0 votes
25 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (28 points)
আসসালামু আলাইকুম।

১) সন্তান ঘুমিয়ে আছে এমন সময় মা যদি তাকে সাথে করে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ডাকেন আর সে অতিরিক্ত ঘুমের কারণে উঠছি বলে আবার ঘুমিয়ে পড়ে এবং অনেকক্ষন পর ঘুম থেকে উঠে তার মার সাথে বাহিরে যায় তাহলে কি তার গোনাহ হবে?

২) যে মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারেনা বা কত বলতে ইতস্তত বোধ করে সে যদি তা এই সমস্যার কারনে সালাম দিতে ইতস্তত বোধ করবে তার বিধান কি এবং তার এই সমস্যা দূর করার জন্য কি করা যেতে পারে?

৩) কাউকে কি মুক্তাদির, জব্বার ও আজিজ নামে ডাকা যাবে?

1 Answer

0 votes
by (59,920 points)
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১) 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مُرَّ عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بِمَعْنَى عُثْمَانَ، قَالَ: أَوَ مَا تَذْكُرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ، عَنِ الْمَجْنُونِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ حَتَّى يَفِيقَ، وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَخَلَّى عَنْهَا 

ইবনে আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর পাশ দিয়ে যাওয়া ... অতঃপর উসমান ইবনু অবূ শাইরাহ বর্ণিত হাদীসের সমার্থবোধক হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, আপনার কি মনে নেই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের উপর থেকে কলম তুলে রাখা হয়েছেঃ 
(১) নির্বোধ পাগল, যতক্ষণ না সুস্থ হয়,
 (২) নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়
 এবং (৩) নাবালেগ শিশু, যতক্ষণ না প্রাপ্তবয়স্ক হয়। 
একথা শুনে উমার (রাঃ) বলেন, আপনি সত্যিই বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি দন্ডিতাকে ছেড়ে দিলেন।
(আবু দাউদ ৪৪০১)
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যদি তার পুরোপুরি ঘুম না ভাঙ্গে,তাহলে এ দেড়ি করারনো দ্বারা কোনো গুনাহ হবেনা।
তবে সন্তানের যদি ঘুম পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়,মায়ের কাজটিও যদি খুব প্রয়োজনীয় হয়,এক্ষেত্রে মা সেই বিষয়টি তাকে বুঝাইবে,বুঝানোর পরেও যদি সে আলসেমি করে না উঠে,তাহলে এটি তার জন্য অপরাধ হবে।
 সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে এটি তার জন্য গুনাহ হবে।       

(০২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,  السَّلَامُ قَبْلَ الْكَلَامِ  সবধরণের কথার আগে সালামের ব্যবহার হবে। (তিরমিযি ২৬৯৯)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,  لا تأذنوا لمن لا يبدأ بالسلام যে ব্যক্তি সালাম দিয়ে কথা শুরু করে না, তোমরা তাকে কথা বলার অনুমতি দিয়ো না। (মুসনাদ আবু ইয়া’লা ১৮০৯)

وَعَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:الْبَادِئُ بِالسَّلَامِ بَرِىْءٌ مِنَ الْكِبْرِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْشُعَبِ الْإِيْمَانِ

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রথমে সালাম প্রদানকারী অহংকার হতে মুক্ত। [ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি ‘‘শু‘আবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেছেন।
(শু‘আবুল ঈমান ৮৭৮৬, মিশকাত ৪৬৬৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২৩৬৫।) 

এ জন্য ইমাম নববী রহ. বলেন,
السنة أن المسلم يبدأ بالسلام قبل كل كلام
সুন্নত হল, মুসলিম সবধরণের কথার আগে সালাম দিয়ে শুরু করবে। (আল আযকার ৩৬২)
,
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যাক্তির এই সমস্যা দূর করার জন্য 
  উচিত হলো সকলকে আগে থেকেই বেশি বেশি সালাম দেওয়া।


(০৩)
আল্লাহ তা'আলার ঐ সমস্ত আসমায়ে হুসনা(সুন্দর সিফাতি নাম সমূহ) যা আল্লাহ তা'আলার সত্বাগত(জাতি)নাম সমূহের মধ্য থেকে একটি।
অথবা যে আসমায়ে হুসনা শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার সিফাতে মাখছুছ(বিশেষত সিফাত) অর্থে ব্যবহৃত হয়।সেই আসমায়ে হুসনা সমূহকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ব্যবহার করা জায়েয হবে না।

যেমনঃ
اللّٰه ،الرحمن ،القدوس ،الجبار،المتكبر،الخالق،البارئ،
المصور،الرزاق ،الغفار،القهار ،التواب،الوهاب،الخلاق،
الفتاح،القيوم ،الرب،المحيط ،المليك،الغفور، الأحد ،الصمد،الحق،القادر،المحي،

উচ্ছারণঃ আল্লাহ,রাহমান,কুদ্দুস,জাব্বার,মুতাকাব্বির,খালিক্ব,বারী,মুসাওয়ির,রাজ্জাক, গাফ্ফার,ক্বাহ্হার,তাওয়্যাব,ওয়াহ্হাব,খাল্লাক্ব,ফাত্তাহ,কাইয়্যুম,রাব্ব,মুহিত্ব,মালী...ক,গাফুর,আহাদ,সামাদ,হাক্ব,ক্বাদির,মুহয়ী।

আরো জানুন

আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। এর যে কোনো একটির শুরুতে ‘আব্দ’ শব্দটি যোগ করে নাম রাখা যেতে পারে। 
হাদীস শরীফে আছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رِوَايَةً، قَالَ: لِلهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ اسْمًا، مِائَةٌ إِلَّا وَاحِدًا، لاَ يَحْفَظُهَا أَحَدٌ إِلَّا دَخَلَ الجَنَّةَ، وَهُوَ وتْرٌ يُحِبُّ الوتْرَ

হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। এক কম একশ। যে ব্যক্তি তা মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। আল্লাহ তাআলা একক-অদ্বিতীয় (বেজোড়), তাঁর কোনো শরীক (জোড়) নেই। তিনি বেজোড় ভালোবাসেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৪১০

পবিত্র কুরআনে সংখ্যা উল্লেখ করা ছাড়াই আসমায়ে হুসনার আলোচনা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

وَ لِلهِ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی فَادْعُوْهُ بِهَا  وَ ذَرُوا الَّذِیْنَ یُلْحِدُوْنَ فِیْۤ اَسْمَآىِٕهٖ سَیُجْزَوْنَ مَا كَانُوْا یَعْمَلُوْن.

আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। তোমরা এগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ডাক এবং যারা তাঁর নামের মাঝে বক্রতা সৃষ্টি করে তাদেরকে পরিত্যাগ কর। তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেয়া হবে। -সূরা আ‘রাফ (৭) : ১৮০

সেই হিসেবে মুক্তাদির রহমান,বা মুক্তাদির ইসলাম,আব্দুল জব্বার,আব্দুল আজিজ বলে নাম রাখা যাবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...