0 votes
26 views
in Family Life,Marriage & Divorce by (27 points)
বিয়ের বিষয়ে কুফু কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (19.5k points)
edited by
বিসমিহি তা'আলা

কু'ফু প্রসঙ্গ



কু'ফু কাকে বলে?

এ সম্পর্কে আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহতুল কোয়েতিয়্যাহ নামক কিতাবের ৩৪নং ভলিউমের২৬৬নং পৃষ্টায় উল্লেখ আছে যে,

ففي النكاح: عرفها الحنفية بأنها مساواة مخصوصة بين الرجل والمرأة

কু'ফু বা কাফা'আত হচ্ছে পুরুষ মহিলার মধ্যকার এক বিশেষ ধরণের সমতা বিধান।

তবে সর্বজনগৃহীত কথা হচ্ছে কু'ফু শুধুমাত্র পুরুষের দিক দিয়েই বিবেচ্য। মহিলার দিক দিয়ে বিবেচ্য হবে না। অর্থাৎ-পুরুষের থেকে মহিলা যতই এবং যেদিকেই নিম্নমানের হোক না কেন, এক্ষেত্রে কু'ফু বা সমতা বিধান প্রযোজ্য হবে না।বরং শুধুমাত্র যদি মহিলা থেকে পুরুষ নির্দিষ্ট কয়েক প্রকারে নিম্নশ্রেণীর হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সমতা বিধান প্রযোজ্য হবে।

হেদায়া গ্রন্থকার কু'ফু সম্পর্কে আলোচনা করতে যেয়ে বলেনঃ
فصل في الكفاءة

" الكفاءة في النكاح معتبرة " قال عليه الصلاة والسلام " ألا لا يزوج النساء إلا الأولياء ولا يزوجن إلا من الأكفاء " ولأن انتظام المصالح بين المتكافئين عادة لأن الشريفة تأبى أن تكون مستفرشة للخسيس فلا بد من اعتبارها بخلاف جانبها لأن الزوج مستفرش فلا تغيظه دناءة الفراش " وإذا زوجت المرأة نفسها من غير كفء فللأولياء أن يفرقوا بينهما " دفعا لضرر العار عن أنفسهم
বিবাহে (স্বামী-স্ত্রী এর মধ্যে)সমতা বিধান শরীয়ত কর্তৃক  গ্রহণযোগ্য।

নবীজী সাঃ বলেনঃ

"সাবধান!
ওলী ব্যতীত কাউকে মহিলারা বিবাহ দিবে না।এবং সাবধান!কু'ফু ব্যতীত ও তাদেরকে বিবাহ দেয়া যাবে না।"

কেননা বিবাহের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা দুজন সমপর্যায়ের মানুষ ব্যতীত সাধারণত অসম্ভব।

কেননা সহসাই একজন ভদ্র মহিলা স্বাভাবিকত একজন নিচ প্রকৃতির মানুষের বিছানা বনতে অস্বীকার করবেই।সুতরাং সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবেই।

অন্যদিকে মহিলা নিম্নমানের বা নিচ প্রকৃতির হলে অদ্যো কোনো সমস্যা নেই।যেহেতু স্বামী হচ্ছে বিচানা নির্ধারণকারী, তাই বিছানা নিম্নস্তরের হলে কোনো সমস্যা নেই।

সুতরাং যদি মহিলা নিম্নস্তরের কাউকে বিয়ে করে নেয়,তাহলে অভিভাবকদের জন্য এ অধিকার রয়েছে যে, তারা উভয়জন তথা স্বামী-স্ত্রী র মধ্যে পৃথক করে দিবে।তাদের উপর থেকে অপবাদের উৎসকে দূর করতে।

" ثم الكفاءة تعتبر في النسب " لأنه يقع به التفاخر " فقريش بعضهم أكفاء لبعض والعرب بعضهم أكفاء لبعض " والأصل فيه قوله عليه الصلاة والسلام " قريش بعضهم أكفاء لبعض بطن بيطن والعرب بعضهم أكفاء لبعض قبيلة بقبيلة والموالي بعضهم أكفاء لبعض رجل برجل " ولا يعتبر التفاضل فيما بين قريش لما روينا وعن

 محمد رحمه الله كذلك إلا أن يكون نسبا مشهورا كأهل بيت الخلافة كأنه قال تعظيما للخلافة وتسكينا للفتنة وبنو باهلة ليسوا بأكفاء لعامة العرب لأنهم معروفون بالخساسة.

