সন্ধি, বিভিন্ন দেশে ইসলামের দাওয়াতনামা প্রেরণ, দ্বীনকে পূর্ণতা প্রদান, বিদায় হজ ও মৃত্যু-এর মধ্যে কোন সময়টি দুনিয়াবাসীর দৃষ্টিসীমার আড়ালে ছিল? তাঁর কোনো অবস্থানটি সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ বেখবর ছিলেন? সত্য-মিথ্যা, ভুল-নির্ভুল, প্রত্যকটি বিষয়ই পৃথক পৃথক লিখিত আছে এবং প্রত্যকেই তা জানতে পারে।
মহানবী (সা.) এর ওঠাবসা, নিদ্রা-জাগরণ, বিয়ে-শাদী, সন্তান-সন্তুতি, বন্ধু-বান্ধব, নামাজ-রোজা, দিবা-রাত্রের ইবাদত, যুদ্ধ-সন্ধি, চলাফেরা, সফর ও অবস্থান, গোসল, আহার-বিহার, হাসি-কান্না, বস্ত্র পরিধান, হাসি-ঠাট্টা, আলাপ-আলোচনা, নির্জনে ও জনসমাজে বিহার, মেলামেশা, আচার-ব্যবহার, দেহের বর্ণ ও গন্ধ, আকৃতি-প্রকৃতি, লম্বা-চওড়া; এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, একত্রে শয়ন ও পবিত্রতা অর্জন প্রভৃতি প্রত্যেকটা বিষয় সম্পূর্ণ প্রকাশিত, সর্বজনবিদিত ও সংরক্ষিত আছে। এখানে আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আচার-ব্যবহার সম্পর্কিত মাত্র একটি প্রাচীনতম কিতাব ‘শামায়েলে তিরমিযী’র বিভিন্ন অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করছি। এ থেকে আন্দাজ করা যায়, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর সম্পর্কিত অতি তুচ্ছ বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা.)-এর চেহারা ও গঠনাকৃতির আলোচনা, কেশ, পাকা কেশ, চুল আঁচড়ানো, চুলে খেজাব লাগানো, চোখে সুরমা লাগানো, পোশাক, জীবনযাপন, মোজা, পাপস, আংটি, মোহর, তলোয়ার, লৌহবর্ম, লৌহশিরস্ত্রাণ, পাগড়ি, পায়জামা, চলা, মুখে কাপড় ঢাকনা, বসা, বিছানা-বালিশ, হেলান দেয়া, আহার করা, রুটি, খাবার গোশত ও তরকারি, অজু করা, আহারের আগে ও পরে দোয়া পাঠ, পেয়ালা, ফল, কী কী পান করতেন, কীভাবে পান করতেন, খোশবু লাগানো, কীভাবে কথা বলতেন, কবিতা পাঠ, রাতে কথাবার্তা, নিদ্রা, ইবাদত, হাসি, রসিকতা, চাশতের নামাজ, গৃহে নফল নামাজ পড়া, রোজা, কুরআন পাঠ, রোনাজারি, বিছানা, নম্রতা, আচার-ব্যবহার, ক্ষৌরকাজ, নামসমূহ, জন্মতারিখ ও বয়স, মৃত্যুর বিষয়, মীরাস ও পরিত্যক্ত বস্তুর আলোচনা। এগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিগত অবস্থার বিবরণ। এর মধ্যে প্রত্যেকটি শিরোনামে কোথাও মাত্র কতিপয় এবং কোথাও বহু ঘটনা বিবৃত হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটি দিক স্বচ্ছ ও দ্ব্যর্থহীন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের কোনো একটি মুহূর্ত পর্দারান্তরালে ছিল না। অন্তঃপুরে তিনি থাকতেন স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের মধ্যে এবং বাইরে আত্মীয়-বান্ধব ও ভক্তদের মজলিসে। দুনিয়ার বিরাট প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিও নিজের ঘরে সাধারণ মানুষই থাকেন। তাই ভল্টেয়ারের কথায় বলা যায়, ‘কোনো ব্যক্তি নিজের ঘরে হিরো হতে পারে না।’ বসওয়ার্থ স্মিথের মতে, ‘এ নীতিটি কমপক্ষে ইসলামের পয়গাম্বরের ক্ষেত্রে সত্য নয়।’
প্রখ্যাত দার্শনিক গীবন বলেছেন, ‘মুহাম্মদের মতো অন্য কোনো পয়গাম্বর তার অনুসারীদের এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করেননি। যারা তাঁকে মানুষ হিসেবে খুব ভালোভাবেই জানতেন, তাদের সম্মুখে তিনি হঠাৎ নিজেকে পয়গাম্বর হিসেবে পেশ করলেন। নিজের স্ত্রী, নিজের গোলাম, নিজের ভাই এবং নিজের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের সম্মুখে নিজেকে পয়গাম্বর হিসেবে পেশ করলেন এবং তারা বিনাদ্বিধায় তার দাবি মেনে নিলেন।’(সংগৃহীত)