0 votes
15 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (5 points)
আমার এক বান্ধুবি এটা জানতে চেয়েছে,

স্বামী মুখে তালাক বলে নি। আর স্বামী স্ত্রী কেউ মন থেকেও তালাক চায় নি। দুই পরিবার জোর করে ডিভোর্স পেপারে সাইন করিয়েছে। তালাক কি হয়েছে?

এভাবে ১ মাস ১০দিন হয়ে গেছে,  হাসবেন্ড তার স্ত্রী কে নিয়ে যেতে চায়,  মেয়েও যেতে চায় কিন্তু মেয়ের পরিবার দিতে চায় না। এক্ষেত্রে করনীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (34,560 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

তালাক এমন বিষয় যা ইচ্ছেকৃত দিলেও হয়, অনিচ্ছায় দিলেও হয়। দুষ্টুমী করে দিলেও হয় রেগে দিলেও হয়, লিখিত ভাবে দিলেও হয়,মৌখিক ভাবে দিলেও হয়। তালাক এমনি ভয়াভহ শব্দ।

রাসূল সাঃ হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তিনি বিষয় এমন যে, ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল, তালাক, বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪}

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছেঃ  

رَجُلٌ اسْتَكْتَبَ مِنْ رَجُلٍ آخَرَ إلَى امْرَأَتِهِ كِتَابًا بِطَلَاقِهَا وَقَرَأَهُ عَلَى الزَّوْجِ فَأَخَذَهُ وَطَوَاهُ وَخَتَمَ وَكَتَبَ فِي عُنْوَانِهِ وَبَعَثَ بِهِ إلَى امْرَأَتِهِ فَأَتَاهَا الْكِتَابُ وَأَقَرَّ الزَّوْجُ أَنَّهُ كِتَابُهُ فَإِنَّ الطَّلَاقَ يَقَعُ عَلَيْهَا(الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى الطلاق بالكتابة-1/379، رد المحتار، كتاب الطلاق، مطلب فى الطلاق بالكتابة-4/456، المحيط البرهانى، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-4/486، تاتارخانية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-3/380)

যার সারমর্ম হলো কেহ যদি কাহারো দ্বারা তালাক লিখে নিজ স্ত্রীর কাছে পত্র পাঠায়,,,,,
তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে।       

★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে।
এখন যদি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকে,তাহলে রজয়ি তালাক হলে অর্থাৎ ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে নিতে চাইলে তাকে মৌখিক বা কাজের মাধ্যমে ফিরিয়ে নিলেই ফিরিয়ে নিতে পারবে।
আর যদি ইদ্দতকাল অতিবাহিত হয়ে যায়,তাহলে তাকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে তাকে বিবাহ করতে হবে।
আর যদি প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে  স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়,তাহলে তিন তালাক পতিত হয়ে যাবে। 

তখন  স্ত্রী তিন তালাকপ্রাপ্তা হবার কারনে স্বামী থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এখন ইদ্দত শেষে স্ত্রীর যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়। 
আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ

আর তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয পর্যন্ত। (সূরা বাকারা-২২৮)
দ্বিতীয় স্বামীর সাথে ঘর সংসার করা অবস্থায় কোন কারণে তালাকপ্রাপ্তা হয়, তাহলে ইদ্দত শেষে ১ম স্বামী আবার উক্ত মেয়েলোককে বিবাহ করতে পারবেন। এছাড়া আর কোন গত্যান্তর নেই।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠] 

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে, তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়, তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কতৃꦣ2453; নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। {সূরা বাকারা-২৩০}

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...