হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيْرَ أَعْمَالِكُمْ الصَّلَاةُ وَلَا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ اِلَّا مُؤْمِنٌ.
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (হে মু’মিনগণ!) তোমরা দীনের উপর যথাযথভাবে অটল থাকবে। অবশ্য তোমরা সকল (কাজ) যথাযথভাবে করতে পারবে না, তবে মনে রাখবে তোমাদের সকল কাজের মধ্যে সলাতই হচ্ছে সর্বোত্তম। আর উযূ (ওযু/ওজু/অজু)-র সব নিয়ম-কানুনের প্রতি মু’মিন ব্যতীত অন্য কেউ লক্ষ্য রাখে না।
(সহীহ : আহমাদ ২১৮৭৩, ইবনু মাজাহ্ ২৭৭, দারিমী ৬৫৫, মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৬।)
ফাতওয়ার কিতাবে এসেছেঃ
في مجموع الفتاوى: دَلَّ الشَّرْعُ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ أَفْضَلُ مِنْ الْقِرَاءَةِ، وَالْقِرَاءَةَ أَفْضَلُ مِنْ الذِّكْرِ، وَالذِّكْرَ أَفْضَلُ مِنْ الدُّعَاءِ فَهَذَا أَمْرٌ مُطْلَقٌ، وَقَدْ تَحْرُمُ الصَّلَاةُ فِي أَوْقَاتٍ فَتَكُونُ الْقِرَاءَةُ أَفْضَلَ مِنْهَا فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ، وَالتَّسْبِيحُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ هُوَ الْمَأْمُورُ بِهِ وَالْقِرَاءَةُ مَنْهِيٌّ عَنْهَا، وَنَظَائِرُ هَذَا كَثِيرَةٌ
সারমর্মঃ
নামাজ আদায় করা এটি কুরআন তিলাওয়াত হতে উত্তম।
কুরআন তিলাওয়াত এটি যিকির হতে উত্তম,যিকর দোয়া হতে উত্তম।
★তবে কিছু ইসলামী স্কলারগন বলেছেন যে এটা লোকদের অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হবে।
আর সেটার আন্দাযা আল্লাহ তায়ালাই করবেন।
কেননা সব কিছু তারই আয়ত্ত্বে।
★মাশওয়ারা মানে পরামর্শ।
সকলের থেকে পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া/কোনো কাজ করা।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
فبما رحمة من الله لنت لهم و لو كنت فظا غليظ القلب لانفضوا من حولك فاعف عنهم و
استغفرلهم و شاورهم فى الامر فاذا عزمت فتوكل على الله ان الله يحب المتوكلين-
অর্থঃ আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন। এবং কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন তখন আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন।
আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালো বাসেন। যদি আল্লাহ তোমাদের সহায়তা করেন, তাহলে কেউ তোমাদের উপর পরাক্রান্ত হতে পারবেনা। আর যদি তিনি সাহায্য না করেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদের সাহায়্য করতে পারে? আর আল্লাহর উপরই মুসলমানগণের ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান-১৫৯-১৬০)
অন্য আয়াতে এরশাদ করেন,
و امرهم شورى بينهم
অর্থ:- এবং তারা পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে। (সূরা আশ-শুরা ৩৮)
হযরত সুলাইমান আ. যখন রাণী বিলক্বীসকে চিঠি দিয়েছিলেন, তখন সে পরিষদবর্গদের সাথে পরামর্শ করেছিল। হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা এই পরামর্শের কারণে তাকে হেফাজত করেছিলেন এবং হেদায়েত দিয়েছিলেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قالت يايها الملؤ افتونى فى امرى ما كنت قاطعة امرا حتى تشهدون قالوا نحن اولوا قوة و
اولوا بأس شديد و الامر اليك فانظرى ماذا تأ مرين-
অর্থঃ- সেই নারী বলল, হে পরিষদবর্গ! আমার সমস্যায় তোদের অভিমত দাও। আমি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনা তোমাদের পরামর্শ ব্যতীত।
তারা বলল, আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই, কী আদেশ করবেন তাহা আপরি ভেবে দেখুন। সুরা নামল. ৩২-৩৩
★মাশওয়ারার ফজিলতঃ-
আল্লাহর হুকুম ও নবীর সুন্নাত জিন্দা হয়।
বরকত হয়।
ক্ষতি থেকে হেফাজত হয়।
মতবিরোধ সৃষ্টি হয়না,পরস্পরে কলহ বিবাদ হয়না।
বেইজ্জত হতে হয়না।
আল্লাহর রহম হয়।
জোড়-মিল ও মহব্বত হয়।আল্লাহর রহমত থাকে, আল্লাহ তায়ালার ফায়সালাকৃত আযাব উঠিয়ে নেন ও লজ্জিত হতে হয়না।