0 votes
23 views
in সালাত(Prayer) by (23 points)
edited by
১। যদি সুরা ফাতিহা পড়ার সময় আমার ফাতিহার কোন আয়াতে উচ্চারন মনমতো না হয় ( মনে হয় ভুল হয়েছে )  তাহলে কি আয়াত টা আবার পড়া যাবে?

২। যদি আমার মনে সন্দেহ হয়, কিন্তু আমি নিশ্চিত না যে আমার লাহনে জলি  ( অর্থ পরিবর্তন ) হয়েছে কিনা, তাহলে কি আবার পড়ব, নাকি সামনে চলে যাব ?
৩। যদি ফাতিহা শেষে বিসমিল্লাহ বলার পরে আমার মনে হয় যে আমার ফাতিহার শেষ আয়াতটাতে আমি ঠিক মত উচ্চারণ করি নি, কি করব?

৪। যদি তাশাহুদ পড়ার সময় আমার মনে হয় যে একটা অংশ উচ্চারণে ভুল হয়েছে, আমি কি ওই অংশ আবার পড়ব? যেমন আশহাদু আল্লাহ পড়ার পর মনে হলো, হয়তো ভুল হয়েছে, তাহলে কি আবার আশহাদু থেকে পড়া যাবে?

৫। নামাজের মাঝে আমার ( বসা অবস্থায় )  যদি মনে হয় দুই পায়ের মাঝে কোন একটা ময়লা আছে, আমক যদি এখাত দিয়ে ওই ময়লাটা সরানোর চেষ্টা করি, ও কিছুক্ষনের জন্য নড়ি, আমার নামাজ কি ভেংগে যাবে?

৬। আমি ঠিক করেচিলাম যে কখনো কোন ভিডিওতে হাত আসলেই সেটা এড়িয়ে যাবো।আমি ইউটিউব এ গিয়েচিলাম।একটা পর্যায়ে মনে হলো হয়তো একটা  ভিডিওতে হয়তো হাত এসেছে,কিন্তু আমি পুরোপুরি দেখতে ভালোবাবে তাকালাম।যদিও আমি জানি না সেটা পুরুষের হাত নাকি মহিলার।এই পুরুষ মহিলার ব্যপারটা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্যই এই সিদ্বান্ত নিয়েছিলাম,হাত মনে হলেই আর তাকাবো না।কিন্তু নিজের সিদ্বান্ত নিজে ডিঙিয়ে আমি পুরোপুরি হাত দেখতে চেষ্টা করি।এতে কি গুনাহ হবে?কেননা আমি তো সেইফ থাকার জন্য একটা সিদ্বান্ত নিয়েছলাম,যেটা নিজে মানিনি।

৭। মাঝে মাঝে বাবা মায়ের রুমে প্রবেশ করতে অনুমতি নিতে বুলে যাই,এতে কি গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (34,560 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১) সুরা ফাতিহার কোন আয়াতে উচ্চারন মনমতো না হলে,পুনরায় উচ্চারন করবেনা।
যদি নিশ্চিত হয় যে ভুল হয়েছে,তাহলে আবার পড়বে।
,
(০২) লাহনে জলি হওয়া নিয়ে সন্দেহ হলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবেনা।    

لمافی الاشباہ والنظائر (ص۵۶):القاعدة الثالثة: اليقين لا 
يزول بالشك:
নিশ্চিত ধারনা সন্দেহ পোষনের দ্বারা বিলুপ্ত হয়না।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি লাহনে জলি  হওয়ার ব্যপারে নিশ্চিত না হোন, স্রেফ সন্দেহ হয়,তাহলে মনে করবেন যে এটা নিঃসন্দেহে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ।
আপনার নামাজ হয়ে গিয়েছে। 

আর ওয়াসওয়াসার নেপথ্যে থাকে শয়তান। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে– ঈমানদারদেরকে কষ্ট দেয়া এবং যে নামায মুমিনের অন্তরের শীতলতা সে নামাযকে মুমিনের জন্য পেরশানির ‘কারণ’ বানিয়ে দেয়া। 

এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি বেশি আল্লাহ্র যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্ পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
আপনি সন্দেহকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ করবেন না। 