কাফা'আত বা সমতা বিধান নসব তথা বংশের মধ্যেও গ্রহণযোগ্য। কেননা এদ্বারা গর্ব করা হয়।সুতরাং কোরাইশ বংশের একে অন্যর কু'ফু হবে।এবং আরব বাসীদের একজন অন্যজনের কু'ফু।

এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তর মূল উৎস হচ্ছে নবীজী সাঃ এর ঐ প্রসিদ্ধ হাদীস যেথায় তিনি বলেছেন যে,

"কুরাইশ বংশের একে অন্যর কু'ফু হবে তথা কুরাইশদের মধ্য থেকে এক বতন অন্য বতনের কু'ফু হিসেবে বিবেচিত হবে।আর আরব বাসীদের মধ্যে থেকে একে অন্যর কু'ফু,তথা সমস্ত আরবের মধ্য থেকে এক কবিলা অন্য কবিলার কু'ফু হবে।

আর আরব ব্যতীত অর্থাৎ অনারবের মধ্যে একজন অন্যজনের কু'ফু হিসেবে বিবেচিত হবে।অর্থাৎ আরব ব্যতীত পৃথিবীর সমস্ত মানুষ সমান।  একজন আরেকজনের কু'ফু।
কুরাইশদের মধ্যকার কোনো বিশেষ ফযিলত নেই।বরং সমতার বিধানে প্রায় সবাই সমান।

ইমাম মুহাম্মদ রাহ ও অনুরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন।তবে তিনি মনে করেন যদি কুরাইশদের আহলে বাইত(সরকার পরিচালক) থাকে তাহলে কুরাইশদের অন্যদের উপর তাদের বিশেষ ফযিলত থাকবে।সুতরাং উনার মতে কুরাইশদের অন্যান্যরা আহলে বাইতের কু'ফু হবে না।

ইমাম মুহাম্মদ রাহ খেলাফতকে সম্মান ও ফিৎনা দমন করার স্বার্থেই উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেছিলেন।

আরবের "বনু বাহেলা" গোত্র অন্যান্য আরব বাসীদের কু'ফু হবে না।কেননা তারা নিম্নস্তরের নিকৃষ্টতম কাজের সাথে জড়িত থাকে।
" وأما الموالي فمن كان له أبوان في الإسلام فصاعدا فهو من الأكفاء " يعني لمن له آباء فيه " ومن أسلم بنفسه أو له أب واحد في الإسلام لا يكون كفؤا لمن له أبوان في الإسلام " لأن تمام النسب بالأب والجد وأبو يوسف ألحق الواحد بالمثنى كما هو مذهبه في التعريف " ومن أسلم بنفسه لا يكون كفؤا لمن له أب واحد في الإسلام " لأن التفاخر فيما بين الموالي بالإسلام والكفاءة في الحرية نظيرها في الإسلام في جميع ما ذكرنا لأن الرق أثر الكفر وفيه معنى الذل فيعتبر في حكم الكفاءة.

আর অনারবীদের মধ্যে যাদের দুজন বাবা তথা বাপ-দাদা বা এরচেয়ে অধিক বাবাগণ মুসলাম,সে ঐ ব্যক্তির কু'ফু হবে যার অনেক অনেক বাবগণ মুসলমান।

আর যে ব্যক্তি নিজে মুসলমান, অথবা যার এক বাপ মুসলমান,সে ঐ ব্যক্তির কু'ফু হবে না যার বাপ-দাদা  মুসলমান।কেননা নসব /বংশ পূর্ণ হয় বাবা এবং দাদার মাধ্যমে।

কিন্তু ইমাম আবু ইউসুফ রাহ একের ভিতর দু-কে শামিল রাখেন বা রাখতে চান।অর্থাৎ তিনি শুধু বাবার ইসলামকেই যথেষ্ট মনে করেন।

যেমন কারো পরিচয়ের ক্ষেত্রে তিনি শুধু বাবার নাম উল্লেখকে যথেষ্ট মনে করেন।

আর যে ব্যক্তি শুধু নিজে মুসলমান সে ঐ ব্যক্তির কু'ফু হবে না,যার বাবা মুসলমান।কেননা অনারবদের মধ্যে ইসলাম নিয়ে গর্ববোধ থাকে।

