0 votes
12 views
in সালাত(Prayer) by (19 points)
১। যদি নামাজের সময় আমার মনে সন্দেহ থাকে যে ওজু যেটা করেছিলাম, সেটা হয়েছিল কিনা আমি নিশ্চিত নই, তাও আমি নামাজ টা যদি শেষ করি এবং নামাজ শেষে যদি আমার মনে হয় যে ওজু সম্ভবত হয়নি, তাহলে কি নামাজটা আবার পড়তে হবে?

২। একটি মসজিদের ঠিক সামমেই একটি বড় কবর, কবর আর মসজিদের দেয়ালে কোন ফাকা নেই। কবরের উপরে ছাতা ধরনের দেয়া ( সম্ভবত ছায়ার জন্য )। কবরের উপর একবার ফুলের তোড়াও দেখেছিলাম। এই মসজিদে নামাজ পড়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (33,800 points)
জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো কেহ যদি অযু করার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়,তার অনেক পরে অযু হয়নি,বা অযু চলে গেলে বলে সন্দেহে পড়ে,তাহলে ধরা হবে যে সে অযুর উপরেই আছে।
(আল আশবাহ অন নাজায়ের)

لمافی الاشباہ والنظائر (ص۵۶):القاعدة الثالثة: اليقين لا 
يزول بالشك:
নিশ্চিত ধারনা সন্দেহ পোষনের দ্বারা বিলুপ্ত হয়না।  
.
আর যদি আপনি অযু না হওয়ার ব্যপারে পুরোপুরি  নিশ্চিত হোন তাহলে পুনরায় অযু করে নামাজ আদায় করে নিবেন।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি অযু না হওয়ার ব্যপারে নিশ্চিত না হোন, স্রেফ সন্দেহ হয়,তাহলে মনে করবেন যে এটা নিঃসন্দেহে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ।
আপনার নামাজ হয়ে গিয়েছে। 

আর ওয়াসওয়াসার নেপথ্যে থাকে শয়তান। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে– ঈমানদারদেরকে কষ্ট দেয়া এবং যে নামায মুমিনের অন্তরের শীতলতা সে নামাযকে মুমিনের জন্য পেরশানির ‘কারণ’ বানিয়ে দেয়া। 

এর সর্বোত্তম প্রতিকার হচ্ছে– বেশি বেশি আল্লাহ্র যিকির করা, لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ পড়া, আউযুবিল্লাহ্ পড়া তথা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
 আপনি সন্দেহকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ করবেন না। 

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ رَدَّ اَمْرَهُ عَلَى الْوَسْوَسَة
‘সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর যিনি শয়তানের বিষয়টি কুমন্ত্রণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’ (নাসাঈ )

মনে রাখবেন, যদি আপনি শয়তানসৃষ্ট সন্দেহের এ বাতিককে উপেক্ষা করতে পারেন তাহলে আপনি সেটাই করেছেন, যা করার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে অভিযোগ করলেন যে, তার কাছে মনে হয় যে, সে নামাযের মধ্যে কিছু একটা পাচ্ছে। তখন তিনি বললেন, 
لاَ يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا ، أَوْ يَجِدَ رِيحًا 
সে যেন শব্দ শুনা কিংবা গন্ধ পাওয়া ছাড়া নামায না ছাড়ে। (সহিহ বুখারী ১৩৭ সহিহ মুসলিম ৩৬১)
.


(০২)
শরীয়তের বিধান মতে কবরস্থানে বা কবরকে সামনে রেখে নামায পড়া নিষেধ।  

হাদীস শরীফে এসেছে   
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: ” نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُصَلَّى فِي سَبْعِ مَوَاطِنَ: فِي الْمَزْبَلَةِ، وَالْمَجْزَرَةِ، وَالْمَقْبَرَةِ، وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ، وَالْحَمَّامِ، وَمَعَاطِنِ الْإِبِلِ، وَفَوْقَ الْكَعْبَةِ ” (سنن ابن ماجه، رقم الحديث-746، سنن الترمذى، رقم الحديث-346)
যার সারমর্ম হলো কবরস্থানে নামাজ পড়া হতে রাসুল সাঃ নিষেধ করেছেন।   

মসজিদের দেয়াল থাকা অবস্থায় দেয়ালের বাহিরে কবর থাকলেও উক্ত মসজিদে বা উক্ত জায়গায় নামায পড়তে কোন সমস্যা নেই। 
জায়েজ আছে।
,
قَالَ مُحَمَّدٌ – رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: أَكْرَهُ أَنْ تَكُونَ قِبْلَةُ الْمَسْجِدِ إلَى الْمَخْرَجِ وَالْحَمَّامِ وَالْقَبْرِ،……. وَهَذَا كُلُّهُ إذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنَ الْمُصَلِّي وَبَيْنَ هَذِهِ الْمَوَاضِعِ حَائِطٌ أَوْ سُتْرَةٌ، أَمَّا إذَا كَانَ لَا يُكْرَهُ وَيَصِيرُ الْحَائِطُ فَاصِلًا، وَإِذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنَ الْمُصَلِّي وَبَيْنَ هَذِهِ الْمَوَاضِعِ سُتْرَةٌ فَإِنَّمَا يُكْرَهُ اسْتِقْبَالُ هَذِهِ الْمَوَاضِعِ فِي مَسْجِدِ الْجَمَاعَاتِ، فَأَمَّا فِي مَسْجِدِ الْبُيُوتِ فَلَا يُكْرَهُ، كَذَا فِي الْمُحِيطِ. (الفتاوى الهندية،كتاب الكراهية، الْبَاب الْخَامِس فِي آدَاب الْمَسْجِد وَالْقِبْلَة وَالْمُصْحَف وَمَا كَتَبَ فِيهِ شَيْء مِنْ الْقُرْآن -5/319
যার সারমর্ম হলো যদি নামাজী আর কবরের মাঝে দেওয়াল থাকে,তাহলে নামাজ পড়তে কোনো সমস্যা নেই। 
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত মসজিদে নামাজ পড়তে কোনো সমস্যা নেই।         


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...