লাহনে জলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ

(০৩)
তাহলেও আপনি ঐ আয়াত আর পড়বেননা।
,
নামাজে সুরা ফাতেহার কোনো আয়াত আবার পড়া নিয়ে বিস্তারিত জানুনঃ
,
(০৪)
যদি সেটা নামাজের শেষ বৈঠকে হয়, তাহলে তাশাহুদের কিছু অংশ কেনো, পুরাটা পড়লেও কোনো সমস্যা নেই। 
,
আর যদি প্রথম বৈঠকে হয়,তাহলে اتحيات لله والصلوات والطيبات  বা এই এই পরিমান আবার পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 
সুতরাং শুধু ভুল হয়েছে মনে করে প্রথম বৈঠকে আবার পড়া যাবেনা।   

المحيط البرهاني في الفقه النعماني (1/ 505):
"إذا كرر التشهد في القعدة الأولى فعليه سجود السهو، وإن كررها في القعدة الثانية فلا".
البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري (2/ 105):
যার সারমর্ম হলো প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ আবার পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে,,,,,।       

"لو كرر التشهد في القعدة الأولى فعليه السهو؛ لتأخير القيام، وكذا لو صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فيها؛ لتأخيره، واختلفوا في قدره، والأصح وجوبه بـ "اللّهم صلّ على محمّد" وإن لم يقل: "وعلى آله"، وذكر في البدائع: أنه يجب عليه السجود عنده، وعندهما لايجب؛ لأنه لو وجب لوجب لجبر النقصان ولايعقل نقصان في الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم،  وأبو حنيفة -رحمه الله-، يقول: لايجب عليه بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، بل بتأخير الفرض وهو القيام، إلا أن التأخير حصل بالصلاة فيجب عليه من حيث أنها تأخير، لا من حيث أنها صلاة على النبي صلى الله عليه وسلم اهـ.
وقد حكي في المناقب أن أبا حنيفة رأى النبي صلى الله عليه وسلم في المنام، فقال له: كيف أوجبت على من صلّى علي سجود السهو؟ فأجابه بكونه صلّى عليك ساهيًا، فاستحسنه منه، ولو كرّر التشهد في القعدة الأخيرة فلا سهو عليه"
যার সারমর্ম হলো প্রথম বৈঠকে একাজ করলে এই জন্য সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে, কারন হলো এক্ষেত্রে দাড়ানোর ক্ষেত্রে দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।,,,,    

(০৫)
এটা যদি আমলে কাছির হয়,তাহলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।
 
'আ'মলে কাছির' বলা হয়,এরূপ নড়াচড়া-কে যে, নড়াচড়ায় কর্মরতকে মুসাল্লি সম্পর্কে নামাযের বাহির থেকে অবলোকনকারীর নিশ্চিত ধারণা জন্মে যে,সে এখন আর নামাযে নেই। এ ধরনের কাজ দ্বারা তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

আমলে কাছির সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ
,
(০৬)
অনিচ্ছায় একবার নজত গেলে কোনো সমস্যা নেই। 
তবে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় একবার নজর যাওয়ার পর সাথে যদি না ফিরিয়ে নেন,তাহলে গুনাহ হবে।

কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
إِنَّ السَّمْعَ وَالبَصَرَ وَالفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا.
...নিশ্চয় কান, চোখ, হৃদয় এর প্রতিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সূরা বনী ইসরাঈল (১৭) : ৩৬

আলী রা.-কে নবীজী বলেছেন,
يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ، فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ.
হে আলী! (হঠাৎ) দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার পর আবার দ্বিতীয়বার তাকিয়ো না। কারণ, (হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত পড়ে যাওয়া) প্রথম দৃষ্টি তোমাকে ক্ষমা করা হবে, কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে না। জামে তিরমিযী, হাদীস ২৭৭৭

(০৭) অনুমতি না নিলেও আপাতত গলা খাঁকারি দিয়ে হলেও আপনার আসার বিষয় জানান দিতে হবে।
যদি শরয়ী নিষিদ্ধ সময়, ঘুমের সময়,একান্ত সময় ব্যাতিত অন্য সময়ে যদি আপনি গিয়ে থাকেন,তাহলে তাদের যদি পর্দার কোনো সমস্যা না হয়,তাহলে গুনাহ হবেনা।
তবে শরীয়তের বিধান পালন করতঃ গলা খাঁকারি দিয়ে হলেও আপনাকে জানান দিতে হবে।
   
বাবা মার কক্ষে যাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানুনঃ



(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...