আযাদ বা স্বাধীন হওয়ার বিষয়টা ও ঠিক মুসলমান হওয়ার মত।কেননা গোলামী হচ্ছে কুফুরীর আলামত।এবং তাতে অপমান ও অপদস্থতার অর্থও বিদ্যমান থাকে।

সুতরাং গোলামীকে কু'ফু র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

قال: " وتعتبر أيضا في الدين " أي الديانة وهذا قول أبي حنيفة وأبي يوسف رحمهما الله هو الصحيح لأنه من أعلى المفاخر والمرأة تعير بفسق الزوج فوق ما تعير بضعة نسبه وقال محمد رحمه الله لا تعتبر لأنه من أمور الآخرة فلا تبتنى أحكام الدنيا عليه إلا إذا كان يصفع ويسخر منه أو يخرج إلى الأسواق سكران ويلعب به الصبيان لأنه مستخف به.

ঠিক সেভাবে দ্বীনের(ধর্মীয় বিধি-বিধান পালনে আগ্রহী/অভ্যস্ত) মধ্যেও কাফা'আত গ্রহণযোগ্য।

এটা ইমাম আবু হানিফা রাহ ও ইমাম আবু ইউসুফ রাহ এর অভিমত। এবং এটাই বিশুদ্ধ। কেননা দ্বীনদারী সর্বোচ্ছ গর্বের বিষয়।বংশ নিম্নস্তরের হওয়ার কারণে মহিলা নিজেকে যতটা দোষী  মনে করে, স্বামী ফাসিক হওয়ার কারণে মহিলা তার চেয়ে বেশী নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ইমাম মুহাম্মদ রাহ বলেনঃ দ্বীনদারী কু'ফু  হিসেবে গণ্য হবে না।কেননা তা আখেরাতের বিষয়।সুতরাং আখেরাতের বিষয়ের উপর দুনিয়াবি বিধি-বিধানের বিত্তি স্থাপন করা যাবে না।

তবে যদি স্বামী এমন হয় যে তাকে নিয়ে লোকে হাসাহাসি করে, অথবা সে নিজে মাতাল অবস্থায় বাজারে যায়,অথবা শিশুরা তাকে নিয়ে খেলা করে তাহলে এমতাবস্থায় দ্বীনদারী বিষয়টা কু'ফু হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।কেননা এক্ষেত্রে সে একজন ওজনহীন পাতলা মানুষ হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

قال: " و " تعتبر " في المال وهو أن يكون مالكا للمهر والنفقة " وهذا هو المعتبر في ظاهر الرواية حتى إن من لا يملكهما أو لا يملك أحدهما لا يكون كفؤا لأن المهر بدل البضع فلا بد من إيفائه وبالنفقة قوام الازدواج ودوامه والمراد بالمهر قدر ما تعارفوا تعجيله لأن ما وراءه مؤجل عرفا وعن أبي يوسف رحمه الله أنه اعتبر القدرة على النفقة دون المهر لأنه تجري المساهلة في المهور ويعد المرء قادرا عليه بيسار أبيه فأما الكفاءة في الغنى فمعتبرة في قول أبي حنيفة ومحمد رحمهما الله حتى إن الفائقة في اليسار لا يكافئها القادر على المهر والنفقة لأن الناس يتفاخرون بالغنى ويتعيرون بالفقر وقال أبو يوسف رحمه الله لا يعتبر لأنه لا ثبات له إذ المال غاد ورائح

মালে ও কু'ফু বা কাফা'আত গ্রহণযোগ্য। মাল বা সম্পদ বলতে স্বামী মহর এবং নফকার মালিক হওয়া বুঝাবে।এটা বিশুদ্ধ মতানুযানী গ্রহণযোগ্য। এমনকি যদি কেউ এ দুটির কোনোটির মালিক না থাকে বা যে কোনো একটির মালিক থাকে, তাহলে সে ঐ মহিলার কু'ফু হিসেবে গণ্য হবে না যে মহিলা একবারে নিঃস্ব।

