0 votes
28 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম মুহতারাম
১.জন্মের কত দিন এর মধ্যে নাম রাখতে হবে বা এ রকম কোনো ধরা বাধা সময় কি আছে নাম রাখার ক্ষেত্রে?
২. সুন্নাহ মোতাবেক বাচ্চার আকিকার সময় কি কি  কাজ করা উচিত বিস্তারিত জানতে চাইছি ।

1 Answer

0 votes
by (82,360 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শিশুর সুন্দর নাম রাখতে হবে।
সুন্দর নাম রাখার  গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, হাশরের ময়দানে- সেখানে পূর্বাপর সকল মানুষ একত্রিত হবে এবং ব্যক্তিকে তার নাম ও তার বাবার নামসহ ডাকা হবে।

হযরত আবুদ দারদা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ.
কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে- অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখ। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৪৮

★জন্মের ৭ম দিন বাচ্চার নাম রাখা উচিত।
বিনা কারনে দেড়ি করা উচিত নয়।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِتَسْمِيَةِ الْمَوْلُودِ يَوْمَ سَابِعِهِ وَوَضْعِ الأَذَى عَنْهُ وَالْعَقِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

আমর ইবনু শু'আইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে, মাথা মুণ্ডন করতে এবং আকীকা করতে আদেশ করেছেন।

(তিরমিজি ২৮৩২,ইরওয়াহ (৪/৩৯৯-৪০০),)
,

ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ   
یستحب لمن وُلد لہ ولد أن یُسمّیہ یوم أسبوعہ الخ (شامی)
সপ্তম দিনের মাথায় শিশুর নাম রাখা মুস্তাহাব

আগে-পরে হলেও কোনো ক্ষতি নেই। জন্মের আগেও নাম নির্ধারণে বাধা নেই। তবে বিনা কারনে সাত দিন থেকে দেড়ি করা ঠিক নয়।

(০২)

শিশুর জন্মের ৭ম দিনে আকীকা করা সুন্নাত।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى 
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আক্বীকাহর বিনিময়ে বন্ধক থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে আক্বীকাহ করতে হয়, মাথার চুল ফেলতে হয় এবং নাম রাখতে হয়।
(আবু দাউদ ২৮৩৮)
,
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَا حَدَّثَنَا يَزِيدُ وَهُوَ ابْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ أَنْبَأَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ غُلَامٍ رَهِينٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُسَمَّى
আমর ইবন আলী ও মুহাম্মাদ ইবন আবদুল-আ'লা (রহঃ) ... সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, প্রত্যেক সন্তান স্বীয় আকীকার সাথে আবদ্ধ। তার পক্ষ হতে তা তার জন্মের সপ্তম দিনে যবেহ করতে হবে। সেদিন তার মাথা মুণ্ডন করতে হবে এবং তার নাম রাখতে হবে।
(ইবনে মাজাহ ৩১৬৫,নাসায়ী ৪২২১)

আকিকা করা একটি সুন্নত। সপ্তম দিন আকিকা করা আরেকটি সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘সপ্তম দিন রাসুল (সা.) হাসান (রা.) ও হোসাইন (রা.)-এর আকিকা দিয়েছেন এবং তাঁদের নাম রেখেছেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৩১১)

★কোনো কারণে সপ্তম দিন আকিকা করা সম্ভব না হলে পরে সুবিধামতো সময়ে আকিকা করা যাবে। একটি ছাগল জবাই করার দ্বারা আকিকার সুন্নত আদায় হয়ে যায়। তবে ছেলেশিশু হলে দুটি ছাগল জবাই করা উত্তম। আকিকার গোশত কোরবানির গোশতের মতো সবাই খেতে পারে। (শরহুল মুহাজ্জাব : ৮/৪৩০)

ছেলে হোক মেয়ে হোক, একটি করে ছাগল দ্বারা আকিকা করা সুন্নত।তবে
ছেলের জন্য দুইটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা এবং মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করা মুস্তাহাব।

আকীকা সংক্রান্ত আরো জানুনঃ 

আকীকার গোশতের বিধান কুরবানীর গোশতের মতোই।

আকীকার গোশত পিতা-মাতা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন ধনী-গরীব নির্বিশেষে সকলেই খেতে পারবে। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, (আকীকার গোশত) নিজে খাবে, অন্যদের খাওয়াবে এবং সদকা করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৩৩৮)

★জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ বা ২১ তম দিনে করা ভালো। কেননা হাদীস শরীফে এই তিন দিনের উল্লেখ আছে। এ তিন দিনেও করা না হলে পরে যে কোনো দিন আকীকা করা যেতে পারে। 

ইমাম নববী রহ. বলেন,
وَالسُّنَّةُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ فِي الْيَوْمِ السَّابِعِ فَإِنْ قَدَّمَهُ عَلَى الْيَوْمِ السَّابِعِ أَوْ أَخَّرَهُ أَجْزَأَهُ
সুন্নত হল, সপ্তম দিনে হওয়া। যদি সপ্তম দিনের আগে কিংবা পরে করে তাহলেও যথেষ্ট হবে। (আল মাজমু’ ৮/৪২৭)

★আকীকার কোনো নির্দিষ্ট দোয়া হাদীস শরীফে উল্লেখ নেই।
বাংলায় দোয়া করলে বলবে,বা অন্তর এই ভাবে নিয়ত করবে,  যে এটি অমুকের আকীকা উদ্দেশ্যে জবাই করা হচ্ছে।
হে আল্লাহ আপনি এটাকে কবুল করুন।
তার পর বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলে জবাই করবে।
তবে কিছু উলামায়ে  কেরামগন  এই দোয়া বলেছেনঃ

ছেলের ক্ষেত্রেঃ
اللھم ھذہ عقیقۃ ابنی
(এখানে ছেলের নাম … ) 
دمھا بدمہ وعظمھا بعظمہ وجلد ھا بجلدہ وشعرھا بشعرہ 
اللھم اجعلھا فداء لابنی

মেয়ের ক্ষেত্রে 
اللھم ھذہ عقیقۃ بنتی 
(এখানে মেয়ের নাম উল্লেখ করবে) 
دمھا بدمھا وعظمھا بعظمھا وجلدھا بجلدھا و شعرھا بشعرھا اللھم اجعلھا فداء لبنتی

নাজমুল ফাতওয়া ৪/১২২)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...