একজন নিঃস্ব মহিলার বিপরীতে কোনো একজন পুরুষের উপরোক্ত দুটির মালিক হওয়া এজন্য জরুরী যে,মহর হচ্ছে বুজা তথা লজ্জাস্থানের বিপরীত, সুতরাং তা পরিশোধ করা নিতান্তই জরুরী। আর নফকার(খোরাকি) মাধ্যমে পারিবারিক জীবনের ভিত্তি ও স্থিতি নির্ণীত হয়ে থাকে।(উপরে বর্ণিত) মহর দ্বারা ঐ পরিমাণই উদ্দেশ্য যা উপস্থিত দিয়ে দেয়া হবে।

ইমাম আবু ইউসুফ রাহ থেকে বর্ণিত আছে যে,উনি স্বামীকে শুধুমাত্র নফকার উপর সামর্থবান হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেন।মহরের উপর সামর্থবান হওয়া উনার দৃষ্টিতে জরুরী নয়।কেননা মহরের মধ্যে অনেক সময় শীতিলতা প্রদর্শিত হয়ে থাকে।এবং অনেক সময় মানুষকে তার পিতার ধনদৌলতের ধরুণ ধনী মনে করা হয়ে থাকে।

(এ হল নিঃস্ব মহিলা আলোচনা-যে, তার সমান পুরুষ কে হতে পারবে)

এখন যদি মহিলা অটাল সম্পদ প্রাচুর্যের মালিক থাকে তাহলে কি এক্ষেত্রে কু'ফু প্রযোজ্য হবে?

(তথা ঐ পরিমাণ সম্পদ কি পুরুষের ও হতে হবে?)

ইমাম আবু-হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতে তা গ্রহণযোগ্য।তারা বলেনঃ এমনকি অটাল ধনদৌলতের মালিক কোনো মহিলার কু'ফু ঐ পুরুষ হবে না যে শুধুমাত্র মহর এবং নফকার মালিক।

কেননা মানুষ ধনদৌলত নিয়ে গর্ববোধ করে এবং দারিদ্র্যতাকে নিয়ে অস্বস্তিবোধ করে ও নিজেকে দুর্বল ভাবে।
ইমাম আবু ইউসুফ রাহ বলেনঃ ধনদৌলতে কাফা'আত গ্রহণযোগ্য নয়,কেননা ধনদৌলতের কোনোপ্রকার স্থায়িত্ব নেই।সম্পদ সকাল আসে আবার বিকাল চলে যায়।

" و " تعتبر " في الصنائع " وهذا عند أبي يوسف ومحمد رحمهما الله وعن أبي حنيفة في ذلك روايتان وعن أبي يوسف أنه لا تعتبر إلا أن تفحش كالحجام والحائك والدباغ وجه الاعتبار أن الناس يتفاخرون بشرف الحرف ويتعيرون بدناءتها وجه القول الآخر أن الحرفة ليست بلازمة ويمكن التحول عن الخسيسة إلى النفيسة منها.

পেশায় কাফা'আত গ্রহণযোগ্য।এবং এটা ইমাম আবু-ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতে।ইমাম আবু হানিফা থেকে এ ব্যপারে দু-ধরণের মতামত পাওয়া যায়।

এবং ইমাম আবু ইউসুফ থেকে ভিন্ন এক বর্ণনায় জানা যায় যে,পেশায় কাফা'আত গ্রহণযোগ্য নয়।তবে যদি পেশা  নিম্নশ্রেণীর থাকে তাহলে গ্রহণযোগ্য। যেমনঃ- শিংগা লাগানে ওয়ালা,নাপিত,চামড়ায় লবন দেনে ওয়ালা।

পেশায় নিম্নশ্রেণীর হওয়ার কারণ হল যে,মানুষ উচ্ছ মানের পেশাকে নিয়ে গর্ববোধ করে অন্যদিকে নিম্নশ্রেণীর পেশাকে নিয়ে ইতস্ত করে নিজেকে দুর্বল ভাবে।পেশা কু'ফু হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এজন্য যে,পেশা চিরস্থায়ী নয় বরং নিম্নশ্রেণী থেকে উচ্ছ শ্রেণীর দিকে অগ্রসর হওয়া হরহামেশাই সম্ভব।

হেদায়া-নিকাহ অধ্যায়।
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

442 questions

435 answers

56 comments

282 users

11 Online Users
0 Member 11 Guest
Today Visits : 2201
Yesterday Visits : 4602
Total Visits : 664376

Related questions

...